বড়ো খবর
Stories
কুসমি বললে, তুমি যে বললে এখনকার কালের বড়ো বড়ো সব খবর তুমি আমাকে শোনাবে, নইলে আমার শিক্ষা হবে কী রকম ক'রে, দাদামশায়।
দাদামশায় বললে, বড়ো খবরের ঝুলি বয়ে বেড়াবে কে বলো, তার মধ্যে যে বিস্তর রাবিশ।
আরো দেখুন
প্রতিবেশিনী
Stories
আমার প্রতিবেশিনী বালবিধবা। যেন শরতের শিশিরাশ্রুপ্লুত শেফালির মতো বৃন্তচ্যুত; কোনো বাসরগৃহের ফুলশয্যার জন্য সে নহে, সে কেবল দেবপূজার জন্যই উৎসর্গ-করা।
তাহাকে আমি মনে মনে পূজা করিতাম। তাহার প্রতি আমার মনের ভাবটা যে কী ছিল পূজা ছাড়া তাহা অন্য কোনো সহজ ভাষায় প্রকাশ করিতে ইচ্ছা করি না -- পরের কাছে তো নয়ই, নিজের কাছেও না।
আরো দেখুন
হালদারগোষ্ঠী
Stories
এই পরিবারটির মধ্যে কোনোরকমের গোল বাধিবার কোনো সংগত কারণ ছিল না। অবস্থাও সচ্ছল, মানুষগুলিও কেহই মন্দ নহে, কিন্তু তবুও গোল বাধিল।
কেননা, সংগত কারণেই যদি মানুষের সব-কিছু ঘটিত তবে তো লোকালয়টা একটা অঙ্কের খাতার মতো হইত, একটু সাবধানে চলিলেই হিসাবে কোথাও কোনো ভুল ঘটিত না; যদি বা ঘটিত সেটাকে রবার দিয়া মুছিয়া সংশোধন করিলেই চলিয়া যাইত।
আরো দেখুন
78
Verses
III. 63. kahain Katnr, suno ho sadho
KABIR SAYS: 'O Sadhu! hear my deathless words. If you want your own good, examine and consider them well.
You have estranged yourself from the Creator, of whom you have sprung: you have lost your reason, you have bought death.
All doctrines and all teachings are sprung from Him, from Him they grow: know this for certain, and have no fear.
Hear from me the tidings of this great truth!
Whose name do you sing, and on whom do you meditate? O, come forth from this entanglement!
He dwells at the heart of all things, so why take refuge in empty desolation?
If you place the Gum at a distance from you, then it is but the distance that you honour:
If indeed the Master be far away, then who is it else that is creating this world?
When you think that He is not here, then you wander further and further away, and seek Him in vain with tears.
Where He is far off, there He is unattainable: where He is near. He is very bliss.
Kabir says: 'Lest His servant should suffer pain He pervades him through and through.'
Know yourself then, O Kabir; for He is in you from head to foot,
Sing with gladness, and keep your seat unmoved within your heart.
আরো দেখুন
পরিশিষ্ট
Stories
(ছোটো গল্প)
সাহিত্যে বড়ো গল্প ব'লে যে-সব প্রগল্‌ভ বাণীবাহন দেখা যায় তারা প্রাক্‌ভূতাত্ত্বিক যুগের প্রাণীদের মতো-- তাদের প্রাণের পরিমাণ যত দেহের পরিমাণ তার চার গুণ, তাদের লেজটা কলেবরের অত্যুক্তি।
আরো দেখুন
পুরাতন
Verses
                   হেথা হতে যাও, পুরাতন।
               হেথায় নূতন খেলা আরম্ভ হয়েছে।
          আবার বাজিছে বাঁশি,    আবার উঠিছে হাসি,
                   বসন্তের বাতাস বয়েছে।
সুনীল আকাশ- 'পরে               শুভ্র মেঘ থরে থরে
          শ্রান্ত যেন রবির আলোকে,
পাখিরা ঝাড়িছে পাখা,            কাঁপিছে তরুর শাখা,
