237
Verses
IN MY LIFE'S garden
my wealth has been of the shadows and lights
that are never gathered and stored.
আরো দেখুন
ওই পোহাইল তিমিররাতি
Songs
ওই পোহাইল তিমিররাতি।
পূর্বগগনে দেখা দিল নব প্রভাতছটা,
জীবনে-যৌবনে হৃদয়ে-বাহিরে
প্রকাশিল অতি অপরূপ মধুর ভাতি ॥
কে পাঠালে এ শুভদিন নিদ্রা-মাঝে,
মহা মহোল্লাসে জাগাইলে চরাচর,
সুমঙ্গল আশীর্বাদ বরষিলে
করি প্রচার সুখবারতা--
তুমি চির সাথের সাথি ॥
আরো দেখুন
কৃতঘ্ন শোক
Stories
ভোরবেলায় সে বিদায় নিলে।
আমার মন আমাকে বোঝাতে বসল, 'সবই মায়া।'
আরো দেখুন
গোরা
Novels
শ্রাবণ মাসের সকালবেলায় মেঘ কাটিয়া গিয়া নির্মল রৌদ্রে কলিকাতার আকাশ ভরিয়া গিয়াছে। রাস্তায় গাড়িঘোড়ার বিরাম নাই, ফেরিওয়ালা অবিশ্রাম হাঁকিয়া চলিয়াছে, যাহারা আপিসে কালেজে আদালতে যাইবে তাহাদের জন্য বাসায় বাসায় মাছ-তরকারির চুপড়ি আসিয়াছে ও রান্নাঘরে উনান জ্বালাইবার ধোঁওয়া উঠিয়াছে--কিন্তু তবু এত বড়ো এই-যে কাজের শহর কঠিন হৃদয় কলিকাতা, ইহার শত শত রাস্তা এবং গলির ভিতরে সোনার আলোকের ধারা আজ যেন একটা অপূর্ব যৌবনের প্রবাহ বহিয়া লইয়া চলিয়াছে।
এমন দিনে বিনা-কাজের অবকাশে বিনয়ভূষণ তাহার বাসার দোতলার বারান্দায় একলা দাঁড়াইয়া রাস্তায় জনতার চলাচল দেখিতেছিল। কালেজের পড়াও অনেক দিন চুকিয়া গেছে, অথচ সংসারের মধ্যেও প্রবেশ করে নাই, বিনয়ের অবস্থাটা এইরূপ। সভাসমিতি চালানো এবং খবরের কাগজ লেখায় মন দিয়াছে-- কিন্তু তাহাতে সব মনটা ভরিয়া উঠে নাই। অন্তত আজ সকালবেলায় কী করিবে তাহা ভাবিয়া না পাইয়া তাহার মনটা চঞ্চল হইয়া উঠিয়াছিল। পাশের বাড়ির ছাতের উপরে গোটা-তিনেক কাক কী লইয়া ডাকাডাকি করিতেছিল এবং চড়ুই-দম্পতি তাহার বারান্দার এক কোণে বাসা-নির্মাণ-ব্যাপারে পরস্পরকে কিচিমিচি শব্দে উৎসাহ দিতেছিল-- সেই সমস্ত অব্যক্ত কাকলি বিনয়ের মনের মধ্যে একটা কোন্‌ অস্পষ্ট ভাবাবেগকে জাগাইয়া তুলিতেছিল।
খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কমনে আসে যায়,
ধরতে পারলে মনোবেড়ি দিতেম পাখির পায়
"বোলো না কাতর স্বরে না করি বিচার
জীবন স্বপনসম মায়ার সংসার।"
দুখনিশীথিনী হল আজি ভোর।
কাটিল কাটিল অধীনতা ডোর।
চাঁদের অমিয়া-সনে চন্দন বাঁটিয়া গো
কে মাজিল গোরার দেহখানি--
আরো দেখুন
যাও রে অনন্তধামে
Songs
       যাও রে অনন্তধামে মোহ মায়া পাশরি
             দুঃখ আঁধার যেথা কিছুই নাহি।
       জরা নাহি, মরণ নাহি, শোক নাহি যে লোকে,
             কেবলি আনন্দস্রোত চলিছে প্রবাহি!
       যাও রে অনন্তধামে, অমৃতনিকেতনে,
             অমরগণ লইবে তোমা উদারপ্রাণে!
       দেব-ঋষি, রাজ-ঋষি, ব্রহ্ম-ঋষি যে লোকে
             ধ্যানভরে গান করে এক তানে!
