গেল গো-- ফিরিল
Songs
                   গেল গো--
     ফিরিল না, চাহিল না, পাষাণ সে।
কথাটিও কহিল না, চলে গেল গো ॥
     না যদি থাকিতে চায়   যাক যেথা সাধ যায়,
একেলা আপন-মনে   দিন কি কাটিবে না।
     তাই হোক, হোক তবে--
         আর তারে সাধিব না ॥
আরো দেখুন
রাজপুত্তুর
Stories
রাজপুত্তুর চলেছে নিজের রাজ্য ছেড়ে, সাত রাজার রাজ্য পেরিয়ে, যে দেশে কোনো রাজার রাজ্য নেই সেই দেশে।
সে হল যে কালের কথা সে কালের আরম্ভও নেই, শেষও নেই।
আরো দেখুন
অধ্যাপক
Stories
কলেজে আমার সহপাঠীসম্প্রদায়ের মধ্যে আমার একটু বিশেষ প্রতিপত্তি ছিল। সকলেই আমাকে সকল বিষয়েই সমজদার বলিয়া মনে করিত।
ইহার প্রধান কারণ, ভুল হউক আর ঠিক হউক, সকল বিষয়েই আমার একটা মতামত ছিল। অধিকাংশ লোকেই হাঁ এবং না জোর করিয়া বলিতে পারে না, আমি সেটা খুব বলিতাম।
আরো দেখুন
খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন
Stories
রাইচরণ যখন বাবুদের বাড়ি প্রথম চাকরি করিতে আসে তখন তাহার বয়স বারো। যশোহর জিলায় বাড়ি, লম্বা চুল, বড়ো বড়ো চোখ, শ্যামচিক্কণ ছিপ্‌ছিপে বালক। জাতিতে কায়স্থ। তাহার প্রভুরাও কায়স্থ। বাবুদের এক-বৎসর-বয়স্ক একটি শিশুর রক্ষণ ও পালন-কার্যে সহায়তা করা তাহার প্রধান কর্তব্য ছিল।
সেই শিশুটি কালক্রমে রাইচরণের কক্ষ ছাড়িয়া স্কুলে, স্কুল ছাড়িয়া কলেজে, অবশেষে কলেজ ছাড়িয়া মুন্‌সেফিতে প্রবেশ করিয়াছে। রাইচরণ এখনো তাঁহার ভৃত্য।
আরো দেখুন
ললাটের লিখন
Stories
ছেলেবেলায় পৃথ্বীশের ডান দিকের কপালে চোট লেগেছিল ভুরুর মাঝখান থেকে উপর পর্যন্ত। সেই আঘাতে ডান চোখটাও সংকুচিত। পৃথ্বীশকে ভালো দেখতে কি না সেই প্রশ্নের উত্তরটা কাটা দাগের অবিচারে সম্পূর্ণ হতে পারল না। অদৃষ্টের এই লাঞ্ছনাকে এত দিন থেকে প্রকাশ্যে পৃথ্বীশ বহন করে আসছে তবুও দাগও যেমন মেলায় নি তেমনি ঘোচে নি তার সংকোচ। নতুন কারো সঙ্গে পরিচয় হবার উপলক্ষে প্রত্যেকবার ধিক্‌কারটা জেগে ওঠে মনে। কিন্তু বিধাতাকে গাল দেবার অধিকার তার নেই। তার রচনার ঐশ্বর্যকে বন্ধুরা স্বীকার করছে প্রচুর প্রশংসায়, শত্রুরা নিন্দাবাক্যের নিরন্তর কটুক্তিতে। লেখার চারি দিকে ভিড় জমছে। দু টাকা আড়াই টাকা দামের বইগুলো ছড়িয়ে পড়ছে ঘরে ঘরে। সম্পাদকরা তার কলমের প্রসাদ ছুটোছাঁটা যা-ই পায় কিছুই ছাড়ে না। পাঠিকারা বলে, পৃথ্বীশবাবু মেয়েদের মন ও চরিত্র যেমন আশ্চর্য বোঝেন ও বর্ণনা করেন এমন সাধ্য নেই আর কোনো লেখকের। পুরুষ-বন্ধুরা বলে, ওর লেখায় মেয়েদের এত-যে স্তুতিবাদ সে কেবল হতভাগার ভাঙা কপালের দোষে। মুখশ্রী যদি অক্ষুণ্ন হত তা হলে মেয়েদের সম্বন্ধে সত্য কথা বাধত না মুখে। মুখের চেহারা বিপক্ষতা করায় মুখের অত্যুক্তিকে সহায় করেছে মনোহরণের অধ্যবসায়।
শ্রীমতী বাঁশরি সরকার ব্যারিস্টারি চক্রের মেয়ে-- বাপ ব্যারিস্টার, ভাইরা ব্যারিস্টার। দু বার গেছে য়ুরোপে ছুটি উপলক্ষে। সাজে সজ্জায় ভাষায় ভঙ্গিতে আছে আধুনিক যুগের সুনিপুণ উদ্দামতা। রূপসী বলতে যা বোঝায় তা নয়, কিন্তু আকৃতিটা যেন ফ্রেঞ্চ পালিশ দিয়ে ঝকঝকে করা।
আরো দেখুন
একাল ও সেকাল
Verses
          বর্ষা এলায়েছে তার মেঘময় বেণী।
                গাঢ় ছায়া সারাদিন,
