অপর পক্ষ
Verses
সময় একটুও নেই।
            লাল মখমলের জুতোটা গেল কোথায়;
                     বেরোল খাটের নীচে থেকে।
গলার বোতাম লাগাতে লাগাতে গেছি চৌকাঠ পর্যন্ত,
                   হঠাৎ এলেন বাবা।
              আলাপ শুরু করলেন ধীরে সুস্থে;
      খবর পেয়েছেন দুজন পাত্রের, মিনির জন্যে।
তাঁর মনটা একবার এর দিকে ঝুঁকছে একবার ওর দিকে।
           ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছি আর উঠছি ঘেমে
                রাস্তায় বেরোলেম;
           হাওড়ায় গাড়ি আসতে বারো মিনিট।
      বুকের মধ্যে রক্তবেগ মন্দগতি সময়কে মারছে ঠেলা।
                 ট্যাক্সি ছুটল বে-আইনি চালে।
           হ্যারিসন রোড, চিৎপুর রোড,
                         হাওড়া ব্রিজ, ন মিনিট বাকি।
  দুর্ভাগ্য আর গোরুর গাড়ি আসে যখন
                 আসে ভিড় করে।
      রাস্তাটা পিণ্ডি পাকিয়ে গেছে পাট-বোঝাই গাড়িতে।
              হাঁক ডাক আর ধাক্কা লাগালে কনিস্টেবল;
            নিরেট আপদ ফাঁক দেয় না কোথাও।
                  নেমে পড়লুম ট্যাক্সি ছেড়ে,
                      হন্‌হনিয়ে চললুম পায়ে হেঁটে।
            পৌঁছলুম হাওড়া স্টেশনে।
কী জানি কব্জিঘড়িটা ফাস্ট্‌ হয় যদি পনেরো মিনিট।
            কী জানি, আজ থেকে টাইম্‌টেবিলের
                    সময় যদি পিছিয়ে থাকে।
                 ঢুকে পড়লুম ভিতরে।
                     দাঁড়িয়ে আছে একটা খালি ট্রেন --
      যেন আদিকালের প্রকাণ্ড সরীসৃপটার কঙ্কাল,
            যেন একঘেয়ে অর্থের গ্রন্থিতে বাঁধা
                       অমরকোষের একটা লম্বা শব্দাবলী।
নির্বোধের মতো এলেম উঁকি মেরে মেয়ে-গাড়িগুলোতে।
                       ডাকলেম নাম ধরে,
            "কী জানি' ছাড়া আর-কোনো কারণ নেই
                          সেই পাগলামির।
                 ভগ্ন আশা শূন্য প্লাট্‌ফরম্‌ জুড়ে ভূলুণ্ঠিত।
                       বেরিয়ে এলুম বাইরে--
                 জানি নে যাই কোন্‌ দিকে।
      বাসের নীচে চাপা পড়ি নি নিতান্ত দৈবক্রমে।
              এই দয়াটুকুর জন্যে ইচ্ছে নেই
                    দেবতাকে কৃতজ্ঞতা জানাতে।
আরো দেখুন
12
Verses
AT YOUTH'S coronation, Kalidasa,
You took your seat, your beloved by your side,
in Love's primal paradise.
Earth spread its emerald-green carpet beneath your feet,
the sky held over your heads
its canopy gold-embroidered;
the seasons danced round you
carrying their wine cups of varied allurements,
the whole universe yielded itself to your loneliness of delight,
leaving no trace of human sorrows and sufferings
in the immense solitude of your bridal chamber.
Suddenly God's curse descended from on high
hurling its thunderbolt of separation
upon the boundless detachment of youth's egotism.
The seasons' ministry in a moment was ended
When the veil was wrenched from love's isolation,
and on the tear-misted sky appeared the pageantry
of the rainy world of June
across which journeyed the sad notes of your bereaved heart
towards a distant dream.
আরো দেখুন
প্রশ্ন
Stories
শ্মাশান হতে বাপ ফিরে এল।
তখন সাত বছরের ছেলেটি-- গা খোলা, গলায় সোনার তাবিজ--একলা গলির উপরকার জানলার ধারে।
আরো দেখুন
Freedom
Verses
FREEDOM FROM fear is the freedom I claim for you, my Motherland!-fear, the phantom demon, shaped by your own distorted dreams;
Freedom from the burden of ages, bending your head, breaking your back, blinding your eyes to the beckoning call of the future;
Freedom from shackles of slumber wherewith you fasten yourself to night's stillness, mistrusting the star that speaks of truth's adventurous path;
Freedom from the anarchy of destiny, whose sails are weakly yielded to blind uncertain winds, and the helm to a hand ever rigid and cold as Death;
Freedom from the insult of dwelling in a puppet's world, where movements are started through brainless wires, repeated through mindless habits; where figures wait with patient obedience for a master of show to be stirred into a moment's mimicry of life.