          খেলাইছে বালিকা বালকে।
সমুখের সরোবরে                 আলো ঝিকিমিকি করে,
          ছায়া কাঁপিতেছে থরথর,
জলের পানেতে চেয়ে             ঘাটে বসে আছে মেয়ে,
          শুনিছে পাতার মরমর।
কী জানি কত কী আশে           চলিয়াছে চারি পাশে
          কত লোক কত সুখে দুখে,
সবাই তো ভুলে আছে,           কেহ হাসে কেহ নাচে,
          তুমি কেন দাঁড়াও সমুখে।
বাতাস যেতেছে বহি,              তুমি কেন রহি রহি
          তারি মাঝে ফেল দীর্ঘশ্বাস।
সুদূরে বাজিছে বাঁশি,              তুমি কেন ঢাল আসি
          তারি মাঝে বিলাপ-উচ্ছ্বাস।
উঠেছে প্রভাত-রবি,               আঁকিছে সোনার ছবি,
          তুমি কেন ফেল তাহে ছায়া।
বারেক যে চলে যায়              তারে তো কেহ না চায়,
          তবু তার কেন এত মায়া।
তবু কেন সন্ধ্যাকালে              জলদের অন্তরালে
          লুকায়ে ধরার পানে চায়--
নিশীথের অন্ধকারে                পুরানো ঘরের দ্বারে
          কেন এসে পুন ফিরে যায়।
কী দেখিতে আসিয়াছ!           যাহা কিছু ফেলে গেছ
          কে তাদের করিবে যতন।
স্মরণের চিহ্ন যত                 ছিল পড়ে দিন-কত
          ঝরে-পড়া পাতার মতন
আজি বসন্তের বায়                 একেকটি করে হায়
          উড়ায়ে ফেলিছে প্রতিদিন
ধূলিতে মাটিতে রহি               হাসির কিরণে দহি
          ক্ষণে ক্ষণে হতেছে মলিন।
ঢাকো তবে ঢাকো মুখ,           নিয়ে যাও দুঃখ সুখ,
          চেয়ো না চেয়ো না ফিরে ফিরে।
হেথায় আলয় নাহি,               অনন্তের পানে চাহি
          আঁধারে মিলাও ধীরে ধীরে।
আরো দেখুন
অতিবাদ
Verses
আজ বসন্তে বিশ্বখাতায়
হিসেব নেইকো পুষ্পে পাতায়,
জগৎ যেন ঝোঁকের মাথায়
     সকল কথাই বাড়িয়ে বলে।
ভুলিয়ে দিয়ে সত্যি মিথ্যে,
ঘুলিয়ে দিয়ে নিত্যানিত্যে,
দু ধারে সব উদারচিত্তে
     বিধিবিধান ছাড়িয়ে চলে।
                  আমারো দ্বার মুক্ত পেয়ে
                       সাধুবুদ্ধি বহির্গতা,
                  আজকে আমি কোনোমতেই
                       বলব নাকো সত্য কথা।
প্রিয়ার পুণ্যে হলেম রে আজ
একটা রাতের রাজ্যাধিরাজ,
ভাণ্ডারে আজ করছে বিরাজ
     সকল প্রকার অজস্রত্ব।
কেন রাখব কথার ওজন?
কৃপণতায় কোন্‌ প্রয়োজন?
ছুটুক বাণী যোজন যোজন
     উড়িয়ে দিয়ে ষত্ব ণত্ব।
                  চিত্তদুয়ার মুক্ত ক'রে
                        সাধুবুদ্ধি বহির্গতা,
                 আজকে আমি কোনোমতেই
                        বলব নাকো সত্য কথা।
হে প্রেয়সী স্বর্গদূতী,
আমার যত কাব্যপুঁথি
তোমার পায়ে পড়ে স্তুতি,
তোমারি নাম বেড়ায় রটি;
থাকো হৃদয়-পদ্মটিতে
এক দেবতা আমার চিতে--
চাই নে তোমায় খবর দিতে
     আরো আছেন তিরিশ কোটি।
                 চিত্তদুয়ার মুক্ত ক'রে
                      সাধুবুদ্ধি বহির্গতা,
                 আজকে আমি কোনোমতেই
                       বলব নাকো সত্য কথা।
ত্রিভুবনে সবার বাড়া
একলা তুমি সুধার ধারা,
উষার ভালে একটি তারা,
     এ জীবনে একটি আলো--
সন্ধ্যাতারা ছিলেন কে কে
সে-সব কথা যাব ঢেকে,
সময় বুঝে মানুষ দেখে
     তুচ্ছ কথা ভোলাই ভালো।
                চিত্তদুয়ার মুক্ত রেখে
                     সাধুবুদ্ধি বহির্গতা,
