দুই বোন
Novels
মেয়েরা দুই জাতের, কোনো কোনো পণ্ডিতের কাছে এমন কথা শুনেছি।
এক জাত প্রধানত মা, আর-এক জাত প্রিয়া।
আরো দেখুন
আছে আমার হৃদয় আছে ভরে
Verses
              আছে আমার হৃদয় আছে ভরে
                    এখন তুমি যা-খুশি তাই করো।
              এমনি যদি বিরাজ অন্তরে
                    বাহির হতে সকলি মোর হরো।
                           সব পিপাসার যেথায় অবসান
                           সেথায় যদি পূর্ণ কর প্রাণ,
                           তাহার পরে মরুপথের মাঝে
                                  উঠে রৌদ্র উঠুক খরতর।
       এই যে খেলা খেলছ কত ছলে
              এই খেলা তো আমি ভালোবাসি।
       এক দিকেতে ভাসাও আঁখিজলে
              আরেক দিকে জাগিয়ে তোল হাসি।
                    যখন ভাবি সব খোয়ালেম বুঝি,
                    গভীর করে পাই তাহারে খুঁজি,
                    কোলের থেকে যখন ফেল দূরে
                           বুকের মাঝে আবার তুলে ধর।
আরো দেখুন
একটা আষাঢ়ে গল্প
Stories
দূর সমুদ্রের মধ্যে একটা দ্বীপ। সেখানে কেবল তাসের সাহেব, তাসের বিবি, টেক্কা এবং গোলামের বাস। দুরি তিরি হইতে নহলা-দহলা পর্যন্ত আরো অনেক-ঘর গৃহস্থ আছে কিন্তু তাহারা উচ্চজাতীয় নহে।
টেক্কা সাহেব গোলাম এই তিনটেই প্রধান বর্ণ, নহলা-দহলারা অন্ত্যজ-- তাহাদের সহিত এক পঙ্‌ক্তিতে বসিবার যোগ্য নহে।
আরো দেখুন
কঙ্কাল
Stories
আমরা তিন বাল্যসঙ্গী যে ঘরে শয়ন করিতাম তাহার পাশের ঘরের দেয়ালে একটি আস্ত নরকঙ্কাল ঝুলানো থাকিত। রাত্রে বাতাসে তাহার হাড়গুলা খট্‌খট্‌ শব্দ করিয়া নড়িত। দিনের বেলায় আমাদিগকে সেই হাড় নাড়িতে হইত। আমরা তখন পণ্ডিত-মহাশয়ের নিকট মেঘনাদবধ এবং ক্যাম্বেল স্কুলের এক ছাত্রের কাছে অস্থিবিদ্যা পড়িতাম। আমাদের অভিভাবকের ইচ্ছা ছিল আমাদিগকে সহসা সর্ববিদ্যায় পারদর্শী করিয়া তুলিবেন। তাঁহার অভিপ্রায় কতদূর সফল হইয়াছে যাঁহারা আমাদিগকে জানেন তাঁহাদের নিকট প্রকাশ করা বাহুল্য এবং যাঁহারা জানেন না তাঁহাদের নিকট গোপন করাই শ্রেয়।
তাহার পর বহুকাল অতীত হইয়াছে। ইতিমধ্যে সেই ঘর হইতে কঙ্কাল এবং আমাদের মাথা হইতে অস্থিবিদ্যা কোথায় স্থানান্তরিত হইয়াছে অন্বেষণ করিয়া জানা যায় না।
আরো দেখুন
উৎসর্গ
Verses
কল্যাণীয়া শ্রীমতী রানী মহলানবীশ
                       ইটকাঠে গড়া নীরস খাঁচার থেকে
             আকাশবিলাসী চিত্তেরে মোর এনেছিলে তুমি ডেকে
শ্যামল শুশ্রুষায়,
                  নারিকেলবন-পবন-বীজিত নিকুঞ্জ-আঙিনায়।
শরৎ-লক্ষ্মী কনকমাল্যে জড়ায় মেঘের বেণী,
                  নীলাম্বরের পটে আঁকে ছবি সুপারি গাছের শ্রেণী।
             দক্ষিণ ধারে পুকুরের ঘাট বাঁকা সে কোমর-ভাঙা,
                            লিলি গাছ দিয়ে ঢাকা তার ঢালু ডাঙা।
                      জামরুল গাছে ধরে অজস্র ফুল,
                হরণ করেছে সুরবালিকার হাজার কানের দুল।
                    লতানে যুথীর বিতানে মৌমাছিরা
  করিতেছে ঘুরা-ফিরা।
                         পুকুরের তটে তটে
                    মধুচ্ছন্দা রজনীগন্ধা সুগন্ধ তার রটে।
                ম্যাগ্‌নোলিয়ার শিথিল পাপড়ি খসে খসে পড়ে ঘাসে,
                  ঘরের পিছন হতে বাতাবির ফুলের খবর আসে।
             একসার মোটা পায়াভারী পাম উদ্ধত মাথা-তোলা,
                রাস্তার ধারে দাঁড়িয়েছে যেন বিলিতি পাহারা-ওলা।
বসি যবে বাতায়নে
                  কলমি শাকের পাড় দেখা যায় পুকুরের এক কোণে।
   বিকেল বেলার আলো
                    জলে রেখা কাটে সবুজ সোনালি কালো।
             ঝিলিমিলি করে আলোছায়া চুপে চুপে
                    চলতি হাওয়ার পায়ের চিহ্নরূপে।
                            জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় মাসে
             আমের শাখায় আঁখি ধেয়ে যায় সোনার রসের আশে।