       যাও রে অনন্তধামে জ্যোতির্ময় আলয়ে,
             শুভ্র সেই চিরবিমল পুণ্য কিরণে--
       যায় যেথা দানব্রত, সত্যব্রত, পুণ্যবান,
             যাও বৎস, যাও সেই দেবসদনে!
আরো দেখুন
মণিহারা
Stories
সেই জীর্ণপ্রায় বাঁধাঘাটের ধারে আমার বোট লাগানো ছিল। তখন সূর্য অস্ত গিয়াছে।
বোটের ছাদের উপরে মাঝি নমাজ পড়িতেছে। পশ্চিমের জ্বলন্ত আকাশপটে তাহার নীরব উপাসনা ক্ষণে ক্ষণে ছবির মতো আঁকা পড়িতেছিল। স্থির রেখাহীন নদীর জলের উপর ভাষাতীত অসংখ্য বর্ণচ্ছটা দেখিতে দেখিতে ফিকা হইতে গাঢ় লেখায়, সোনার রঙ হইতে ইস্পাতের রঙে, এক আভা হইতে আর-এক আভায় মিলাইয়া আসিতেছিল।
আরো দেখুন
দৃষ্টিদান
Stories
শুনিয়াছি, আজকাল অনেক বাঙালির মেয়েকে নিজের চেষ্টায় স্বামী সংগ্রহ করিতে হয়। আমিও তাই করিয়াছি, কিন্তু দেবতার সহায়তায়। আমি ছেলেবেলা হইতে অনেক ব্রত এবং অনেক শিবপূজা করিয়াছিলাম।
আমার আটবৎসর বয়স উত্তীর্ণ না হইতেই বিবাহ হইয়া গিয়াছিল। কিন্তু পূর্বজন্মের পাপবশত আমি আমার এমন স্বামী পাইয়াও সম্পূর্ণ পাইলাম না। মা ত্রিনয়নী আমার দুইচক্ষু লইলেন। জীবনের শেষমুহূর্ত পর্যন্ত স্বামীকে দেখিয়া লইবার সুখ দিলেন না।
আরো দেখুন
সম্পাদক
Stories
আমার স্ত্রী-বর্তমানে প্রভা সম্বন্ধে আমার কোনো চিন্তা ছিল না। তখন প্রভা অপেক্ষা প্রভার মাতাকে লইয়া কিছু অধিক ব্যস্ত ছিলাম।
তখন কেবল প্রভার খেলাটুকু হাসিটুকু দেখিয়া, তাহার আধো আধো কথা শুনিয়া এবং আদরটুকু লইয়াই তৃপ্ত থাকিতাম; যতক্ষণ ভালো লাগিত নাড়াচাড়া করিতাম, কান্না আরম্ভ করিলেই তাহার মার কোলে সমর্পণ করিয়া সত্বর অব্যাহতি লইতাম। তাহাকে যে বহু চিন্তা ও চেষ্টায় মানুষ করিয়া তুলিতে হইবে, এ-কথা আমার মনে আসে নাই।
আরো দেখুন
সংযোজন - উৼসর্গ
Verses
বিজ্ঞানাচার্য শ্রীযুক্ত জগদীশচন্দ্র বসু
                                           করকমলেষু
বন্ধু, এ যে আমার লজ্জাবতী লতা
      কী পেয়েছে আকাশ হতে
      কী এসেছে বায়ুর স্রোতে
      পাতার ভাঁজে লুকিয়ে আছে
             সে যে প্রাণের কথা।
      যত্নভরে খুঁজে খুঁজে
      তোমায় নিতে হবে বুঝে,
      ভেঙে দিতে হবে যে তার
             নীরব ব্যাকুলতা।
      আমার       লজ্জাবতী লতা।
বন্ধু, সন্ধ্যা এল, স্বপনভরা
             পবন এরে চুমে।
      ডালগুলি সব পাতা নিয়ে
             জড়িয়ে এল ঘুমে।
      ফুলগুলি সব নীল নয়ানে
      চুপিচুপি আকাশপানে
      তারার দিকে চেয়ে চেয়ে
             কোন্‌ ধেয়ানে রতা।
      আমার       লজ্জাবতী লতা।
বন্ধু, আনো তোমার তড়িৎ-পরশ,
             হরষ দিয়ে দাও,
      করুণ চক্ষু মেলে ইহার
             মর্মপানে চাও।
      সারা দিনের গন্ধগীতি
      সারা দিনের আলোর স্মৃতি
      নিয়ে এ যে হৃদয়ভারে
             ধরায় অবনতা--
      আমার       লজ্জাবতী লতা।
বন্ধু,  তুমি জান ক্ষুদ্র যাহা
             ক্ষুদ্র তাহা নয়,
      সত্য যেথা কিছু আছে
      বিশ্ব সেথা রয়
      এই-যে মুদে আছে লাজে
