দানপ্রতিদান
Stories
বড়োগিন্নি যে কথাগুলা বলিয়া গেলেন, তাহার ধার যেমন তাহার বিষও তেমনি। যে-হতভাগিনীর উপর প্রয়োগ করিয়া গেলেন, তাহার চিত্তপুত্তলি একেবারে জ্বলিয়া জ্বলিয়া লুটিতে লাগিল।
বিশেষত, কথাগুলা তাহার স্বামীর উপর লক্ষ্য করিয়া বলা-- এবং স্বামী রাধামুকুন্দ তখন রাত্রের আহার সমাপন করিয়া অনতিদূরে বসিয়া তাম্বুলের সহিত তাম্রকূটধূম সংযোগ করিয়া খাদ্যপরিপাকে প্রবৃত্ত ছিলেন। কথাগুলো শ্রুতিপথে প্রবেশ করিয়া তাঁহার পরিপাকের যে বিশেষ ব্যাঘাত করিল, এমন বোধ হইল না। অবিচলিত গাম্ভীর্যের সহিত তাম্রকূট নিঃশেষ করিয়া অভ্যাসমত যথাকালে শয়ন করিতে গেলেন।
আরো দেখুন
তোমার মোহন রূপে
Songs
তোমার   মোহন রূপে কে রয় ভুলে।
জানি না কি মরণ নাচে, নাচে গো ওই চরণমূলে॥
     শরৎ-আলোর আঁচল টুটে   কিসের ঝলক নেচে উঠে,
                   ঝড় এনেছ এলোচুলে॥
              কাঁপন ধরে বাতাসেতে--
পাকা ধানের তরাস লাগে, শিউরে ওঠে ভরা ক্ষেতে।
     জানি গো আজ হাহারবে   তোমার পূজা সারা হবে
                   নিখিল অশ্রু-সাগর কূলে॥
আরো দেখুন
রাজার বাড়ি
Stories
কুসমি জিগেস করলে, দাদামশায়, ইরুমাসির বোধ হয় খুব বুদ্ধি ছিল।
ছিল বই-কি, তোর চেয়ে বেশি ছিল।
আরো দেখুন
যদি জানতেম আমার কিসের
Songs
যদি    জানতেম আমার কিসের ব্যথা তোমায় জানাতাম।
     কে যে আমায় কাঁদায় আমি কী জানি তার নাম॥
     কোথায় যে হাত বাড়াই মিছে,    ফিরি আমি কাহার পিছে--
          সব যেন মোর বিকিয়েছে, পাই নি তাহার দাম॥
     এই বেদনার ধন সে কোথায় ভাবি জনম ধ'রে।
     ভুবন ভরে আছে যেন, পাই নে জীবন ভরে।
     সুখ যারে কয় সকল জনে    বাজাই তারে ক্ষণে ক্ষণে--
          গভীর সুরে "চাই নে' "চাই নে' বাজে অবিশ্রাম॥
আরো দেখুন
নষ্টনীড়
Stories
ভূপতির কাজ করিবার কোনো দরকার ছিল না। তাঁহার টাকা যথেষ্ট ছিল, এবং দেশটাও গরম। কিন্তু গ্রহবশত তিনি কাজের লোক হইয়া জন্মগ্রহণ করিয়াছিলেন। এইজন্য তাঁহাকে একটা ইংরেজি খবরের কাগজ বাহির করিতে হইল। ইহার পরে সময়ের দীর্ঘতার জন্য তাঁহাকে আর বিলাপ করিতে হয় নাই।
ছেলেবেলা হইতে তাঁর ইংরেজি লিখিবার এবং বক্তৃতা দিবার শখ ছিল। কোনোপ্রকার প্রয়োজন না থাকিলেও ইংরেজি খবরের কাগজে তিনি চিঠি লিখিতেন, এবং বক্তব্য না থাকিলেও সভাস্থলে দু-কথা না বলিয়া ছাড়িতেন না।
আরো দেখুন
চলি গো, চলি
Songs
    চলি গো, চলি গো, যাই গো চলে।
    পথের প্রদীপ জ্বলে গো গগন-তলে॥
বাজিয়ে চলি পথের বাঁশি,    ছড়িয়ে চলি চলার হাসি,
    রঙিন বসন উড়িয়ে চলি জলে স্থলে॥
    পথিক ভুবন ভালোবাসে পথিকজনে রে।
    এমন সুরে তাই সে ডাকে ক্ষণে ক্ষণে রে।  
চলার পথের আগে আগে    ঋতুর ঋতুর সোহাগ জাগে,
    চরণঘায়ে মরণ মরে পলে পলে॥
আরো দেখুন
পুত্রযজ্ঞ
Stories
