কালের প্রবল আবর্তে প্রতিহত ফেনপুঞ্জের মতো, আলোকে আঁধারে রঞ্জিত এই মায়া, অদেহ ধরিল কায়া। সত্তা আমার,জানি না, সে কোথা হতে হল উত্থিত নিত্যধাবিত স্রোতে। সহসা অভাবনীয় অদৃশ্য এক আরম্ভ-মাঝে কেন্দ্র রচিল স্বীয়। বিশ্বসত্তা মাঝখানে দিল উঁকি, এ কৌতুকের পশ্চাতে আছে জানি না কে কৌতুকী। ক্ষণিকারে নিয়ে অসীমের এই খেলা, নববিকাশের সাথে গেঁথে দেয় শেষ-বিনাশের হেলা, আলোকে কালের মৃদঙ্গ উঠে বেজে, গোপনে ক্ষণিকা দেখা দিতে আসে মুখ-ঢাকা বধূ সেজে, গলায় পরিয়া হার বুদ্বুদ্ মণিকার। সৃষ্টির মাঝে আসন করে সে লাভ, অনন্ত তারে অন্তসীমায় জানায় অবির্ভাব।
অন্ধকারের সিন্ধুতীরে একলাটি ঐ মেয়ে আলোর নৌকা ভাসিয়ে দিল আকাশপানে চেয়ে। মা যে তাহার স্বর্গে গেছে এই কথা সে জানে, ঐ প্রদীপের খেয়া বেয়ে আসবে ঘরের পানে। পৃথিবীতে অসংখ্য লোক, অগণ্য তার পথ, তারই মধ্যে স্বর্গ থেকে ছোট্ট ঘরের কোণ যায় কি দেখা যেথায় থাকে দুটিতে ভাইবোন। মা কি তাদের খুঁজে খুঁজে বেড়ায় অন্ধকারে, তারায় তারায় পথ হারিয়ে যায় শূন্যের পারে। মেয়ের হাতের একটি আলো জ্বালিয়ে দিল রেখে, সেই আলো মা নেবে চিনে অসীম দূরের থেকে। ঘুমের মধ্যে আসবে ওদের চুমো খাবার তরে রাতে রাতে মা-হারা সেই বিছানাটির 'পরে।