আমি এ পথের ধারে একা রই-- যেতে যেতে যাহা-কিছু ফেলে রেখে গেছ মোর দ্বারে মূল্য তার হোক-না যতই তাহে মোর দেনা পরিশোধ কখনো হবে না। দেব ব'লে যাহা কভু দেওয়া নাহি যায়, চেয়ে যাহা কেহ নাহি পায়, যে ধনের ভাণ্ডারের চাবি আছে অন্তর্যামী কোন্ গুপ্ত দেবতার কাছে কেহ নাহি জানে-- আগন্তুক, অকস্মাৎ সে দুর্লভ দানে ভরিল তোমার হাত অন্যমনে পথে যাতায়াতে। পড়ে ছিল গাছের তলাতে দৈবাৎ বাতাসে ফল, ক্ষুধার সম্বল। অযাচিত সে সুযোগে খুশি হয়ে একটুকু হেসো; তার বেশি দিতে যদি এসো, তবে জেনো মূল্য নেই মূল্য তার নেই। দূরে যাও, ভুলে যাও ভালো সেও-- তাহারে কোরো না হেয় দানস্বীকারের ছলে দাতার উদ্দেশে কিছু রেখে ধূলিতলে।
কাঠবিড়ালির ছানাদুটি আঁচলতলায় ঢাকা, পায় সে কোমল করুণ হাতে পরশ সুধামাখা। এই দেখাটি দেখে এলেম ক্ষণকালের মাঝে, সেই থেকে আজ আমার মনে সুরের মতো বাজে। চাঁপাগাছের আড়াল থেকে একলা সাঁঝের তারা একটুখানি ক্ষীণ মাধুরী জাগায় যেমনধারা, তরল কলধ্বনি যেমন বাজে জলের পাকে গ্রামের ধারে বিজন ঘাটে ছোটো নদীর বাঁকে, লেবুর ডালে খুশি যেমন প্রথম জেগে ওঠে একটু যখন গন্ধ নিয়ে একটি কুঁড়ি ফোটে, দুপুর বেলায় পাখি যেমন-- দেখতে না পাই যাকে-- ঘন ছায়ায় সমস্ত দিন মৃদুল সুরে ডাকে, তেমনিতরো ওই ছবিটির মধুরসের কণা ক্ষণকালের তরে আমায় করেছে আনমনা। দুঃখসুখের বোঝা নিয়ে চলি আপন মনে, তখন জীবন-পথের ধারে গোপন কোণে কোণে হঠাৎ দেখি চিরাভ্যাসের অন্তরালের কাছে লক্ষ্মীদেবীর মালার থেকে ছিন্ন পড়ে আছে ধূলির সঙ্গে মিলিয়ে গিয়ে টুকরো রতন কত-- আজকে আমার এই দেখাটি দেখি তারির মতো।