শেষ পুরস্কার
Stories
সেদিন আই.এ. এবং ম্যাট্রিক ক্লাসের পুরস্কারবিতরণের উৎসব। বিমলা ব'লে এক ছাত্রী ছিল, সুন্দরী ব'লে তার খ্যাতি। তারই হাতে পুরস্কারের ভার। চার দিকে তার ভিড় জমেছে আর তার মনে অহংকার জমে উঠেছে খুব প্রচুর পরিমাণে। একটি মুখচোরা ভালোমানুষ ছেলে কোণে দাঁড়িয়ে ছিল। সাহস করে একটু কাছে এল যেই, দেখা গেল তার পায়ে হয়েছে ঘা, ময়লা কাপড়ের ব্যাণ্ডেজ জড়ানো। তাকে দেখে বিমলা নাক তুলে বললে, 'ও এখানে কেন বাপু, ওর যাওয়া উচিত হাসপাতালে।'
ছেলেটি মন-মরা হয়ে আস্তে আস্তে চলে গেল। বাড়িতে গিয়ে তার স্কুলঘরের কোণে বসে কাঁদছে, জলখাবারের থালা হাতে তার দিদি এসে বললে, 'ও কী হচ্ছে জগদীশ, কাঁদছিস কেন।'
আরো দেখুন
অপরিচিতা
Stories
আজ আমার বয়স সাতাশ মাত্র। এ জীবনটা না দৈর্ঘ্যের হিসাবে বড়ো, না গুণের হিসাবে। তবু ইহার একটু বিশেষ মূল্য আছে। ইহা সেই ফুলের মতো যাহার বুকের উপরে ভ্রমর আসিয়া বসিয়াছিল, এবং সেই পদক্ষেপের ইতিহাস তাহার জীবনের মাঝখানে ফলের মতো গুটি ধরিয়া উঠিয়াছে।
সেই ইতিহাসটুকু আকারে ছোটো, তাহাকে ছোটো করিয়াই লিখিব। ছোটোকে যাঁহারা সামান্য বলিয়া ভুল করেন না তাঁহারা ইহার রস বুঝিবেন।
আরো দেখুন
আপদ
Stories
সন্ধ্যার দিকে ঝড় ক্রমশ প্রবল হইতে লাগিল। বৃষ্টির ঝাপট, বজ্রের শব্দ এবং বিদ্যুতের ঝিকমিকিতে আকাশে যেন সুরাসুরের যুদ্ধ বাধিয়া গেল। কালো কালো মেঘগুলো মহাপ্রলয়ের জয়পতাকার মতো দিগ্‌বিদিকে উড়িতে আরম্ভ করিল, গঙ্গার এপারে ওপারে বিদ্রোহী ঢেউগুলো কলশব্দে নৃত্য জুড়িয়া দিল, এবং বাগানের বড়ো বড়ো গাছগুলো সমস্ত শাখা ঝট্‌পট্‌ করিয়া হাহুতাশ সহকারে দক্ষিণে বামে লুটোপুটি করিতে লাগিল।
তখন চন্দননগরের বাগানবাড়িতে একটি দীপালোকিত রুদ্ধকক্ষে খাটের সম্মুখবর্তী নীচের বিছানায় বসিয়া স্ত্রী-পুরুষে কথাবার্তা চলিতেছিল।
আরো দেখুন
74
Verses
THE DAY is no more, the shadow is upon the earth. It is time that I go to the stream to fill my pitcher.
The evening air is eager with the sad music of the water. Ah, it calls me out into the dusk. In the lonely lane there is no passer by, the wind is up, the ripples are rampant in the river.
I know not if I shall come back home. I know not whom I shall chance to meet. There at the fording in the little boat the unknown man plays upon his lute.
আরো দেখুন
বিজ্ঞানী
Stories
দাদামশায়, নীলমণিবাবুকে তোমার এত কেন ভালো লাগে আমি তো বুঝতে পারি নে।
এই প্রশ্নটা পৃথিবীর সবচেয়ে শক্ত প্রশ্ন, এর ঠিক উত্তর ক'জন লোকে দিতে পারে।
আরো দেখুন
গলি
Stories
আমাদের এই শানবাঁধানো গলি, বারে বারে ডাইনে বাঁয়ে এঁকে বেঁকে একদিন কী যেন খুঁজতে বেরিয়েছিল। কিন্তু, সে যে দিকেই যায় ঠেকে যায়। এ দিকে বাড়ি, ও দিকে বাড়ি, সামনে বাড়ি।
উপরের দিকে যেটুকু নজর চলে তাতে সে একখানি আকাশের রেখা দেখতে পায়-- ঠিক তার নিজেরই মতো সরু, তার নিজেরই মতো বাঁকা।
আরো দেখুন
বিদূষক
Stories
কাঞ্চীর রাজা কর্ণাট জয় করতে গেলেন। তিনি হলেন জয়ী। চন্দনে, হাতির দাঁতে, আর সোনামানিকে হাতি বোঝাই হল।
দেশে ফেরবার পথে বলেশ্বরীর মন্দির বলির রক্তে ভাসিয়ে দিয়ে রাজা পুজো দিলেন।
আরো দেখুন
অস্পষ্ট
Stories
জানলার ফাঁকে ফাঁকে দেখা যায় সামনের বাড়ির জীবনযাত্রা। রেখা আর ছেদ, দেখা আর না-দেখা দিয়ে সেই ছবি আঁকা।
একদিন পড়ার বই পড়ে রইল, বনমালীর চোখ গেল সেই দিকে।
