স্বর্ণমৃগ
Stories
আদ্যানাথ এবং বৈদ্যনাথ চক্রবর্তী দুই শরিক। উভয়ের মধ্যে বৈদ্যনাথের অবস্থাই কিছু খারাপ। বৈদ্যনাথের বাপ মহেশচন্দ্রের বিষয়বুদ্ধি আদৌ ছিল না, তিনি দাদা শিবনাথের উপর সম্পূর্ণ নির্ভর করিয়া থাকিতেন। শিবনাথ ভাইকে প্রচুর স্নেহবাক্য দিয়া তৎপরিবর্তে তাঁহার বিষয়সম্পত্তি সমস্ত আত্মসাৎ করিয়া লন। কেবল খানকতক কোম্পানির কাগজ অবশিষ্ট থাকে। জীবনসমুদ্রে সেই কাগজ-কখানি বৈদ্যনাথের একমাত্র অবলম্বন।
শিবনাথ বহু অনুসন্ধানে তাঁহার পুত্র আদ্যানাথের সহিত এক ধনীর একমাত্র কন্যার বিবাহ দিয়া বিষয়বৃদ্ধির আর-একটি সুযোগ করিয়া রাখিয়াছিলেন। মহেশচন্দ্র একটি সপ্তকন্যাভারগ্রস্ত দরিদ্র ব্রাহ্মণের প্রতি দয়া করিয়া এক পয়সা পণ না লইয়া তাহার জ্যেষ্ঠা কন্যাটির সহিত পুত্রের বিবাহ দেন। সাতটি কন্যাকেই যে ঘরে লন নাই তাহার কারণ, তাঁহার একটিমাত্র পুত্র এবং ব্রাহ্মণও সেরূপ অনুরোধ করে নাই। তবে, তাহাদের বিবাহের উদ্দেশে সাধ্যাতিরিক্ত অর্থসাহায্য করিয়াছিলেন।
আরো দেখুন
পরী
Stories
কুসমি বললে, তুমি বড্ড বানিয়ে কথা বল। একটা সত্যিকার গল্প শোনাও-না।
আমি বললুম, জগতে দুরকম পদার্থ আছে। এক হচ্ছে সত্য, আর হচ্ছে--আরও-সত্য। আমার কারবার আরও-সত্যকে নিয়ে।
আরো দেখুন
3
Verses
ওগো      শেফালি-বনের মনের কামনা।
    কেন      সুদূর গগনে গগনে
    আছ      মিলায়ে পবনে পবনে।
    কেন      কিরণে কিরণে ঝলিয়া
    যাও       শিশিরে শিশিরে গলিয়া।
    কেন      চপল আলোতে ছায়াতে
    আছ      লুকায়ে আপন মায়াতে।
তুমি      মুরতি ধরিয়া চকিতে নামো-না।
ওগো      শেফালি-বনের মনের কামনা।
    আজি       মাঠে মাঠে চলো বিহরি,
    তৃণ         উঠুক শিহরি শিহরি,
    নামো       তালপল্লব-বীজনে
    নামো      জলে ছায়াছবি-সৃজনে;
    এসো      সৌরভ ভরি আঁচলে,
    আঁখি      আঁকিয়া সুনীল কাজলে
মম        চোখের সমুখে ক্ষণেক থামো-না
ওগো      শেফালি-বনের মনের কামনা।
ওগো      সোনার স্বপন, সাধের সাধনা।
    কত       আকুল হাসি ও রোদনে
    রাতে      দিবসে স্বপনে বোধনে,
    জ্বালি'     জোনাকি-প্রদীপ-মালিকা,
    ভরি'       নিশীথ-তিমির-থালিকা,
    প্রাতে     কুসুমের সাজি সাজায়ে,
    সাঁঝে      ঝিল্লি-ঝাঁজর বাজায়ে,
কত       করেছে তোমার স্তুতি-আরাধনা।
