বাণী
Stories
ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি হয়ে আকাশের মেঘ নামে, মাটির কাছে ধরা দেবে ব'লে। তেমনি কোথা থেকে মেয়েরা আসে পৃথিবীতে বাঁধা পড়তে।
তাদের জন্য অল্প জায়গার জগৎ, অল্প মানুষের। ঐটুকুর মধ্যে আপনার সবটাকে ধরানো চাই-- আপনার সব কথা, সব ব্যথা, সব ভাবনা। তাই তাদের মাথায় কাপড়, হাতে কাঁকন, আঙিনায় বেড়া। মেয়েরা হল সীমাস্বর্গের ইন্দ্রাণী।
আরো দেখুন
অপরিচিতা
Stories
আজ আমার বয়স সাতাশ মাত্র। এ জীবনটা না দৈর্ঘ্যের হিসাবে বড়ো, না গুণের হিসাবে। তবু ইহার একটু বিশেষ মূল্য আছে। ইহা সেই ফুলের মতো যাহার বুকের উপরে ভ্রমর আসিয়া বসিয়াছিল, এবং সেই পদক্ষেপের ইতিহাস তাহার জীবনের মাঝখানে ফলের মতো গুটি ধরিয়া উঠিয়াছে।
সেই ইতিহাসটুকু আকারে ছোটো, তাহাকে ছোটো করিয়াই লিখিব। ছোটোকে যাঁহারা সামান্য বলিয়া ভুল করেন না তাঁহারা ইহার রস বুঝিবেন।
আরো দেখুন
প্রাণমন
Stories
আমার জানলার সামনে রাঙা মাটির রাস্তা।
ওখান দিয়ে বোঝাই নিয়ে গোরুর গাড়ি চলে; সাঁওতাল মেয়ে খড়ের আঁটি মাথায় করে হাটে যায়, সন্ধ্যাবেলায় কলহাস্যে ঘরে ফেরে।
আরো দেখুন
আমি মিছে ঘুরি এ জগতে
Songs
মিছে ঘুরি এ জগতে কিসের পাকে,
মনের বাসনা যত মনেই থাকে।
বুঝিয়াছি এ নিখিলে, চাহিলে কিছু না মিলে,
এরা, চাহিলে আপন মন গোপনে রাখে।
এত লোক আছে কেহ কাছে না ডাকে।
আরো দেখুন
উৎসর্গ
Verses
গত বৎসরকার বসন্তের ফুল লইয়া এ বৎসরকার
বসন্তে মালা গাঁথিলাম।
যাঁহার নয়ন-কিরণে প্রতিদিন প্রভাতে এই ফুলগুলি
একটি একটি করিয়া ফুটিয়া উঠিত,
তাঁহারি চরণে ইহাদিগকে উৎসর্গ করিলাম।
আরো দেখুন
শেষের রাত্রি
Stories
'মাসি !'