                            লিচু ভরে যায় ফলে,
             বাদুড়ের সাথে দিনে আর রাতে অতিথির ভাগ চলে।
                  বেড়ার ওপারে মৈসুমি ফুলে রঙের স্বপ্ন বোনা,
             চেয়ে দেখে দেখে জানালার নাম রেখেছি-- "নেত্রকোণা'।
                  ওরাওঁ জাতের মালী ও মালিনী ভোর হতে লেগে আছে_
                         মাটি খোঁড়াখুঁড়ি, জল ঢালাঢালি গাছে।
             মাটিগড়া যেন নিটোল অঙ্গ, মাটির নাড়ীর টানে
                            গাছপালাদের স্বজাত বলেই জানে।
             রাত পোহালেই পাড়ার গোয়ালা গাভীদুটি নিয়ে আসে,
                       অধীর বাছুর ছুটোছুটি করে পাশে।
             সাড়ে ছ'টা বাজে, সোজা হয়ে রোদ চলে আসে মোর ঘরে,
                    পথে দেখা দেয় খবরওয়ালা বাইক-রথের 'পরে।
                       পাঁচিল পেরিয়ে পুরোনো দোতলা বাড়ি,
             আলসের ধারে এলোকেশিনীরা ঝোলায় সিক্ত শাড়ি।
                পাড়ার মেয়েরা জল নিতে আসে ঘাটে,
           সবুজ গহনে দু-চোখ ডুবিয়ে সোনার সকাল কাটে,
             বাংলাদেশের বনপ্রকৃতির মন
                  শহর এড়িয়ে রচিল এখানে ছায়া দিয়ে ঘেরা কোণ।
                    বাংলাদেশের গৃহিণী তাহার সাথে
                            আপন স্নিগ্ধ হাতে
                  সেবার অর্ঘ্য করেছে রচনা নীরব-প্রণতি-ভরা,
                    তারি আনন্দ কবিতায় দিল ধরা।
শুনেছি এবার হেথায় তোমার কদিনের ঘরবাড়ি
                            চলে যাবে তুমি ছাড়ি।
                       মেঘরৌদ্রের খেলার সৃষ্টি ওই পুকুরের ধারে
                              লজ্জিত হবে অকবি ধনীর দৃষ্টির অধিকারে।
                       কালের লীলায় দিয়ে যাব সায়, খেদ রাখিব না চিতে--
                    এ ছবিখানি তো মন হতে ধনী পারিবে না কেড়ে নিতে।
                         তোমার বাগানে দেখেছি তোমারে কাননলক্ষ্মীসম--
                                     তাহারি স্মরণ মম
                              শীতের রৌদ্রে, মুখর বর্ষারাতে
                                কুলায়বিহীন পাখির মতন
                                        মিলিবে মেঘের সাথে।
আরো দেখুন
শেষ পুরস্কার
Stories
সেদিন আই.এ. এবং ম্যাট্রিক ক্লাসের পুরস্কারবিতরণের উৎসব। বিমলা ব'লে এক ছাত্রী ছিল, সুন্দরী ব'লে তার খ্যাতি। তারই হাতে পুরস্কারের ভার। চার দিকে তার ভিড় জমেছে আর তার মনে অহংকার জমে উঠেছে খুব প্রচুর পরিমাণে। একটি মুখচোরা ভালোমানুষ ছেলে কোণে দাঁড়িয়ে ছিল। সাহস করে একটু কাছে এল যেই, দেখা গেল তার পায়ে হয়েছে ঘা, ময়লা কাপড়ের ব্যাণ্ডেজ জড়ানো। তাকে দেখে বিমলা নাক তুলে বললে, 'ও এখানে কেন বাপু, ওর যাওয়া উচিত হাসপাতালে।'
ছেলেটি মন-মরা হয়ে আস্তে আস্তে চলে গেল। বাড়িতে গিয়ে তার স্কুলঘরের কোণে বসে কাঁদছে, জলখাবারের থালা হাতে তার দিদি এসে বললে, 'ও কী হচ্ছে জগদীশ, কাঁদছিস কেন।'
আরো দেখুন
এস এস বসন্ত ধরাতলে
Songs
এস এস বসন্ত ধরাতলে।
আনো কুহুতান, প্রেমগান,
আনো গন্ধমদভরে অলস সমীরণ;
আনো নবযৌবন-হিল্লোল, নব প্রাণ,
প্রফুল্ল নবীন বাসনা ধরাতলে।
এস থরথর-কম্পিত, মর্মর-মুখরিত,
নব-পল্লব-পুলকিত
ফুল-আকুল-মালতী-বল্লি বিতানে,
সুখছায়ে মধুবায়ে, এস এস।
এস অরুণ-চরণ-কমল-বরন তরুণ উষার কোলে।
এস জ্যোৎস্না-বিবশ নিশীথে,
কল-কল্লোল তটিনী-তীরে,
সুখসুপ্ত সরসী-নীরে, এস এস।
এস যৌবন-কাতর হৃদয়ে,
এস মিলন-সুখালস নয়নে,
এস মধুর শরম মাঝারে,
দাও বাহুতে বাহু বাঁধি,
নবীন কুসুম পাশে রচি দাও নবীন মিলন-বাঁধন।
আরো দেখুন
আজ তোমারে দেখতে
Songs
আজ তোমারে দেখতে এলেম অনেক দিনের পরে।
ভয় কোরো না, সুখে থাকো,    বেশিক্ষণ থাকব নাকো--
            এসেছি    দণ্ড-দুয়ের তরে॥
দেখব শুধু মুখখানি,    শুনাও যদি শুনব বাণী,
নাহয় যাব আড়াল থেকে হাসি দেখে দেশান্তরে॥
আরো দেখুন