সার্থক জনম আমার জন্মেছি এই দেশে। সার্থক জনম, মা গো, তোমায় ভালোবেসে ॥ জানি নে তোর ধনরতন আছে কি না রানীর মতন, শুধু জানি আমার অঙ্গ জুড়ায় তোমার ছায়ায় এসে ॥ কোন্ বনেতে জানি নে ফুল গন্ধে এমন করে আকুল, কোন্ গগনে ওঠে রে চাঁদ এমন হাসি হেসে। আঁখি মেলে তোমার আলো প্রথম আমার চোখ জুড়ালো, ওই আলোতেই নয়ন রেখে মুদব নয়ন শেষে ॥
বারে বারে পেয়েছি যে তারে চেনায় চেনায় অচেনারে ॥ যারে দেখা গেল তারি মাঝে না-দেখারই কোন্ বাঁশি বাজে, যে আছে বুকের কাছে কাছে চলেছি তাহারি অভিসারে ॥ অপরূপ সে যে রূপে রূপে কী খেলা খেলিছে চুপে চুপে। কানে কানে কথা উঠে পূরে কোন্ সুদূরের সুরে সুরে চোখে-চোখে-চাওয়া নিয়ে চলে কোন্ অজানারই পথপারে ॥
তোরা বসে গাঁথিস মালা, তারা গলায় পরে। কখন যে শুকায়ে যায়, ফেলে দেয় রে অনাদরে॥ তোরা সুধা করিস দান, তারা শুধু করে পান, সুধায় অরুচি হলে ফিরেও তো নাহি চায় -- হৃদয়ের পাত্রখানি ভেঙে দিয়ে চলে যায়!! তোরা কেবল হাসি দিবি, তারা কেবল বসে আছে -- চোখের জল দেখিলে তারা আর তো রবে না কাছে। প্রাণের ব্যথা প্রাণে রেখে প্রাণের আগুন প্রাণে ঢেকে পরান ভেঙে মধু দিবি অশ্রুছাঁকা হাসি হেসে -- বুক ফেটে, কথা না বলে শুকায়ে পড়িবি শেষে॥