                মধ্যাহ্ন তপনহীন,
          দেখায় শ্যামলতর শ্যাম বনশ্রেণী।
          আজিকে এমন দিনে শুধু পড়ে মনে
                সেই দিবা-অভিসার
                পাগলিনী রাধিকার,
          না জানি সে কবেকার দূর বৃন্দাবনে।
          সেদিনও এমনি বায়ু রহিয়া রহিয়া।
                এমনি অশ্রান্ত বৃষ্টি,
                তড়িৎচকিত দৃষ্টি,
          এমনি কাতর হায় রমণীর হিয়া।
          বিরহিণী মর্মে-মরা মেঘমন্দ্র স্বরে।
               নয়নে নিমেষ নাহি,
               গগনে রহিত চাহি,
          আঁকিত প্রাণের আশা জলদের স্তরে।
          চাহিত পথিকবধূ শূন্য পথপানে।
               মল্লার গাহিত কারা,
               ঝরিত বরষাধারা,
          নিতান্ত বাজিত গিয়া কাতর পরানে।
          যক্ষনারী বীণা কোলে ভূমিতে বিলীন;
               বক্ষে পড়ে রুক্ষ কেশ,
               অযত্নশিথিল বেশ,
          সেদিনও এমনিতর অন্ধকার দিন।
          সেই কদম্বের মূল, যমুনার তীর,
               সেই সে শিখীর নৃত্য
               এখনো হরিছে চিত্ত--
          ফেলিছে বিরহ-ছায়া শ্রাবণতিমির।
          আজও আছে বৃন্দাবন মানবের মনে।
               শরতের পূর্ণিমায়
               শ্রাবণের বরিষায়
          উঠে বিরহের গাথা বনে উপবনে।
          এখনো সে বাঁশি বাজে যমুনার তীরে।
               এখনো প্রেমের খেলা
               সারা নিশি, সারা বেলা,
          এখনো কাঁদিছে রাধা হৃদয়কুটিরে।
আরো দেখুন
কর্মফল
Stories
আজ সতীশের মাসি সুকুমারী এবং মেসোমশায় শশধরবাবু আসিয়াছেন-- সতীশের মা বিধুমুখী ব্যস্তসমস্তভাবে তাঁহাদের অভ্যর্থনায় নিযুক্ত। 'এসো দিদি, বোসো। আজ কোন্‌ পুণ্যে রায়মশায়ের দেখা পাওয়া গেল! দিদি না আসলে তোমার আর দেখা পাবার জো নেই।'
শশধর। এতেই বুঝবে তোমার দিদির শাসন কিরকম কড়া। দিনরাত্রি চোখে চোখে রাখেন।
আরো দেখুন
বাজিয়েছিলে বীণা তোমার
Verses
বাজিয়েছিলে বীণা তোমার
          দিই বা না দিই মন।
আজ প্রভাতে তারি ধ্বনি
          শুনি সকল ক্ষণ।
কত সুরের লীলা সে যে
দিনে রাত্রে উঠল বেজে,
জীবন আমার গানের মালা
          করেছ কল্পন।
আজ শরতের নীলাকাশে,
          আজ সবুজের খেলায়,
আজ বাতাসের দীর্ঘশ্বাসে,
          আজ চামেলির মেলায়--
কত কালের গাঁথা বাণী
আমার প্রাণের সে গানখানি
তোমার গলায় দোলে যেন
          করিনু দর্শন।
আরো দেখুন
অনেক দিনের আমার
Songs
অনেক দিনের আমার যে গান আমার কাছে ফিরে আসে
তারে আমি শুধাই, তুমি ঘুরে বেড়াও কোন্‌ বাতাসে॥
যে ফুল গেছে সকল ফেলে    গন্ধ তাহার কোথায় পেলে,
যার আশা আজ শূন্য হল কী সুর জাগাও তাহার আশে॥
সকল গৃহ হারালো যার তোমার তানে তারি বাসা,
যার বিরহের নাই অবসান  তার মিলনের আনে ভাসা।
শুকালো যেই নয়নবারি    তোমার সুরে কাঁদন তারি,
ভোলা দিনের বাহন তুমি স্বপন ভাসাও দূর আকাশে॥
আরো দেখুন
নামের খেলা
Stories
প্রথম বয়সেই সে কবিতা লিখতে শুরু করে।
বহু যত্নে খাতায় সোনালি কালির কিনারা টেনে, তারই গায়ে লতা এঁকে, মাঝখানে লাল কালি দিয়ে কবিতাগুলি লিখে রাখত। আর, খুব সমারোহে মলাটের উপর লিখত, শ্রীকেদারনাথ ঘোষ।
আরো দেখুন