ভোর থেকে আজ
Songs
ভোর থেকে আজ বাদল ছুটেছে-- আয় গো আয়।
কাঁচা রোদখানি পড়েছে বনের ভিজে পাতায়॥
     ঝিকি ঝিকি করি কাঁপিতেছে বট--
     ওগো ঘাটে আয়, নিয়ে আয় ঘট--
পথের দু ধারে শাখে শাখে আজি পাখিরা গায়॥
তপন-আতপে আতপ্ত হয়ে উঠেছে বেলা,
     কলস পাকড়ি আঁকড়িয়া বুকে
     ভরা জলে তোরা ভেসে যাবি সুখে
তিমিরনিবিড় ঘনঘোরে ঘুমে স্বপনপ্রায়-- আয় গো আয়॥
মেঘ ছুটে গেল, নাই গো বাদল-- আয় গো আয়।
আজিকে সকালে শিথিল কোমল বহিছে বায়-- আয় গো আয়।
          এ ঘাট হইতে ও ঘাটে তাহার
          কথা বলাবলি নাহি চলে আর,
একাকার হল তীরে আর নীরে তাল-তলায়--   আয় গো আয়॥
আরো দেখুন
The Victory
Stories
SHE WAS THE Princess Ajita. And the court poet of King Narayan had never seen her. On the day he recited a new poem to the king he would raise his voice just to that pitch which could be heard by unseen hearers in the screened balcony high above the hall. He sent up his song towards the star-land out of his reach, where, circled with light, the planet who ruled his destiny shone unknown and out of ken.
He would espy some shadow moving behind the veil. A tinkling sound would come to his ear from afar, and would set him dreaming of the ankles whose tiny golden bells sang at each step. Ah, the rosy red tender feet that walked the dust of the earth like God's mercy on the fallen! The poet had placed them on the altar of his heart, where he wove his songs to the tune of those golden bells. Doubt never arose in his mind as to whose shadow it was that moved behind the screen, and whose anklets they were that sang to the time of his beating heart.
আরো দেখুন
গুপ্তধন
Stories
অমাবস্যার নিশীথ রাত্রি। মৃত্যুঞ্জয় তান্ত্রিক মতে তাহাদের বহুকালের গৃহদেবতা জয়কালীর  পূজায় বসিয়াছে। পূজা সমাধা করিয়া যখন  উঠিল তখন  নিকটস্থ  আমবাগান হইতে প্রত্যুষের প্রথম কাক ডাকিল।
মৃত্যুঞ্জয়  পশ্চাতে ফিরিয়া  চাহিয়া দেখিলেন মন্দিরের দ্বার রূদ্ধ রহিয়াছে।  তখন সে একবার দেবীর চরণতলে মস্তক  ঠেকাইয়া তাঁহার  আসন সরাইয়া দিল।  সেই আসনের নীচে হইতে  একটি  কাঁঠালকাঠের বাক্স  বাহির হইল।  পৈতায়  চাবি  বাঁধা  ছিল।  সেই চাবি লাগাইয়া  মৃত্যুঞ্জয়  বাক্সটি খুলিল।   খুলিবামাত্রই  চমকিয়া  উঠিয়া  মাথায়ে  করাঘাত করিল।
আরো দেখুন
এত ফুল কে ফোটালে কাননে
Songs
            এত ফুল কে ফোটালে    কাননে !
            লতাপাতায় এত হাসি   -তরঙ্গ মরি কে ওঠালে।।
            সজনীর বিয়ে হবে   ফুলেরা শুনেছে সবে—
                  সে কথা কে রটালে।।
আরো দেখুন
বদনাম
Stories
ক্রিং ক্রিং ক্রিং সাইকেলের আওয়াজ; সদর দরজার কাছে লাফ দিয়ে নেমে পড়লেন ইন্‌স্‌পেক্টার বিজয়বাবু। গায়ে ছাঁটা কোর্তা, কোমরে কোমরবন্ধ, হাফ-প্যাণ্টপরা, চলনে কেজো লোকের দাপট। দরজার কড়া নাড়া দিতেই গিন্নি এসে খুলে দিলেন।
ইন্‌স্‌পেক্টার ঘরে ঢুকতে না ঢুকতেই ঝংকার দিয়ে উঠলেন--'এমন করে তো আর পারি নে, রাত্তিরের পর রাত্তির খাবার আগলে রাখি! তুমি কত চোর ডাকাত ধরলে, সাধু সজ্জনও বাদ গেল না, আর ঐ একটা লোক অনিল মিত্তিরের পিছন পিছন তাড়া করে বেড়াচ্ছ, সে থেকে থেকে তোমার সামনে এসে নাকের উপর বুড়ো আঙুল নাড়া দিয়ে কোথায় দৌড় মারে তার ঠিকানা নেই। দেশসুদ্ধ লোক তোমার এই দশা দেখে হেসে খুন, এ যেন সার্কাসের খেলা হচ্ছে।'
আরো দেখুন
