শেষের অবগাহন সাঙ্গ করো কবি, প্রদোষের নির্মলতিমিরতলে। ভৃতি তব সেবার শ্রমের সংসার যা দিয়েছিল আঁকড়িয়া রাখিয়ো না বুকে; এক প্রহরের মূল্য আরেক প্রহরে ফিরে নিতে কুণ্ঠা কভু নাহি তার; বাহির-দ্বারের যে দক্ষিণা অন্তরে নিয়ো না টেনে; এ মুদ্রার স্বর্ণলেপটুকু দিনে দিনে হাতে হাতে ক্ষয় হয়ে লুপ্ত হয়ে যাবে, উঠিবে কলঙ্কলেখা ফুটি। ফল যদি ফলায়েছ বনে, মাটিতে ফেলিয়া তার হোক অবসান। সাঙ্গ হল ফুল ফোটাবার ঋতু, সেই সঙ্গে সাঙ্গ হয়ে যাক লোকমুখবচনের নিশ্বাসপবনে দোল খাওয়া। পুরস্কারপ্রত্যাশায় পিছু ফিরে বাড়ায়ো না হাত যেতে যেতে; জীবনে যা-কিছু তব সত্য ছিল দান মূল্য চেয়ে অপমান করিয়ো না তারে; এ জনমে শেষ ত্যাগ হোক তব ভিক্ষাঝুলি, নববসন্তের আগমনে অরণ্যের শেষ শুষ্ক পত্রগুচ্ছ যথা। যার লাগি আশাপথ চেয়ে আছ সে নহে সম্মান, সে যে নবজীবনের অরুণের আহ্বান-ইঙ্গিত, নবজাগ্রতের ভালে প্রভাতের জ্যোতির তিলক।
প্রত্যুষে দেখিনু আজ নির্মল আলোকে নিখিলের শান্তি-অভিষেক, তরুগুলি নম্রশিরে ধরণীর নমস্কার করিল প্রচার। যে শান্তি বিশ্বের মর্মে ধ্রুব প্রতিষ্ঠিত, রক্ষা করিয়াছে তারে যুগ-যুগান্তের যত আঘাতে সংঘাতে। বিক্ষুব্ধ এ মর্তভূমে নিজের জানায় আবির্ভাব দিবসের আরম্ভে ও শেষে। তারি পত্র পেয়েছ তো কবি, মাঙ্গলিক। সে যদি অমান্য করে বিদ্রূপের বাহক সাজিয়া বিকৃতির সভাসদ্রূপে চিরনৈরাশ্যের দূত, ভাঙা যন্ত্রে বেসুর ঝংকারে ব্যঙ্গ করে এ বিশ্বের শাশ্বত সত্যেরে, তবে তার কোন্ আবশ্যক। শস্যক্ষেত্রে কাঁটাগাছ এসে অপমান করে কেন মানুষের অন্নের ক্ষুধারে। রুগ্ন যদি রোগেরে চরম সত্য বলে, তাহা নিয়ে স্পর্ধা করা লজ্জা বলে জানি-- তার চেয়ে বিনা বাক্যে আত্মহত্যা ভালো। মানুষের কবিত্বই হবে শেষে কলঙ্কভাজন অসংস্কৃত যদৃচ্ছের পথে চলি। মুখশ্রীর করিবে কি প্রতিবাদ মুখোশের নির্লজ্জ নকলে।