      পড়বে তুমি এরি মাঝে--
      জীবনমৃত্যু রৌদ্রছায়া
             ঝটিকার বারতা।
      আমার       লজ্জাবতী লতা।
আরো দেখুন
মাতাল
Verses
ওরে মাতাল, দুয়ার ভেঙে দিয়ে
            পথেই যদি করিস মাতামাতি,
থলিঝুলি উজাড় করে ফেলে
            যা আছে তোর ফুরাস রাতারাতি,
অশ্লেষাতে যাত্রা করে শুরু
            পাঁজিপুঁথি করিস পরিহাস,
অকারণে অকাজ লয়ে ঘাড়ে
            অসময়ে অপথ দিয়ে যাস,
হালের দড়ি নিজের হাতে কেটে
       পালের 'পরে লাগাস ঝোড়ো হাওয়া,
             আমিও ভাই, তোদের ব্রত লব
                 মাতাল হয়ে পাতাল-পানে ধাওয়া।
পাড়ার যত জ্ঞানীগুণীর সাথে
            নষ্ট হল দিনের পর দিন--
অনেক শিখে পক্ব হল মাথা
            অনেক দেখে দৃষ্টি হল ক্ষীণ,
কত কালের কত মন্দ ভালো
           বসে বসে কেবল জমা করি,
ফেলাছড়া-ভাঙাছেঁড়ার বোঝা
          বুকের মাঝে উঠছে ভরি ভরি,
গুঁড়িয়ে সে-সব উড়িয়ে ফেলে দিক
            দিক্‌-বিদিকে তোদের ঝোড়ো হাওয়া।
                 বুঝেছি ভাই, সুখের মধ্যে সুখ
                      মাতাল হয়ে পাতাল-পানে ধাওয়া।
হোক রে সিধা কুটিল দ্বিধা যত,
            নেশায় মোরে করুক দিশাহারা,    
দানোয় এসে হঠাৎ কেশে ধরে  
            এক দমকে করুক লক্ষ্মীছাড়া।
সংসারেতে সংসারী তো ঢের
            কাজের হাটে অনেক আছে কেজো,
মেলাই আছে মস্ত বড়ো লোক--
            সঙ্গে তাঁদের অনেক সেজো মেজো।
থাকুন তাঁরা ভবের কাজে লেগে,
        লাগুক মোরে সৃষ্টিছাড়া হাওয়া--
             বুঝেছি ভাই, কাজের মধ্যে কাজ
                  মাতাল হয়ে পাতাল-পানে ধাওয়া।
শপথ করে দিলাম ছেড়ে আজই
            যা আছে মোর বুদ্ধি বিবেচনা,
বিদ্যা যত ফেলব ঝেড়ে ঝুড়ে
           ছেড়ে ছুড়ে তত্ত্ব-আলোচনা।
স্মৃতির ঝারি উপুড় করে ফেলে
            নয়নবারি শূন্য করি দিব,
উচ্ছ্বসিত মদের ফেনা দিয়ে
           অট্টহাসি শোধন করি নিব।
ভদ্রলোকের তকমা-তাবিজ ছিঁড়ে
          উড়িয়ে দেবে মদোন্মত্ত হাওয়া,
                 শপথ করে বিপথ-ব্রত নেব--
                      মাতাল হয়ে পাতাল-পানে ধাওয়া।
আরো দেখুন
সবার সাথে চলতেছিল
Songs
         সবার সাথে চলতেছিল অজানা এই পথের অন্ধকারে,
কোন্‌ সকালের হঠাৎ আলোয় পাশে আমার দেখতে পেলেম তারে॥
    এক নিমেষেই রাত্রি হল ভোর,    চিরদিনের ধন যেন সে মোর,
         পরিচয়ের অন্ত যেন কোনোখানে  নাইকো একেবারে--
               চেনা কুসুম ফুটে আছে না-চেনা এই গহন বনের ধারে
                     অজানা এই পথের অন্ধকারে॥
         জানি জানি দিনের শেষে সন্ধ্যাতিমির নামবে পথের মাঝে--
আবার কখন পড়বে আড়াল, দেখাশোনার বাঁধন রবে না যে।
               তখন আমি পাব মনে মনে    পরিচয়ের পরশ ক্ষণে ক্ষণে,
         জানব চিরদিনের পথে আঁধার আলোয় চলছি সারে সারে--
    হৃদয়-মাঝে দেখব খুঁজে একটি মিলন সব-হারানোর পারে
                     অজানা এই পথের অন্ধকারে॥
আরো দেখুন