আমার সকল অঙ্গে তোমার পরশ লগ্ন হয়ে রহিয়াছে রজনী-দিবস প্রাণেশ্বর, এই কথা নিত্য মনে আনি রাখিব পবিত্র করি মোর তনুখানি। মনে তুমি বিরাজিছ, হে পরম জ্ঞান, এই কথা সদা স্মরি মোর সর্বধ্যান সর্বচিন্তা হতে আমি সর্বচেষ্টা করি সর্বমিথ্যা রাখি দিব দূরে পরিহরি। হৃদয়ে রয়েছে তব অচল আসন এই কথা মনে রেখে করিব শাসন সকল কুটিল দ্বেষ, সর্ব অমঙ্গল-- প্রেমেরে রাখিব করি প্রস্ফুট নির্মল। সর্ব কর্মে তব শক্তি এই জেনে সার করিব সকল কর্মে তোমারে প্রচার।
গানের সাজি এনেছি আজি, ঢাকাটি তার লও গো খুলে-- দেখো তো চেয়ে কী আছে। যে থাকে মনে স্বপন-বনে ছায়ার দেশে ভাবের কূলে সে বুঝি কিছু দিয়াছে। কী যে সে তাহা আমি কি জানি, ভাষায়-চাপা কোন্ সে বাণী সুরের ফুলে গন্ধখানি ছন্দে বাঁধি গিয়াছে-- সে ফুল বুঝি হয়েছে পুঁজি, দেখো তো চেয়ে কী আছে। দেখো তো, সখী দিয়েছে ও কি সুখের কাঁদা, দুখের হাসি, দুরাশাভরা চাহনি। দিয়েছে কি না ভোরের বীণা, দিয়েছে কি সে রাতের বাঁশি গহন-গান-গাহনি। বিপুল ব্যথা ফাগুন-বেলা, সোহাগ কভু, কভু বা হেলা, আপন মনে আগুন-খেলা পরানমন-দাহনি-- দেখো তো ডালা, সে স্মৃতি-ঢালা আছে আকুল চাহনি? ডেকেছ কবে মধুর রবে, মিটালে কবে প্রাণের ক্ষুধা তোমার করপরশে, সহসা এসে করুণ হেসে কখন চোখে ঢালিলে সুধা ক্ষণিক তব দরশে-- বাসনা জাগে নিভৃতে চিতে সে-সব দান ফিরায়ে দিতে আমার দিনশেষের গীতে-- সফল তারে করো-সে। গানের সাজি খোলো গো আজি করুণ করপরশে। রসে বিলীন সে-সব দিন ভরেছে আজি বরণডালা চরম তব বরণে! সুরের ডোরে গাঁথনি করে রচিয়া মম বিরহমালা রাখিয়া যাব চরণে। একদা তব মনে না রবে, স্বপনে এরা মিলাবে কবে, তাহারি আগে মরুক তবে অমৃতময় মরণে ফাগুনে তোরে বরণ করে সকল শেষ বরণে।