রৌদ্রতাপ ঝাঁঝাঁ করে জনহীন বেলা দুপহরে। শূন্য চৌকির পানে চাহি, সেথায় সান্ত্বনালেশ নাহি। বুক ভরা তার হতাশের ভাষা যেন করে হাহাকার। শূন্যতার বাণী ওঠে করুণায় ভরা, মর্ম তার নাহি যায় ধরা। কুকুর মনিবহারা যেমন করুণ চোখে চায় অবুঝ মনের ব্যথা করে হায় হায়; কী হল যে, কেন হল, কিছু নাহি বোঝে-- দিনরাত ব্যর্থ চোখে চারি দিকে খোঁজে। চৌকির ভাষা যেন আরো বেশি করুণ কাতর, শূন্যতার মূক ব্যথা ব্যাপ্ত করে প্রিয়হীন ঘর।
দিন সে প্রাচীন অতি প্রবীণ বিষয়ী তীক্ষ্ণদৃষ্টি, বস্তুরাজ্যজয়ী, দিকে দিকে প্রসারিয়া গনিছে সম্বল আপনার। নবীনা শ্যামলা সন্ধ্যা পরেছে জ্যোতির অলংকার চিরনববধূ, অন্তরে সলজ্জ মধু অদৃশ্য ফুলের কুঞ্জে রেখেছে নিভৃতে। অবগুণ্ঠনের অলক্ষিতে তার দূর পরিচয় শেষ নাহি হয়। দিনশেষে দেখা দেয় সে আমার বিদেশিনী-- তারে চিনি তবু নাহি চিনি।