সন্ধ্যা ও প্রভাত
Stories
এখানে নামল সন্ধ্যা। সূর্যদেব, কোন্‌ দেশে, কোন্‌ সমুদ্রপারে, তোমার প্রভাত হল।
অন্ধকারে এখানে কেঁপে উঠছে রজনীগন্ধা, বাসরঘরের দ্বারের কাছে অবগুণ্ঠিতা নববধূর মতো; কোন্‌খানে ফুটল ভোরবেলাকার কনকচাঁপা।
আরো দেখুন
বৈশাখে
Verses
   তপ্ত হাওয়া দিয়েছে আজ
              আমলাগাছের কচি পাতায়,
   কোথা থেকে ক্ষণে ক্ষণে
              নিমের ফুলে গন্ধে মাতায়।
   কেউ কোথা নেই মাঠের 'পরে,
   কেউ কোথা নেই শূন্য ঘরে,
   আজ দুপুরে আকাশতলে
              রিমিঝিমি নূপুর বাজে।
   বারে বারে ঘুরে ঘুরে
   মৌমাছিদের গুঞ্জসুরে
   কার চরণের নৃত্য যেন
              ফিরে আমার বুকের মাঝে।
   রক্তে আমার তালে তালে
              রিমিঝিমি নূপুর বাজে।
   ঘন মহুল-শাখার মতো
              নিশ্বসিয়া উঠিছে প্রাণ,
   গায়ে আমার লেগেছে কার
              এলোচুলের সুদূর ঘ্রাণ।
আজি রোদের প্রখর তাপে
   বাঁধের জলে আলো কাঁপে,
   বাতাস বাজে মর্মরিয়া
              সারি-বাঁধা তালের বনে।
   আমার মনের মরীচিকা
   আকাশপারে পড়ল লিখা,
   লক্ষ্যবিহীন দূরের 'পরে
              চেয়ে আছি আপন-মনে।
   অলস ধেনু চরে বেড়ায়
              সারি-বাঁধা তালের বনে।
   আজিকার এই তপ্ত দিনে
              কাটল বেলা এমনি করে,
   গ্রামের ধারে ঘাটের পথে
              এল গভীর ছায়া পড়ে।
   সন্ধ্যা এখন পড়ছে হেলে
   শালবনেতে আঁচল মেলে,
   আঁধার-ঢালা দিঘির ঘাটে
              হয়েছে শেষ কলস ভরা।
   মনের কথা কুড়িয়ে নিয়ে
   ভাবি মাঠের মধ্যে গিয়ে--
   সারা দিনের অকাজে আজ
              কেউ কি মোরে দেয় নি ধরা।
   আমার কি মন শূন্য, যখন
              হল বধূর কলস ভরা।
আরো দেখুন
স্বর্গ-মর্ত
Stories
গান
মাটির প্রদীপখানি আছে
আরো দেখুন
রঙরেজিনী
Verses
শঙ্করলাল দিগ্‌বিজয়ী পণ্ডিত।
           শাণিত তাঁর বুদ্ধি
                   শ্যেনপাখির চঞ্চুর মতো,
    বিপক্ষের যুক্তির উপর পড়ে বিদ্যুদ্‌বেগে--
                   তার পক্ষ দেয় ছিন্ন করে,
                       ফেলে তাকে ধুলোয়।
রাজবাড়িতে নৈয়ায়িক এসেছে দ্রাবিড় থেকে।
    বিচারে যার জয় হবে সে পাবে রাজার জয়পত্রী।
        আহ্বান স্বীকার করেছেন শঙ্কর,
এমন সময় চোখে পড়ল পাগড়ি তাঁর মলিন।
           গেলেন রঙরেজির ঘরে।
কুসুমফুলের খেত, মেহেদিবেড়ায় ঘেরা।
        প্রান্তে থাকে জসীম রঙরেজি।
মেয়ে তার আমিনা, বয়স তার সতেরো।
        সে গান গায় আর রঙ বাঁটে,
               রঙের সঙ্গে রঙ মেলায়।
বেণীতে তার লাল সুতোর ঝালর,
        চোলি তার বাদামি রঙের,
           শাড়ি তার আশমানি।
বাপ কাপড় রাঙায়,
        রঙের বাটি জুগিয়ে দেয় আমিনা।
শঙ্কর বললেন, জসীম,
        পাগড়ি রাঙিয়ে দাও জাফরানি রঙে,
               রাজসভায় ডাক পড়েছে।
কুল্‌ কুল্‌ করে জল আসে নালা বেয়ে কুসুমফুলের খেতে;
আমিনা পাগড়ি ধুতে গেল নালার ধারে তুঁত গাছের ছায়ায় বসে।
ফাগুনের রৌদ্র ঝলক দেয় জলে,
        ঘুঘু ডাকে দূরের আমবাগানে।
    ধোওয়ার কাজ হল, প্রহর গেল কেটে।
পাগড়ি যখন বিছিয়ে দিল ঘাসের 'পরে
    রঙরেজিনী দেখল তারি কোণে
        লেখা আছে একটি শ্লোকের একটি চরণ--
           "তোমার শ্রীপদ মোর ললাটে বিরাজে'।
        বসে বসে ভাবল অনেক ক্ষণ,
    ঘুঘু ডাকতে লাগল আমের ডালে।
রঙিন সুতো ঘরের থেকে এনে
    আরেক চরণ লিখে দিল--
        "পরশ পাই নে তাই হৃদয়ের মাঝে'।
        দুদিন গেল কেটে।
    শঙ্কর এল রঙরেজির ঘরে।
শুধালো, পাগড়িতে কার হাতের লেখা?