বৈদ্যনাথ গ্রামের মধ্যে বিজ্ঞ ছিলেন সেইজন্য তিনি ভবিষ্যতের দিকে দৃষ্টি রাখিয়া বর্তমানের সমস্ত কাজ করিতেন। যখন বিবাহ করিলেন তখন তিনি বর্তমান নববধূর অপেক্ষা ভাবী নবকুমারের মুখ স্পষ্টতররূপে দেখিতে পাইয়াছিলেন। শুভদৃষ্টির সময় এতটা দূরদৃষ্টি প্রায় দেখা যায় না। তিনি পাকা লোক ছিলেন সেইজন্য প্রেমের চেয়ে পিণ্ডটাকেই অধিক বুঝিতেন এবং পুত্রার্থে ক্রিয়তে ভার্যা এই মর্মেই তিনি বিনোদিনীকে বিবাহ করিয়াছিলেন।
কিন্তু এ সংসারে বিজ্ঞ লোকও ঠকে। যৌবনপ্রাপ্ত হইয়াও যখন বিনোদিনী তাহার সর্বপ্রধান কর্তব্যটি পালন করিল না তখন পুন্নাম নরকের দ্বারা খোলা দেখিয়া বৈদ্যনাথ বড়ো চিন্তিত হইলেন। মৃত্যুর পরে তাঁহার বিপুল ঐশ্বর্যই বা কে ভোগ করিবে এই ভাবনায় মৃত্যুর পূর্বে তিনি সেই ঐশ্বর্য ভোগ করিতে বিমুখ হইলেন। পূর্বেই বলিয়াছি, বর্তমানের অপেক্ষা ভবিষ্যৎটাকেই তিনি সত্য বলিয়া জানিতেন।
আরো দেখুন
বিজ্ঞানী
Stories
দাদামশায়, নীলমণিবাবুকে তোমার এত কেন ভালো লাগে আমি তো বুঝতে পারি নে।
এই প্রশ্নটা পৃথিবীর সবচেয়ে শক্ত প্রশ্ন, এর ঠিক উত্তর ক'জন লোকে দিতে পারে।
আরো দেখুন
দৃষ্টিদান
Stories
শুনিয়াছি, আজকাল অনেক বাঙালির মেয়েকে নিজের চেষ্টায় স্বামী সংগ্রহ করিতে হয়। আমিও তাই করিয়াছি, কিন্তু দেবতার সহায়তায়। আমি ছেলেবেলা হইতে অনেক ব্রত এবং অনেক শিবপূজা করিয়াছিলাম।
আমার আটবৎসর বয়স উত্তীর্ণ না হইতেই বিবাহ হইয়া গিয়াছিল। কিন্তু পূর্বজন্মের পাপবশত আমি আমার এমন স্বামী পাইয়াও সম্পূর্ণ পাইলাম না। মা ত্রিনয়নী আমার দুইচক্ষু লইলেন। জীবনের শেষমুহূর্ত পর্যন্ত স্বামীকে দেখিয়া লইবার সুখ দিলেন না।
আরো দেখুন
233
Verses
MY LIFE LIKE the reed with its stops,
has its play of colours
through the gaps in its hopes and gains.'
আরো দেখুন
দিদিমণি
Verses
       দিদিমণি আঁট করে দিলে মোর দিন,
       এক করে দিলে যেন ছিল যেটা তিন।
       প্রহরে প্রহরে সব নিয়মেতে বাঁধা,
       ডাক্তারি ফাঁদে এই জীবনটা আগাগোড়া ফাঁদা।
       সারি সারি ওষুধের শিশি
       খাড়া আছে তর্জনী তুলে দিবানিশি।
       যদি তারি কোনো ফাঁকে তবু
       সুস্থ লোকের চালে চলিতে সাহস করি কভু
       চোখে তবে পড়ে সেটা তোমার তখুনি,
       স্পর্ধা মানিয়া লয়ে চুপ করে শুনি যে বকুনি।
       গ্ল্যাক্‌সো খাওয়াও তুমি গুনে গুনে চামচেতে মেপে,
       বই খুলে বসি যদি দাও সেটা চেপে।
                 বলে, "পড়া থাক্‌-না!'
       দিনটাকে ঢেকে রাখে সেবা-গাঁথা ঢাক্‌না॥
       স্নানে গেছ, সেই ফাঁকে খাতা
       টেনে নিয়ে লিখি এই যা'-তা'।
       মিথ্যার রসে মিশে সত্যটা হলে উপাদেয়,
       সাহিত্যে সেটা নয় হেয়।
       গদ্যে যাহারে বলে মিথ্যে
       সেটাই যে ছন্দের নৃত্যে
       সত্যেরও বেশি পায় দাম--
       এ কথাটা লিখে রাখিলাম॥
আরো দেখুন