লিখি কিছু সাধ্য কী! যে দশা এ অভাগার লিখিতে সে বাধ্য কি। মশা-বুড়ি মরেছিল চাপড়ের যুদ্ধে সে-- পরলোকগত তার আত্মার উদ্দেশে আমারি লেখার ঘরে আজি তার শ্রাদ্ধ কি! যেখানে যে কেহ ছিল আত্মীয় পরিজন অভিজাতবংশীয় কেহ, কেহ হরিজন-- আমারি চরণজাত তাহাদের খাদ্য কি! বাঁশি নেই, কাঁসি নেই, নাহি দেয় হাঁক সে, পিঠেতে কাঁপাতে থাকে এক-জোড়া পাখ সে-- দেখিতে যেমনি হোক তুচ্ছ সে বাদ্য কি। আশ্রয় নিতে চাই মেলে যদি ড়বনরঢ়নক্ষ, এক ফোঁটা বাকি নেই নেবুঘাস-তেলটার-- মশারি দিনের বেলা কভু আচ্ছাদ্য কি! গাল তারে মিছে দিই অতি অশ্রাব্য, হাতে পিঠ চাপড়াব সেটা যে অভাব্য-- এ কাজে লাগাব শেষে চটি-জোড়া পাদ্য কি। পুজোর বাজারে আজি যদি লেখা না জোটাই, দুটো লাইনেরো মতো কলমটা না ছোটাই-- সম্পাদকের সাথে রবে সৌহার্দ্য কি।
মোর গান এরা সব শৈবালের দল, যেথায় জন্মেছে সেথা আপনারে করে নি অচল। মূল নাই, ফুল আছে, শুধু পাতা আছে, আলোর আনন্দ নিয়ে জলের তরঙ্গে এরা নাচে। বাসা নাই, নাইকো সঞ্চয়, অজানা অতিথি এরা কবে আসে নাইকো নিশ্চয়। যেদিন-শ্রাবণ নামে দুর্নিবার মেঘে, দুই কূল ডোবে স্রোতোবেগে, আমার শৈবালদল উদ্দাম চঞ্চল, বন্যার ধারায় পথ যে হারায় দেশে দেশে দিকে দিকে যায় ভেসে ভেসে।