29
Verses
তব রবিকর আসে কর বাড়াইয়া
            এ আমার ধরণীতে।
সারাদিন দ্বারে রহে কেন দাঁড়াইয়া
            কী আছে কী চায় নিতে।
রাতের আঁধারে ফিরে যায় যবে, জানি
নিয়ে যায় বহি মেঘ-আবরণখানি,
নয়নের জলে রচিত ব্যাকুল বাণী
            খচিত ললিত গীতে।
নব নব রূপে বরণে বরণে ভরি
বুকে লহ তুলি সেই মেঘ-উত্তরি।
লঘু সে চপল কোমল শ্যামল কালো,
হে নিরঞ্জন, নাই বাস তারে ভালো,
তারে দিয়ে তুমি ঢাক আপনার আলো
                     সকরুণ ছায়াটিতে।
আরো দেখুন
প্রতিবেশিনী
Stories
আমার প্রতিবেশিনী বালবিধবা। যেন শরতের শিশিরাশ্রুপ্লুত শেফালির মতো বৃন্তচ্যুত; কোনো বাসরগৃহের ফুলশয্যার জন্য সে নহে, সে কেবল দেবপূজার জন্যই উৎসর্গ-করা।
তাহাকে আমি মনে মনে পূজা করিতাম। তাহার প্রতি আমার মনের ভাবটা যে কী ছিল পূজা ছাড়া তাহা অন্য কোনো সহজ ভাষায় প্রকাশ করিতে ইচ্ছা করি না -- পরের কাছে তো নয়ই, নিজের কাছেও না।
আরো দেখুন
১০৭
Verses
১০৭
সূর্যাস্তের রঙে রাঙা ধরা যেন পরিণত ফল,
আঁধার রজনী তারে ছিঁড়িতে বাড়ায় করতল॥    
আরো দেখুন
অনধিকার প্রবেশ
Stories
একদা প্রাতঃকালে পথের ধারে দাঁড়াইয়া এক বালক আর-এক বালকের সহিত একটি অসমসাহসিক অনুষ্ঠান সম্বন্ধে বাজি রাখিয়াছিল। ঠাকুরবাড়ির মাধবীবিতান হইতে ফুল তুলিয়া আনিতে পারিবে কি না, ইহাই লইয়া তর্ক। একটি বালক বলিল 'পারিব', আর-একটি বালক বলিল 'কখনোই পারিবে না'।
কাজটি শুনিতে সহজ অথচ করিতে কেন সহজ নহে তাহার বৃত্তান্ত আর-একটু বিস্তারিত করিয়া বলা আবশ্যক।
আরো দেখুন
স্ত্রীর পত্র
Stories
শ্রীচরণকমলেষু
আজ পনেরো বছর আমাদের বিবাহ হয়েছে,আজ পর্যন্ত তোমাকে চিঠি লিখি নি। চিরদিন কাছেই পড়ে আছি -- মুখের কথা অনেক শুনেছ, আমিও শুনেছি;চিঠি লেখবার মতো ফাঁকটুকু পাওয়া যায় নি।
আরো দেখুন
নতুন পুতুল
Stories
এই গুণী কেবল পুতুল তৈরি করত; সে পুতুল রাজবাড়ির মেয়েদের খেলার জন্যে।
বছরে বছরে রাজবাড়ির আঙিনায় পুতুলের মেলা বসে। সেই মেলায় সকল কারিগরই এই গুণীকে প্রধান মান দিয়ে এসেছে।
আরো দেখুন
মেঘমালা
Verses
আসে অবগুণ্ঠিতা প্রভাতের অরুণ দুকূলে
                   শৈলতটমূলে,
               আত্মদান অর্ঘ্য আনে পায়।
                   তপস্বীর ধ্যানে ভেঙে যায়,
               গিরিরাজ কঠোরতা যায় ভুলি,
          চরণের প্রান্ত হতে বক্ষে লয় তুলি
                   সজল তরুণ মেঘমালা।
          কল্যাণে ভরিয়া উঠে মিলনের পালা।
                   অচলে চঞ্চলে লীলা,
                   সুকঠিন শিলা
                   মত্ত হয় রসে।
          উদার দাক্ষিণ্য তার বিগলিত নির্ঝরে বরষে,