                আজকে আমি কোনোমতেই
                    বলব নাকো সত্য কথা।
সত্য থাকুন ধরিত্রীতে
শুষ্ক রুক্ষ ঋষির চিতে,
জ্যামিতি আর বীজগণিতে,
     কারো ইথে আপত্তি নেই--
কিন্তু আমার প্রিয়ার কানে
এবং আমার কবির গানে
পঞ্চশরের পুষ্পবাণে
     মিথ্যে থাকুন রাত্রিদিনেই।
                চিত্তদুয়ার মুক্ত রেখে
                     সাধুবুদ্ধি বহির্গতা,
                আজকে আমি কোনোমতেই
                    বলব নাকো সত্য কথা।
ওগো সত্য বেঁটেখাটো,
বীণার তন্ত্রী যতই ছাঁটো,
কণ্ঠ আমার যতই আঁটো,
     বলব তবু উচ্চ সুরে--
আমার প্রিয়ার মুগ্ধ দৃষ্টি
করছে ভুবন নূতন সৃষ্টি,
মুচকি হাসির সুধার বৃষ্টি
     চলছে আজি জগৎ জুড়ে।
                 চিত্তদুয়ার মুক্ত রেখে
                      সাধুবুদ্ধি বহির্গতা,
                 আজকে আমি কোনোমতেই
                     বলব নাকো সত্য কথা।
যদি বল "আর বছরে
এই কথাটাই এমনি করে
বলেছিলি, কিন্তু ওরে
     শুনেছিলেন আরেক জনে'--
জেনো তবে মূঢ়মত্ত,
আর বসন্তে সেটাই সত্য,
এবারো সেই প্রাচীন তত্ত্ব
ফুটল নূতন চোখের কোণে।
                  চিত্তদুয়ার মুক্ত রেখে    
                       সাধুবুদ্ধি বহির্গতা,
                  আজকে আমি কোনোমতেই
                       বলব নাকো সত্য কথা।
আজ বসন্তে বকুল ফুলে
যে গান বায়ু বেড়ায় বুলে
কাল সকালে যাবে ভুলে--
      কোথায় বাতাস, কোথায় সে ফুল!
হে সুন্দরী, তেমনি কবে
এ-সব কথা ভুলব যবে
মনে রেখো আমায় তবে--
     ক্ষমা কোরো আমার সে ভুল।
                  চিত্তদুয়ার মুক্ত রেখে
                       সাধুবুদ্ধি বহির্গতা,
                  আজকে আমি কোনোমতেই
                       বলব নাকো সত্য কথা।
আরো দেখুন
দানপ্রতিদান
Stories
বড়োগিন্নি যে কথাগুলা বলিয়া গেলেন, তাহার ধার যেমন তাহার বিষও তেমনি। যে-হতভাগিনীর উপর প্রয়োগ করিয়া গেলেন, তাহার চিত্তপুত্তলি একেবারে জ্বলিয়া জ্বলিয়া লুটিতে লাগিল।
বিশেষত, কথাগুলা তাহার স্বামীর উপর লক্ষ্য করিয়া বলা-- এবং স্বামী রাধামুকুন্দ তখন রাত্রের আহার সমাপন করিয়া অনতিদূরে বসিয়া তাম্বুলের সহিত তাম্রকূটধূম সংযোগ করিয়া খাদ্যপরিপাকে প্রবৃত্ত ছিলেন। কথাগুলো শ্রুতিপথে প্রবেশ করিয়া তাঁহার পরিপাকের যে বিশেষ ব্যাঘাত করিল, এমন বোধ হইল না। অবিচলিত গাম্ভীর্যের সহিত তাম্রকূট নিঃশেষ করিয়া অভ্যাসমত যথাকালে শয়ন করিতে গেলেন।
আরো দেখুন
63
Verses
তব কন্ঠে বাসা যদি পায় মোর গান
আমার সে দান, কিংবা তোমারই সে দান?
আরো দেখুন
রথযাত্রা
Stories
রথযাত্রার দিন কাছে।
তাই রানী রাজাকে বললে, 'চলো, রথ দেখতে যাই।'
আরো দেখুন
মাল্যদান
Stories
সকালবেলায় শীত-শীত ছিল। দুপুরবেলায় বাতাসটি অল্প-একটু তাতিয়া উঠিয়া দক্ষিণ দিক হইতে বহিতে আরম্ভ করিয়াছে।
যতীন যে বারান্দায় বসিয়া ছিল সেখান হইতে বাগানের এক কোণে এক দিকে একটি কাঁঠাল ও আর-এক দিকে একটি শিরীষগাছের মাঝখানের ফাঁক দিয়া বাহিরের মাঠ চোখে পড়ে। সেই শূন্য মাঠ ফাল্গুনের রৌদ্রে ধুধু করিতেছিল। তাহারই একপ্রান্ত দিয়া কাঁচা পথ চলিয়া গেছে -- সেই পথ বাহিয়া বোঝাই-খালাস গোরুর গাড়ি মন্দগমনে গ্রামের দিকে ফিরিয়া চলিয়াছে, গাড়োয়ান মাথায় গামছা ফেলিয়া অত্যন্ত বেকারভাবে গান গহিতেছে।
আরো দেখুন