কৃতঘ্ন শোক
Stories
ভোরবেলায় সে বিদায় নিলে।
আমার মন আমাকে বোঝাতে বসল, 'সবই মায়া।'
আরো দেখুন
উপসংহার
Stories
ভোজরাজের দেশে যে মেয়েটি ভোরবেলাতে দেবমন্দিরে গান গাইতে যায় সে কুড়িয়ে-পাওয়া মেয়ে।
আচার্য বলেন, 'একদিন শেষরাত্রে আমার কানে একখানি সুর লাগল। তার পরে সেইদিন যখন সাজি নিয়ে পারুলবনে ফুল তুলতে গেছি তখন এই মেয়েটিকে ফুলগাছতলায় কুড়িয়ে পেলেম।'
আরো দেখুন
বোরোবুদুর
Verses
সেদিন প্রভাতে সূর্য এইমতো উঠেছে অম্বরে
                            অরণ্যের বন্দনমর্মরে;
                       নীলিম বাষ্পের স্পর্শ লভি
           শৈলশ্রেণী দেখা দেয় যেন ধরণীর স্বপ্নচ্ছবি।
           নারিকেল-বনপ্রান্তে নরপতি বসিল একাকী
                                ধ্যানমগ্ন-আঁখি।
           উচ্চে উচ্ছ্বসিল প্রাণ অন্তহীন আকাঙক্ষাতে,
                 কী সাহসে চাহিল পাঠাতে
                আপন পূজার মন্ত্র যুগযুগান্তরে।
                          অপরূপ অমৃত অক্ষরে
           লিখিল বিচিত্র লেখা; সাধকের ভক্তির পিপাসা
                          রচিল আপন মহাভাষা --
                       সর্বকাল সর্বজন
           আনন্দে পড়িতে পারে যে ভাষার লিপির লিখন।
           সে লিপি ধরিল দ্বীপ আপন বক্ষের মাঝখানে,
           সে লিপি তুলিল গিরি আকাশের পানে।
                 সে লিপির বাণী সনাতন
                       করেছে গ্রহণ
           প্রথম উদিত সূর্য শতাব্দীর প্রত্যহ প্রভাতে।
                       অদূরে নদীর কিনারাতে
                                আলবাঁধা মাঠে
           কত যুগ ধরে চাষী ধান বোনে আর ধান কাটে ,--
                       আঁধারে আলোয়
                 প্রত্যহের প্রাণলীলা সাদায় কালোয়
           ছায়ানাট্যে ক্ষণিকের নৃত্যচ্ছবি যায় লিখে লিখে,
                     লুপ্ত হয় নিমিখে নিমিখে।
        কালের সে-লুকাচুরি, তারি মাঝে সংকল্প সে কার
                     প্রতিদিন করে মন্ত্রোচ্চার,
                                বলে অবিশ্রাম ,--
                       "বুদ্ধের শরণ লইলাম।'
      প্রাণ যার দুদিনের, নাম যার মিলাল নিঃশেষে
                 সংখ্যাতীত বিস্মৃতের দেশে,
              পাষাণের ছন্দে ছন্দে বাঁধিয়া গেছে সে
                       আপনার অক্ষয় প্রণাম, --
                       "বুদ্ধের শরণ লইলাম।'
                 কত যাত্রী কতকাল ধরে
           নম্রশিরে দাঁড়ায়েছে হেথা করজোড়ে।
        পূজার গম্ভীর ভাষা খুঁজিতে এসেছে কতদিন,
                 তাদের আপনকণ্ঠ ক্ষীণ।
         ইঙ্গিতপুঞ্জিত তুঙ্গ পাষাণের সংগীতের তানে
                       আকাশের পানে
                     উঠেছে তাদের নাম,
           জেগেছে অনন্ত ধ্বনি, --  "বুদ্ধের শরণ লইলাম।'
           অর্থ আজ হারায়েছে সে যুগের লিখা,
                 নেমেছে বিস্মৃতিকুহেলিকা।
           অর্ঘ্যশূন্য কৌতূহলে দেখে যায় দলে দলে আসি
                       ভ্রমণবিলাসী, --
           বোধশূন্য দৃষ্টি তার নিরর্থক দৃশ্য চলে গ্রাসি।
           চিত্ত আজি শান্তিহীন লোভের বিকারে,
                 হৃদয় নীরস অহংকারে
           ক্ষিপ্রগতি বাসনার তাড়নায় তৃপ্তিহীন ত্বরা,
                 কম্পমান ধরা;
           বেগ শুধু বেড়ে চলে ঊর্ধ্বশ্বাসে মৃগয়া-উদ্দেশে,
          লক্ষ্য ছোটে পথে পথে, কোথাও পৌঁছে না পরিশেষে;