ওগো      সোনার স্বপন, সাধের সাধনা।
    ওই         বসেছ শুভ্র আসনে
    আজি    নিখিলের সম্ভাষণে;
    আহা      শ্বেতচন্দন-তিলকে
    আজি    তোমারে সাজায়ে দিল কে।
    আহা      বরিল তোমারে কে আজি
    তার      দুঃখ-শয়ন তেয়াজি,
তুমি      ঘুচালে কাহার বিরহ-কাঁদনা।
ওগো      সোনার স্বপন, সাধের সাধনা।
আরো দেখুন
দুরাকাঙক্ষা
Verses
          কেন নিবে গেল বাতি।
আমি      অধিক যতনে ঢেকেছিনু তারে
          জাগিয়া বাসররাতি,
          তাই নিবে গেল বাতি।
          কেন ঝরে গেল ফুল।
আমি      বক্ষে চাপিয়া ধরেছিনু তারে
          চিন্তিত ভয়াকুল,
          তাই ঝরে গেল ফুল।
          কেন মরে গেল নদী।
আমি      বাঁধ বাঁধি তারে চাহি ধরিবারে
          পাইবারে নিরবধি,
          তাই মরে গেল নদী।
          কেন ছিঁড়ে গেল তার।
আমি      অধিক আবেগে প্রাণপণ বলে
          দিয়েছিনু ঝংকার,
          তাই ছিঁড়ে গেল তার।
আরো দেখুন
মুনশি
Stories
আচ্ছা দাদামশায়, তোমাদের সেই মুনশিজি এখন কোথায় আছেন।
এই প্রশ্নের জবাব দিতে পারব তার সময়টা বুঝি কাছে এসেছে, তবু হয়তো কিছুদিন সবুর করতে হবে।
আরো দেখুন
গলি
Stories
আমাদের এই শানবাঁধানো গলি, বারে বারে ডাইনে বাঁয়ে এঁকে বেঁকে একদিন কী যেন খুঁজতে বেরিয়েছিল। কিন্তু, সে যে দিকেই যায় ঠেকে যায়। এ দিকে বাড়ি, ও দিকে বাড়ি, সামনে বাড়ি।
উপরের দিকে যেটুকু নজর চলে তাতে সে একখানি আকাশের রেখা দেখতে পায়-- ঠিক তার নিজেরই মতো সরু, তার নিজেরই মতো বাঁকা।
আরো দেখুন
বুদ্ধভক্তি
Verses
জাপানের কোনো কাগজে পড়েছি, জাপানি সৈনিক
যুদ্ধের সাফল্য কামনা করে যুদ্ধমন্দিরে
পূজা দিতে গিয়েছিল। ওরা শক্তির বাণ মারছে চীনকে,
ভক্তির বাণ বুদ্ধকে।
     হুংকৃত যুদ্ধের বাদ্য
সংগ্রহ করিবারে শমনের খাদ্য।
সাজিয়াছে ওরা সবে উৎকটদর্শন,
দন্তে দন্তে ওরা করিতেছে ঘর্ষণ,
হিংসার উষ্মায় দারুণ অধীর
সিদ্ধির বর চায় করুণানিধির--
     ওরা তাই স্পর্ধায় চলে
     বুদ্ধের মন্দিরতলে।
তূরী ভেরি বেজে ওঠে রোষে গরোগরো,
ধরাতল কেঁপে ওঠে ত্রাসে থরোথরো।
     গর্জিয়া প্রার্থনা করে--
আর্তরোদন যেন জাগে ঘরে ঘরে।
আত্মীয়বন্ধন করি দিবে ছিন্ন,
গ্রামপল্লীর রবে ভস্মের চিহ্ন,
হানিবে শূন্য হতে বহ্নি-আঘাত,
বিদ্যার নিকেতন হবে ধূলিসাৎ--
     বক্ষ ফুলায়ে বর যাচে