আরো দেখুন
লক্ষ্যশূন্য
Verses
রথীরে কহিল গৃহী উৎকণ্ঠায় ঊর্ধ্বস্বরে ডাকি,
"থামো থামো, কোথা তুমি রুদ্রবেগে রথ যাও হাঁকি,
সম্মুখে আমার গৃহ।' রথী কহে, "ওই মোর পথ,
ঘুরে গেলে দেরি হবে, বাধা ভেঙে সিধা যাবে রথ।'
গৃহী কহে, "নিদারুণ ত্বরা দেখে মোর ডর লাগে,
কোথা যেতে হবে বলো।' রথী কহে, "যেতে হবে আগে।'
"কোন্‌খানে' শুধাইল। রথী বলে, "কোনোখানে নহে ,--
শুধু আগে।' "কোন্‌ তীর্থে, কোন্‌ সে মন্দিরে' গৃহী কহে।
"কোথাও না, শুধু আগে।' "কোন্‌ বন্ধু-সাথে হবে দেখা।'
"কারো সাথে নহে, যাব সব-আগে আমি মাত্র একা।'
ঘর্ঘরিত রথবেগে গৃহভিত্তি করি দিল গ্রাস;
হাহাকারে, অভিশাপে, ধূলিজালে ক্ষুভিল বাতাস
সন্ধ্যার আকাশে। আঁধারের দীপ্ত সিংহদ্বার-বাগে
রক্তবর্ণ অস্তপথে ছোটে রথ লক্ষ্যশূন্য আগে।
আরো দেখুন
মীনু
Stories
মীনু পশ্চিমে মানুষ হয়েছে। ছেলেবেলায় ইঁদারার ধারে তুঁতের গাছে লুকিয়ে ফল পাড়তে যেত; আর অড়রখেতে যে বুড়ো মালী ঘাস নিড়োত তার সঙ্গে ওর ছিল ভাব।
বড়ো হয়ে জৌনপুরে হল ওর বিয়ে। একটি ছেলে হয়ে মারা গেল, তার পরে ডাক্তার বললে, 'এও বাঁচে কি না-বাঁচে।'
আরো দেখুন
দানপ্রতিদান
Stories
বড়োগিন্নি যে কথাগুলা বলিয়া গেলেন, তাহার ধার যেমন তাহার বিষও তেমনি। যে-হতভাগিনীর উপর প্রয়োগ করিয়া গেলেন, তাহার চিত্তপুত্তলি একেবারে জ্বলিয়া জ্বলিয়া লুটিতে লাগিল।
বিশেষত, কথাগুলা তাহার স্বামীর উপর লক্ষ্য করিয়া বলা-- এবং স্বামী রাধামুকুন্দ তখন রাত্রের আহার সমাপন করিয়া অনতিদূরে বসিয়া তাম্বুলের সহিত তাম্রকূটধূম সংযোগ করিয়া খাদ্যপরিপাকে প্রবৃত্ত ছিলেন। কথাগুলো শ্রুতিপথে প্রবেশ করিয়া তাঁহার পরিপাকের যে বিশেষ ব্যাঘাত করিল, এমন বোধ হইল না। অবিচলিত গাম্ভীর্যের সহিত তাম্রকূট নিঃশেষ করিয়া অভ্যাসমত যথাকালে শয়ন করিতে গেলেন।
আরো দেখুন
গোরা
Novels
শ্রাবণ মাসের সকালবেলায় মেঘ কাটিয়া গিয়া নির্মল রৌদ্রে কলিকাতার আকাশ ভরিয়া গিয়াছে। রাস্তায় গাড়িঘোড়ার বিরাম নাই, ফেরিওয়ালা অবিশ্রাম হাঁকিয়া চলিয়াছে, যাহারা আপিসে কালেজে আদালতে যাইবে তাহাদের জন্য বাসায় বাসায় মাছ-তরকারির চুপড়ি আসিয়াছে ও রান্নাঘরে উনান জ্বালাইবার ধোঁওয়া উঠিয়াছে--কিন্তু তবু এত বড়ো এই-যে কাজের শহর কঠিন হৃদয় কলিকাতা, ইহার শত শত রাস্তা এবং গলির ভিতরে সোনার আলোকের ধারা আজ যেন একটা অপূর্ব যৌবনের প্রবাহ বহিয়া লইয়া চলিয়াছে।
এমন দিনে বিনা-কাজের অবকাশে বিনয়ভূষণ তাহার বাসার দোতলার বারান্দায় একলা দাঁড়াইয়া রাস্তায় জনতার চলাচল দেখিতেছিল। কালেজের পড়াও অনেক দিন চুকিয়া গেছে, অথচ সংসারের মধ্যেও প্রবেশ করে নাই, বিনয়ের অবস্থাটা এইরূপ। সভাসমিতি চালানো এবং খবরের কাগজ লেখায় মন দিয়াছে-- কিন্তু তাহাতে সব মনটা ভরিয়া উঠে নাই। অন্তত আজ সকালবেলায় কী করিবে তাহা ভাবিয়া না পাইয়া তাহার মনটা চঞ্চল হইয়া উঠিয়াছিল। পাশের বাড়ির ছাতের উপরে গোটা-তিনেক কাক কী লইয়া ডাকাডাকি করিতেছিল এবং চড়ুই-দম্পতি তাহার বারান্দার এক কোণে বাসা-নির্মাণ-ব্যাপারে পরস্পরকে কিচিমিচি শব্দে উৎসাহ দিতেছিল-- সেই সমস্ত অব্যক্ত কাকলি বিনয়ের মনের মধ্যে একটা কোন্‌ অস্পষ্ট ভাবাবেগকে জাগাইয়া তুলিতেছিল।
খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কমনে আসে যায়,
ধরতে পারলে মনোবেড়ি দিতেম পাখির পায়
"বোলো না কাতর স্বরে না করি বিচার
জীবন স্বপনসম মায়ার সংসার।"
দুখনিশীথিনী হল আজি ভোর।
কাটিল কাটিল অধীনতা ডোর।
চাঁদের অমিয়া-সনে চন্দন বাঁটিয়া গো
কে মাজিল গোরার দেহখানি--
আরো দেখুন
দুই বোন
Novels
মেয়েরা দুই জাতের, কোনো কোনো পণ্ডিতের কাছে এমন কথা শুনেছি।
এক জাত প্রধানত মা, আর-এক জাত প্রিয়া।
আরো দেখুন