আজি কোন্ ধন হতে বিশ্বে আমারে কোন্ জনে করে বঞ্চিত-- তব চরণ-কমল-রতন-রেণুকা অন্তরে আছে সঞ্চিত ॥ কত নিঠুর কঠোর দরশে ঘরষে মর্মমাঝারে শল্য বরষে, তবু প্রাণ মন পীযূষপরশে পলে পলে পুলকাঞ্চিত ॥ আজি কিসের পিপাসা মিটিল না ওগো পরম পরানবল্লভ! চিতে চিরসুধা করে সঞ্চার তব সকরুণ করপল্লব। নাথ, যার যাহা আছে তার তাই থাক, আমি থাকি চিরলাঞ্ছিত-- শুধু তুমি এ জীবনে নয়নে নয়নে থাকো থাকো চিরবাঞ্ছিত ॥
আসা-যাওয়ার পথের ধারে গান গেয়ে মোর কেটেছে দিন। যাবার বেলায় দেব কারে বুকের কাছে বাজল যে বীন॥ সুরগুলি তার নানা ভাগে রেখে যাব পুষ্পরাগে, মীড়গুলি তার মেঘের রেখায় স্বর্ণলেখায় করব বিলীন॥ কিছু বা সে মিলনমালায় যুগলগলায় রইবে গাঁথা, কিছু বা সে ভিজিয়ে দেবে দুই চাহনির চোখের পাতা। কিছু বা কোন্ চৈত্রমাসে বকুল-ঢাকা বনের ঘাসে মনের কথার টুকরো আমার কুড়িয়ে পাবে কোন উদাসীন॥