     দয়াময় বুদ্ধের কাছে।
তূরী ভেরি বেজে ওঠে রোষে গরোগরো,
ধরাতল কেঁপে ওঠে ত্রাসে থরোথরো।
     হত-আহতের গনি সংখ্যা
তালে তালে মন্দ্রিত হবে জয়ডঙ্কা।
নারীর শিশুর যত কাটা-ছেঁড়া অঙ্গ
জাগাবে অট্টহাসে পৈশাচী রঙ্গ,
মিথ্যায় কলুষিবে জনতার বিশ্বাস,
বিষবাষ্পের বাণে রোধি দিবে নিশ্বাস--
     মুষ্টি উঁচায়ে তাই চলে
     বুদ্ধেরে নিতে নিজ দলে।
তূরী ভেরি বেজে ওঠে রোষে গরোগরো,
ধরাতল কেঁপে ওঠে ত্রাসে থরোথরো।
আরো দেখুন
খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন
Stories
রাইচরণ যখন বাবুদের বাড়ি প্রথম চাকরি করিতে আসে তখন তাহার বয়স বারো। যশোহর জিলায় বাড়ি, লম্বা চুল, বড়ো বড়ো চোখ, শ্যামচিক্কণ ছিপ্‌ছিপে বালক। জাতিতে কায়স্থ। তাহার প্রভুরাও কায়স্থ। বাবুদের এক-বৎসর-বয়স্ক একটি শিশুর রক্ষণ ও পালন-কার্যে সহায়তা করা তাহার প্রধান কর্তব্য ছিল।
সেই শিশুটি কালক্রমে রাইচরণের কক্ষ ছাড়িয়া স্কুলে, স্কুল ছাড়িয়া কলেজে, অবশেষে কলেজ ছাড়িয়া মুন্‌সেফিতে প্রবেশ করিয়াছে। রাইচরণ এখনো তাঁহার ভৃত্য।
আরো দেখুন
প্রতিহিংসা
Stories
মুকুন্দবাবুদের ভূতপূর্ব দেওয়ানের পৌত্রী, বর্তমান ম্যানেজারের স্ত্রী ইন্দ্রাণী অশুভক্ষণে বাবুদের বাড়িতে তাঁহাদের দৌহিত্রের বিবাহে বউভাতের নিমন্ত্রণে উপস্থিত ছিলেন।
তৎপূর্বকার ইতিহাস সংক্ষেপে বলিয়া রাখিলে কথাটা পরিষ্কার হইবে।
আরো দেখুন
ক্লান্তি আমার ক্ষমা করো প্রভু
Verses
ক্লান্তি আমার ক্ষমা করো প্রভু,
পথে যদি পিছিয়ে পড়ি কভু।
      এই-যে হিয়া থরথর
      কাঁপে আজি এমনতরো
      এই বেদনা ক্ষমা করো
            ক্ষমা করো প্রভু।
এই দীনতা ক্ষমা করো প্রভু,
পিছন-পানে তাকাই যদি কভু।
      দিনের তাপে রৌদ্রজ্বালায়
      শুকায় মালা পূজার থালায়,
      সেই ম্লানতা ক্ষমা করো
           ক্ষমা করো প্রভু।
আরো দেখুন
হায় রে, হায় রে নূপুর
Songs
      হায় রে, হায় রে, নূপুর
তার   করুণ চরণ ত্যজিলি, হারালি
      কলগুঞ্জনসুর।
নীরব ক্রন্দনে বেদনাবন্ধনে
      রাখিলি ধরিয়া বিরহ ভরিয়া
            স্মরণ সুমধুর।
তার   কোমল-চরণ-স্মরণ সুমধুর।
তোর   ঝংকারহীন ধিক্কারে কাঁদে
            প্রাণ মম নিষ্ঠুর॥
আরো দেখুন
৭৬
Verses
৭৬
মহাতরু বহে
বহু বরষের ভার।
যেন সে বিরাট
এক মুহূর্ত তার॥    
আরো দেখুন