পরিশিষ্ট
Stories
(ছোটো গল্প)
সাহিত্যে বড়ো গল্প ব'লে যে-সব প্রগল্‌ভ বাণীবাহন দেখা যায় তারা প্রাক্‌ভূতাত্ত্বিক যুগের প্রাণীদের মতো-- তাদের প্রাণের পরিমাণ যত দেহের পরিমাণ তার চার গুণ, তাদের লেজটা কলেবরের অত্যুক্তি।
আরো দেখুন
30
Verses
কল্যাণীয়া শ্রীমতী উমা চন্দ
                   হে অপরিচিতা, লিখিয়া আমার নাম
                   আশীর্বাদের সেতুখানি রচিলাম।
আরো দেখুন
ছবি
Verses
          ক্ষুব্ধ চিহ্ন এঁকে দিয়ে শান্ত সিন্ধুবুকে
                   তরী চলে পশ্চিমের মুখে।
                        আলোকচুম্বনে নীল জল
                               করে ঝলমল।
          দিগন্তে মেঘের জালে বিজড়িত দিনান্তের মোহ,
                   সূর্যাস্তের শেষ সমারোহ।
                             ঊর্ধ্বে যায় দেখা
                        তৃতীয়ার শীর্ণ শশিলেখা।
          যেন কে উলঙ্গ শিশু কোথায় এসেছে জানে না সে,
                             নিঃসংকোচে হাসে।
                        বহে মন্দ মন্থর বাতাস
                   সঙ্গশূন্য সায়াহ্নের বৈরাগ্যনিশ্বাস।
          স্বর্গসুখে ক্লান্ত কোন্‌ দেবতার বাঁশির পূরবী
                             শূন্যতলে ধরে এই ছবি।
                   ক্ষণকাল পরে যাবে ঘুচে,
          উদাসীন রজনীর কালো কেশে সব দেবে মুছে।
          এমনি রঙের খেলা নিত্য খেলে আলো আর ছায়া,
                             এমনি চঞ্চল মায়া
                             জীবন-অম্বরতলে --
                    দুঃখে সুখে বর্ণে বর্ণে লিখা
          চিহ্নহীনপদচারী কালের প্রান্তরে মরীচিকা।
                তার পরে দিন যায়, অস্তে যায় রবি;
          যুগে যুগে মুছে যায় লক্ষ লক্ষ রাগরক্ত ছবি।
                             তুই হেথা কবি,
                        এ বিশ্বের মৃত্যুর নিশ্বাস
          আপন বাঁশিতে ভরি গানে তারে বাঁচাইতে চাস।
আরো দেখুন
দুই বোন
Novels
মেয়েরা দুই জাতের, কোনো কোনো পণ্ডিতের কাছে এমন কথা শুনেছি।
এক জাত প্রধানত মা, আর-এক জাত প্রিয়া।
আরো দেখুন
মহামায়া
Stories
মহামায়া এবং রাজীবলোচন উভয়ে নদীর ধারে একটা ভাঙা মন্দিরে সাক্ষাৎ করিল।
মহামায়া কোনো কথা না বলিয়া তাহার স্বাভাবিক গম্ভীর দৃষ্টি ঈষৎ ভর্ৎসনার ভাবে রাজীবের প্রতি নিক্ষেপ করিল। তাহার মর্ম এই, তুমি কী সাহসে আজ অসময়ে আমাকে এখানে আহ্বান করিয়া আনিয়াছ। আমি এ পর্যন্ত তোমার সকল কথা শুনিয়া আসিতেছি বলিয়াই তোমার এতদূর স্পর্ধা বাড়িয়া উঠিয়াছে?
আরো দেখুন
বিদূষক
Stories
কাঞ্চীর রাজা কর্ণাট জয় করতে গেলেন। তিনি হলেন জয়ী। চন্দনে, হাতির দাঁতে, আর সোনামানিকে হাতি বোঝাই হল।
দেশে ফেরবার পথে বলেশ্বরীর মন্দির বলির রক্তে ভাসিয়ে দিয়ে রাজা পুজো দিলেন।
আরো দেখুন
কঙ্কাল
Stories
আমরা তিন বাল্যসঙ্গী যে ঘরে শয়ন করিতাম তাহার পাশের ঘরের দেয়ালে একটি আস্ত নরকঙ্কাল ঝুলানো থাকিত। রাত্রে বাতাসে তাহার হাড়গুলা খট্‌খট্‌ শব্দ করিয়া নড়িত। দিনের বেলায় আমাদিগকে সেই হাড় নাড়িতে হইত। আমরা তখন পণ্ডিত-মহাশয়ের নিকট মেঘনাদবধ এবং ক্যাম্বেল স্কুলের এক ছাত্রের কাছে অস্থিবিদ্যা পড়িতাম। আমাদের অভিভাবকের ইচ্ছা ছিল আমাদিগকে সহসা সর্ববিদ্যায় পারদর্শী করিয়া তুলিবেন। তাঁহার অভিপ্রায় কতদূর সফল হইয়াছে যাঁহারা আমাদিগকে জানেন তাঁহাদের নিকট প্রকাশ করা বাহুল্য এবং যাঁহারা জানেন না তাঁহাদের নিকট গোপন করাই শ্রেয়।
তাহার পর বহুকাল অতীত হইয়াছে। ইতিমধ্যে সেই ঘর হইতে কঙ্কাল এবং আমাদের মাথা হইতে অস্থিবিদ্যা কোথায় স্থানান্তরিত হইয়াছে অন্বেষণ করিয়া জানা যায় না।
আরো দেখুন
অনধিকার প্রবেশ
Stories
একদা প্রাতঃকালে পথের ধারে দাঁড়াইয়া এক বালক আর-এক বালকের সহিত একটি অসমসাহসিক অনুষ্ঠান সম্বন্ধে বাজি রাখিয়াছিল। ঠাকুরবাড়ির মাধবীবিতান হইতে ফুল তুলিয়া আনিতে পারিবে কি না, ইহাই লইয়া তর্ক। একটি বালক বলিল 'পারিব', আর-একটি বালক বলিল 'কখনোই পারিবে না'।
কাজটি শুনিতে সহজ অথচ করিতে কেন সহজ নহে তাহার বৃত্তান্ত আর-একটু বিস্তারিত করিয়া বলা আবশ্যক।
আরো দেখুন