          অন্তহারা সঞ্চয়ের আহুতি মাগিয়া
           সর্বগ্রাসী ক্ষুধানল উঠেছে জাগিয়া;
                 তাই আসিয়াছে দিন,
                 পীড়িত মানুষ মুক্তিহীন,
                         আবার তাহারে
           আসিতে হবে যে তীর্থদ্বারে
                       শুনিবারে
      পাষাণের মৌনতটে যে বাণী রয়েছে চিরস্থির --
           কোলাহল ভেদ করি শত শতাব্দীর
                 আকাশে উঠিছে অবিরাম
      অমেয় প্রেমের মন্ত্র, -- "বুদ্ধের শরণ লইলাম।'
আরো দেখুন
এবেলা ডাক পড়েছে
Songs
              এবেলা      ডাক পড়েছে কোন্‌খানে
              ফাগুনের    ক্লান্ত ক্ষণের শেষ গানে।
সেখানে      স্তব্ধ বীণার তারে তারে    সুরের খেলা ডুবসাঁতারে--
              সেখানে      চোখ মেলে যার পাই নে দেখা
              তাহারে     মন জানে গো, মন জানে॥
              এবেলা      মন যেতে চায় কোন্‌খানে
              নিরালায়    লুপ্ত পথের সন্ধানে।      
সেখানে      মিলনদিনের ভোলা হাসি    লুকিয়ে বাজায় করুণ বাঁশি,
সেখানে      যে কথাটি হয় না বলা    সে কথা     রয় কানে গো, রয় কানে॥
আরো দেখুন
ললাটের লিখন
Stories
ছেলেবেলায় পৃথ্বীশের ডান দিকের কপালে চোট লেগেছিল ভুরুর মাঝখান থেকে উপর পর্যন্ত। সেই আঘাতে ডান চোখটাও সংকুচিত। পৃথ্বীশকে ভালো দেখতে কি না সেই প্রশ্নের উত্তরটা কাটা দাগের অবিচারে সম্পূর্ণ হতে পারল না। অদৃষ্টের এই লাঞ্ছনাকে এত দিন থেকে প্রকাশ্যে পৃথ্বীশ বহন করে আসছে তবুও দাগও যেমন মেলায় নি তেমনি ঘোচে নি তার সংকোচ। নতুন কারো সঙ্গে পরিচয় হবার উপলক্ষে প্রত্যেকবার ধিক্‌কারটা জেগে ওঠে মনে। কিন্তু বিধাতাকে গাল দেবার অধিকার তার নেই। তার রচনার ঐশ্বর্যকে বন্ধুরা স্বীকার করছে প্রচুর প্রশংসায়, শত্রুরা নিন্দাবাক্যের নিরন্তর কটুক্তিতে। লেখার চারি দিকে ভিড় জমছে। দু টাকা আড়াই টাকা দামের বইগুলো ছড়িয়ে পড়ছে ঘরে ঘরে। সম্পাদকরা তার কলমের প্রসাদ ছুটোছাঁটা যা-ই পায় কিছুই ছাড়ে না। পাঠিকারা বলে, পৃথ্বীশবাবু মেয়েদের মন ও চরিত্র যেমন আশ্চর্য বোঝেন ও বর্ণনা করেন এমন সাধ্য নেই আর কোনো লেখকের। পুরুষ-বন্ধুরা বলে, ওর লেখায় মেয়েদের এত-যে স্তুতিবাদ সে কেবল হতভাগার ভাঙা কপালের দোষে। মুখশ্রী যদি অক্ষুণ্ন হত তা হলে মেয়েদের সম্বন্ধে সত্য কথা বাধত না মুখে। মুখের চেহারা বিপক্ষতা করায় মুখের অত্যুক্তিকে সহায় করেছে মনোহরণের অধ্যবসায়।
শ্রীমতী বাঁশরি সরকার ব্যারিস্টারি চক্রের মেয়ে-- বাপ ব্যারিস্টার, ভাইরা ব্যারিস্টার। দু বার গেছে য়ুরোপে ছুটি উপলক্ষে। সাজে সজ্জায় ভাষায় ভঙ্গিতে আছে আধুনিক যুগের সুনিপুণ উদ্দামতা। রূপসী বলতে যা বোঝায় তা নয়, কিন্তু আকৃতিটা যেন ফ্রেঞ্চ পালিশ দিয়ে ঝকঝকে করা।
আরো দেখুন
হালদারগোষ্ঠী
Stories
এই পরিবারটির মধ্যে কোনোরকমের গোল বাধিবার কোনো সংগত কারণ ছিল না। অবস্থাও সচ্ছল, মানুষগুলিও কেহই মন্দ নহে, কিন্তু তবুও গোল বাধিল।
কেননা, সংগত কারণেই যদি মানুষের সব-কিছু ঘটিত তবে তো লোকালয়টা একটা অঙ্কের খাতার মতো হইত, একটু সাবধানে চলিলেই হিসাবে কোথাও কোনো ভুল ঘটিত না; যদি বা ঘটিত সেটাকে রবার দিয়া মুছিয়া সংশোধন করিলেই চলিয়া যাইত।
আরো দেখুন
বিরাম
Verses
বিরাম কাজেরই অঙ্গ এক সাথে গাঁথা,
নয়নের অংশ যেন নয়নের পাতা।
আরো দেখুন
বাচস্পতি
Stories
দাদামশায়, তুমি তোমার চার দিকে যেসব পাগলের দল জমিয়েছিলে, গুণ হিসেব ক'রে তাদের বুঝি সব নম্বর দিয়ে রেখেছিলে?
হ্যাঁ, তা করতে হয়েছে বই-কি। কম তো জমে নি।
আরো দেখুন