                   গায় কলোচ্ছল গান।
               সে দাক্ষিণ্য গোপনের দান
                   এ মেঘমালারই।
                             এ বর্ষণ তারই
                   পর্বতের বাণী হয়ে উঠে জেগে--
                             নৃত্যবন্যাবেগে
                                      বাধাবিঘ্ন চূর্ণ ক'রে
                   তরঙ্গের নৃত্যসাথে যুক্ত হয় অনন্ত সাগরে।
                                      নির্মমের তপস্যা টুটিয়া
                                           চলিল ছুটিয়া
                                      দেশে দেশে প্রাণের প্রবাহ,
                                           জয়ের উৎসাহ--
                                      শ্যামলের মঙ্গল-উৎসবে
                   আকাশে বাজিল বীণা অনাহত রবে।
                                      লঘুসুকুমার স্পর্শ ধীরে ধীরে
                   রুদ্রসন্ন্যাসীর স্তব্ধ নিরুদ্ধ শক্তিরে
                                      দিল ছাড়া; সৌন্দর্যের বীর্যবলে
                   স্বর্গেরে করিয়া জয় মুক্ত করি দিল ধরাতলে।
আরো দেখুন
নষ্টনীড়
Stories
ভূপতির কাজ করিবার কোনো দরকার ছিল না। তাঁহার টাকা যথেষ্ট ছিল, এবং দেশটাও গরম। কিন্তু গ্রহবশত তিনি কাজের লোক হইয়া জন্মগ্রহণ করিয়াছিলেন। এইজন্য তাঁহাকে একটা ইংরেজি খবরের কাগজ বাহির করিতে হইল। ইহার পরে সময়ের দীর্ঘতার জন্য তাঁহাকে আর বিলাপ করিতে হয় নাই।
ছেলেবেলা হইতে তাঁর ইংরেজি লিখিবার এবং বক্তৃতা দিবার শখ ছিল। কোনোপ্রকার প্রয়োজন না থাকিলেও ইংরেজি খবরের কাগজে তিনি চিঠি লিখিতেন, এবং বক্তব্য না থাকিলেও সভাস্থলে দু-কথা না বলিয়া ছাড়িতেন না।
আরো দেখুন
দর্পহরণ
Stories
কী করিয়া গল্প লিখিতে হয়, তাহা সম্প্রতি শিখিয়াছি। বঙ্কিমবাবু এবং সার্‌ ওয়াল্‌টার স্কট পড়িয়া আমার বিশেষ ফল হয় নাই। ফল কোথা হইতে কেমন করিয়া হইল, আমার এই প্রথম গল্পেই সেই কথাটা লিখিতে বসিলাম।
আমার পিতার মতামত অনেকরকম ছিল; কিন্তু বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে কোনো মত তিনি কেতাব বা স্বাধীনবুদ্ধি হইতে গড়িয়া তোলেন নাই। আমার বিবাহ যখন হয় তখন সতেরো উত্তীর্ণ হইয়া আঠারোয় পা দিয়াছি; তখন আমি কলেজে থার্ডইয়ারে পড়ি-- এবং তখন আমার চিত্তক্ষেত্রে যৌবনের প্রথম দক্ষিণবাতাস বহিতে আরম্ভ করিয়া কত অলক্ষ্য দিক হইতে কত অনির্বচনীয় গীতে এবং গন্ধে, কম্পনে এবং মর্মরে আমার তরুণ জীবনকে উৎসুক করিয়া তুলিতেছিল, তাহা এখনো মনে হইলে বুকের ভিতরে দীর্ঘনিশ্বাস ভরিয়া উঠে।
আরো দেখুন