আরো দেখুন
নাম্নী - মুরতি
Verses
যে শক্তির নিত্যলীলা নানা বর্ণে আঁকা,
     যে গুণী প্রজাপতির পাখা
          যুগ যুগ ধ্যান করি একদা কী খনে
     রচিল অপূর্ব চিত্রে বিচিত্র লিখনে--
                   এই নারী
          রচনা তাহারি।
এ শুধু কালের খেলা
          এর দেহ কী আলস্যে বিধাতা একেলা
                   রচিলেন সন্ধ্যাকালে
          আপনার অর্থহীন ক্ষণিক খেয়ালে--
                    যে-লগনে
              কর্মহীন ক্লান্তক্ষণে
     মেঘের মহিমামায়া মুহূর্তেই মুগ্ধ করি আঁখি
     অন্ধরাত্রে বিনা ক্ষোভে যায় মুখ ঢাকি।
          শরতে নদীর জলে যে-ভঙ্গিমা,
     বৈশাখে দাড়িম্ববনে যে-রাগরঙ্গিমা
                   যৌবনের দাপে
          অবজ্ঞাকটাক্ষ হানে মধ্যাহ্নের তাপে,
          শ্রাবণের বন্যাতলে হারা
          ভেসে-যাওয়া শৈবালের যে নৃত্যের ধারা,
     মাঘশেষে অশ্বত্থের কচি পাতাগুলি
          যে চাঞ্চল্যে উঠে দুলি,
     হেমন্তের প্রভাতবাতাসে
  শিশিরে যে ঝিলিমিলি ঘাসে ঘাসে,
প্রথম আষাঢ়দিনে গুরু গুরু রবে
ময়ূরের পুচ্ছপুঞ্জ উল্লসিয়া উঠে যে গৌরবে
          তাই দিয়ে রচিত সুন্দরী--
     লতা যেন নারী হয়ে দিল চক্ষু ভরি।
রঙিন বুদ্‌বুদ্‌ সে কি, ইন্দ্রধনুবুঝি,
     অন্তর না পাই খুঁজি--
          সকলি বাহির,
              চিত্ত অগভীর।
   কারো পথ চেয়ে নাহি থাকে,
কারে-না-পাওয়ার দুঃখ মনে নাহি রাখে।
              মুগ্ধ প্রাণ-উপহার
অনায়াসে নেয়, আর অনায়াসে ভোলে দায় তার।
ভুবনে যেখানে যত নয়নের আনন্দলহরী
     তাই দেখা দিতে এল নারীমূর্তি ধরি।
সরস্বতী রচিলেন মন তার কোন্‌ অবসরে
     রাগহীন বাণীহীন গুঞ্জনের স্বরে;
অমৃতে-মাটিতে-মেশা সৃজনের এ কোন্‌ সুরতি--
                   নাম কি মুরতি।
আরো দেখুন
পাড়াতে এসেছে এক
Verses
পাড়াতে এসেছে এক
     নাড়িটেপা ডাক্তার,
দূর থেকে দেখা যায়
     অতি উঁচু নাক তার।
নাম লেখে ওষুধের,
এ দেশের পশুদের
সাধ্য কী পড়ে তাহা
     এই বড়ো জাঁক তার।
যেথা যায় বাড়ি বাড়ি
দেখে যে ছেড়েছে নাড়ী,
পাওনাটা আদায়ের
     মেলে না যে ফাঁক তার।
গেছে নির্বাকপুরে
     ভক্তের ঝাঁক তার।
আরো দেখুন
সংস্কার
Stories
চিত্রগুপ্ত এমন অনেক পাপের হিসাব বড়ো অক্ষরে তাঁর খাতায় জমা করেন যা থাকে পাপীর নিজের অগোচরে। তেমনি এমন পাপও ঘটে যাকে আমিই চিনি পাপ বলে, আর-কেউ না। যেটার কথা লিখতে বসেছি সেটা সেই জাতের। চিত্রগুপ্তের কাছে জবাবদিহি করবার পূর্বে আগে-ভাগে কবুল করলে অপরাধের মাত্রাটা হাল্‌কা হবে।
ব্যাপারটা ঘটেছিল কাল শনিবার দিনে। সেদিন আমাদের পাড়ায় জৈনদের মহলে কী একটা পরব ছিল। আমার স্ত্রী কলিকাকে নিয়ে মোটরে করে বেরিয়েছিলুম-- চায়ের নিমন্ত্রণ ছিল বন্ধু নয়নমোহনের বাড়িতে।
আরো দেখুন
স্বপ্নে দেখি নৌকো আমার
Verses
স্বপ্নে দেখি নৌকো আমার
          নদীর ঘাটে বাঁধা;
নদী কিম্বা আকাশ সেটা
          লাগল মনে ধাঁধাঁ।
               এমন সময় হঠাৎ দেখি,
            দিক্‌সীমানায় গেছে ঠেকি
          একটুখানি ভেসে-ওঠা
                    ত্রয়োদশীর চাঁদা।
          'নৌকোতে তোর পার করে দে'
               এই ব'লে তার কাঁদা।
          আমি বলি, 'ভাবনা কী তায়,
     আকাশপারে নেব মিতায়--
কিন্তু আমি ঘুমিয়ে আছি
        এই যে বিষম বাধা,
দেখছ আমার চতুর্দিকটা
        স্বপ্নজালে ফাঁদা।'
আরো দেখুন