'ঘুমোও,যতীন,রাত হল যে ।'
আরো দেখুন
খাতা
Stories
লিখিতে শিখিয়া অবধি উমা বিষম উপদ্রব আরম্ভ করিয়াছে। বাড়ির প্রত্যেক ঘরের দেয়ালে কয়লা দিয়া বাঁকা লাইন কাটিয়া বড়ো বড়ো কাঁচা অক্ষরে কেবলই লিখিতেছে--জল পড়ে, পাতা নড়ে।
তাহার বউঠাকুরানীর বালিশের নিচে 'হরিদাসের গুপ্তকথা' ছিল, সেটা সন্ধান করিয়া বাহির করিয়া তাহার পাতায় পাতায় পেনসিল দিয়া লিখিয়াছে--কালো জল, লাল ফুল।
আরো দেখুন
ভাইদ্বিতীয়া
Verses
সকলের শেষ ভাই
             সাত ভাই চম্পার
পথ চেয়ে বসেছিল
             দৈবানুকম্পার।
মনে মনে বিধি-সনে
             করেছিল মন্ত্রণ,
যেন ভাইদ্বিতীয়ার
             পায় সে নিমন্ত্রণ।
          যদি জোটে দরদি
      ছোটো-দি বা বড়ো-দি
অথবা মধুরা কেউ
             নাতনির র৻াঙ্কে,
          উঠিবে আনন্দিয়া,
      দেহ প্রাণ মন দিয়া
ভাগ্যেরে বন্দিবে
             সাধুবাদে থ্যাঙ্কে।
          এল তিথি দ্বিতীয়া,
      ভাই গেল জিতিয়া
ধরিল পারুল দিদি
           হাতা বেড়ি খুন্তি।
          নিরামিষে আমিষে
      রেঁধে গেল ঘামি সে,
ঝুড়ি ভ'রে জমা হল
             ভোজ্য অগুন্তি।
          বড়ো থালা কাংসের
      মৎস্য ও মাংসের
কানায় কানায় বোঝা
             হয়ে গেল পূর্ণ।
          সুঘ্রাণ পোলায়ে
      প্রাণ দিল দোলায়ে,
লোভের প্রবল স্রোতে
             লেগে গেল ঘুর্ণো।
          জমে গেল জনতা,
      মহা তার ঘনতা
ভাই-ভাগ্যের সবে
             হতে চায় অংশী।
          নিদারুণ সংশয়
      মনটারে দংশয়--
বহুভাগে দেয় পাছে
             মোর ভাগ ধ্বংসি।
          চোখ রেখে ঘণ্টে
      অতি মিঠে কণ্ঠে
কেহ বলে, "দিদি মোর!"
             কেহ বলে, "বোন গো,
          দেশেতে না থাক্‌ যশ,
      কলমে না থাক্‌ রস,
রসনা তো রস বোঝে,
             করিয়ো স্মরণ গো।"
          দিদিটির হাস্য
      করিল যা ভাষ্য
পক্ষপাতের তাহে
             দেখা দিল লক্ষণ।
          ভয় হল মিথ্যে,
      আশা হল চিত্তে,
নির্ভাবনায় ব'সে
             করিলাম ভক্ষণ।
          লিখেছিনু কবিতা
      সুরে তালে শোভিতা--
এই দেশ সেরা দেশ
              বাঁচতে ও মরতে।
          ভেবেছিনু তখুনি,
      একি মিছে বকুনি।
আজ তার মর্মটা
             পেরেছি যে ধরতে।
          যদি জন্মান্তরে
      এ দেশেই টান ধরে
ভাইরূপে আর বার
             আনে যেন দৈব--
          হাঁড়ি হাঁড়ি রন্ধন,
      ঘষাঘষি চন্দন,
ভগ্নী হবার দায়
             নৈবচ নৈব।
          আসি যদি ভাই হয়ে
      যা রয়েছি তাই হয়ে
সোরগোল পড়ে যাবে
             হুলু আর শঙ্খে--
          জুটে যাবে বুড়িরা
      পিসি মাসি খুড়িরা,
ধুতি আর সন্দেশ
             দেবে লোকজনকে।
          বোনটার ধ'রে চুল
      টেনে তার দেব দুল,
খেলার পুতুল তার
             পায়ে দেব দলিয়া।
          শোক তার কে থামায়,
      চুমো দেবে মা আমায়,
রাক্ষুসি বলে তার
             কান দেবে মলিয়া।
          বড়ো হলে নেব তার
      পদখানি দেবতার,
দাদা নাম বলতেই
             আঁখি হবে সিক্ত।
          ভাইটি অমূল্য,
      নাই তার তুল্য,
সংসারে বোনটি
             নেহাত অতিরিক্ত।
আরো দেখুন
প্রথম শোক
Stories
বনের ছায়াতে যে পথটি ছিল সে আজ ঘাসে ঢাকা।
সেই নির্জনে হঠাৎ পিছন থেকে কে বলে উঠল, 'আমাকে চিনতে পার না?'
আরো দেখুন