           জসীমের ভয় লাগল মনে।
        সেলাম করে বললে, "পণ্ডিতজি,
               অবুঝ আমার মেয়ে,
                   মাপ করো ছেলেমানুষি।
           চলে যাও রাজসভায়--
সেখানে এ লেখা কেউ দেখবে না, কেউ বুঝবে না।'
    শঙ্কর আমিনার দিকে চেয়ে বললে,
           "রঙরেজিনী,
অহংকারের-পাকে-ঘেরা ললাট থেকে নামিয়ে এনেছ
    শ্রীচরণের স্পর্শখানি হৃদয়তলে
        তোমার হাতের রাঙা রেখার পথে।
           রাজবাড়ির পথ আমার হারিয়ে গেল,
                   আর পাব না খুঁজে।'
আরো দেখুন
পরিশিষ্ট
Stories
(ছোটো গল্প)
সাহিত্যে বড়ো গল্প ব'লে যে-সব প্রগল্‌ভ বাণীবাহন দেখা যায় তারা প্রাক্‌ভূতাত্ত্বিক যুগের প্রাণীদের মতো-- তাদের প্রাণের পরিমাণ যত দেহের পরিমাণ তার চার গুণ, তাদের লেজটা কলেবরের অত্যুক্তি।
আরো দেখুন
অধ্যাপক
Stories
কলেজে আমার সহপাঠীসম্প্রদায়ের মধ্যে আমার একটু বিশেষ প্রতিপত্তি ছিল। সকলেই আমাকে সকল বিষয়েই সমজদার বলিয়া মনে করিত।
ইহার প্রধান কারণ, ভুল হউক আর ঠিক হউক, সকল বিষয়েই আমার একটা মতামত ছিল। অধিকাংশ লোকেই হাঁ এবং না জোর করিয়া বলিতে পারে না, আমি সেটা খুব বলিতাম।
আরো দেখুন
নতুন পুতুল
Stories
এই গুণী কেবল পুতুল তৈরি করত; সে পুতুল রাজবাড়ির মেয়েদের খেলার জন্যে।
বছরে বছরে রাজবাড়ির আঙিনায় পুতুলের মেলা বসে। সেই মেলায় সকল কারিগরই এই গুণীকে প্রধান মান দিয়ে এসেছে।
আরো দেখুন
দালিয়া
Stories
পরাজিত শা সুজা ঔরঞ্জীবের ভয়ে পলায়ন করিয়া আরাকান-রাজের আতিথ্য গ্রহণ করেন। সঙ্গে তিন সুন্দরী কন্যা ছিল। আরাকান-রাজের ইচ্ছা হয়, রাজপুত্রদের সহিত তাহাদের বিবাহ দেন। সেই প্রস্তাবে শা সুজা নিতান্ত অসন্তোষ প্রকাশ করাতে একদিন রাজার আদেশে তাঁহাকে ছলক্রমে নৌকাযোগে নদীমধ্যে লইয়া নৌকা ডুবাইয়া দিবার চেষ্টা করা হয়। সেই বিপদের সময় কনিষ্ঠা বালিকা আমিনাকে পিতা স্বয়ং নদীমধ্যে নিক্ষেপ করেন। জ্যেষ্ঠা কন্যা আত্মহত্যা করিয়া মরে। এবং সুজার একটি বিশ্বাসী কর্মচারী রহমত আলি জুলিখাকে লইয়া সাঁতার দিয়া পালায়, এবং সুজা যুদ্ধ করিতে করিতে মরেন।
আমিনা খরস্রোতে প্রবাহিত হইয়া দৈবক্রমে অনতিবিলম্বে এক ধীবরের জালে উদ্‌ধৃত হয় এবং তাহারই গৃহে পালিত হইয়া বড়ো হইয়া উঠে।
আরো দেখুন