ভেঙেছ দুয়ার, এসেছ জ্যোতির্ময়
Songs
ভেঙেছ দুয়ার, এসেছ জ্যোতির্ময়,   তোমারি হউক জয়।
তিমিরবিদার উদার অভ্যুদয়,   তোমারি হউক জয় ॥
          হে বিজয়ী বীর, নব জীবনের প্রাতে
          নবীন আশার খড়্গ তোমার হাতে--
জীর্ণ আবেশ কাটো সুকঠোর ঘাতে,   বন্ধন হোক ক্ষয় ॥
এসো দুঃসহ, এসো এসো নির্দয়, তোমারি হউক জয়।
এসো নির্মল, এসো এসো নির্ভয়, তোমারি হউক জয়।
          প্রভাতসূর্য, এসেছ রুদ্রসাজে,
       দুঃখের পথে তোমারি তূর্য বাজে--
অরুণবহ্নি জ্বালাও চিত্তমাঝে,   মৃত্যুর হোক লয় ॥
আরো দেখুন
স্মৃতি
Verses
সে ছিল আরেক দিন এই তরী-'পরে,
কন্ঠ তার পূর্ণ ছিল সুধাগীতিস্বরে।
ছিল তার আঁখি দুটি ঘনপক্ষ্ণচ্ছায়,
সজল মেঘের মতো ভরা করুণায়।
কোমল হৃদয়খানি উদ্‌বেলিত সুখে,
উচ্ছ্বসি উঠিত হাসি সরল কৌতুকে।
পাশে বসি ব'লে যেত কলকণ্ঠকথা,
কত কী কাহিনী তার কত আকুলতা!
প্রত্যুষে আনন্দভরে হাসিয়া হাসিয়া
প্রভাত-পাখির মতো জাগাত আসিয়া।
স্নেহের দৌরাত্ম্য তার নির্ঝরের প্রায়
আমারে ফেলিত ঘেরি বিচিত্র লীলায়।
আজি সে অনন্ত বিশ্বে আছে কোন্‌খানে
তাই ভাবিতেছি বসি সজলনয়ানে।
আরো দেখুন
কোন্‌ বরতা পাঠালে মোর পরানে
Verses
কোন্‌ বারতা পাঠালে মোর পরানে
আজি তোমার অরুণ-আলোয় কে জানে।
        বাণী তোমার ধরে না মোর গগনে,
        পাতায় পাতায় কাঁপে হৃদয়-কাননে,
             বাণী তোমার ফোটে লতাবিতানে।
তোমার বাণী বাতাসে সুর লাগালো,
নদীতে মোর ঢেউয়ের মাতন জাগালো।
         তরী আমার আজ প্রভাতের আলোকে
         এই বাতাসে পাল তুলে দিক পুলকে,
              তোমার পানে যাক সে ভেসে উজানে।
আরো দেখুন
ভুল স্বর্গ
Stories
লোকটি নেহাত বেকার ছিল।
তার কোনো কাজ ছিল না, কেবল শখ ছিল নানা রকমের।
আরো দেখুন
The Patriot
Stories
I AM SURE that Chitragupta, who keeps strict record at the gate of Death, must have noted down in big letters accusations against me, which had escaped my attention altogether. On the other hand many of my sins, that have passed unnoticed by others, loom large in my own memory. The story of my transgression, that I am going to relate, belongs to the latter kind, and I hope that a frank confession of it, before it is finally entered in the Book of Doom, may lessen its culpability.
It all happened yesterday afternoon, on a day of festival for the Jains in our neighbourhood. I was going out with my wife, Kalika, to tea at the house of my friend Nayanmohan.
আরো দেখুন
সদর ও অন্দর
Stories
বিপিনকিশোর ধনীগৃহে জন্মিয়াছিলেন, সেইজন্যে ধন যে পরিমাণে ব্যয় করিতে জানিতেন তাহার অর্ধেক পরিমাণেও উপার্জন করিতে শেখেন নাই। সুতরাং যে গৃহে জন্ম সে গৃহে দীর্ঘকাল বাস করা ঘটিল না।
সুন্দর সুকুমারমূর্তি তরুণ যুবক, গানবাজনায় সিদ্ধহস্ত, কাজকর্মে নিরতিশয় অপটু; সংসারের পক্ষে সম্পূর্ণ অনাবশ্যক। জীবনযাত্রার পক্ষে জগন্নাথদেবের রথের মতো অচল; যেরূপ বিপুল আয়োজনে চলিতে পারেন সেরূপ আয়োজন সম্প্রতি বিপিনকিশোরের আয়ত্তাতীত।
আরো দেখুন
কবির প্রতি নিবেদন
Verses
হেথা কেন দাঁড়ায়েছ, কবি,
                যেন কাষ্ঠপুত্তলছবি?
    চারি দিকে লোকজন                 চলিতেছে সারাখন,
               আকাশে উঠিছে খর রবি।
               কোথা তব বিজন ভবন,
               কোথা তব মানসভুবন?
    তোমারে ঘেরিয়া ফেলি          কোথা সেই করে কেলি
               কল্পনা, মুক্ত পবন?
               নিখিলে আনন্দধাম
               কোথা সেই গভীর বিরাম?
    জগতের গীতধার                 কেমনে শুনিবে আর?
               শুনিতেছ আপনারি নাম।
               আকাশের পাখি তুমি ছিলে,
               ধরণীতে কেন ধরা দিলে?
    বলে সবে বাহা-বাহা,                  সকলে পড়ায় যাহা
               তুমি তাই পড়িতে শিখিলে!
               প্রভাতের আলোকের সনে
               অনাবৃত প্রভাতগগনে
    বহিয়া নূতন প্রাণ                  ঝরিয়া পড়ে না গান
               ঊর্ধ্বনয়ন এ ভুবনে।
               পথ হতে শত কলরবে
               "গাও গাও' বলিতেছে সবে।
    ভাবিতে সময় নাই--              গান চাই, গান চাই,
              থামিতে চাহিছে প্রাণ যবে।
            থামিলে চলিয়া যাবে সবে,
            দেখিতে কেমনতর হবে!
উচ্চ আসনে লীন                      প্রাণহীন গানহীন
            পুতলির মতো বসে রবে।
            শ্রান্তি লুকাতে চাও ত্রাসে,
            কন্ঠ শুষ্ক হয়ে আসে।
শুনে যারা যায় চলে                 দু-চারিটা কথা ব'লে
            তারা কি তোমায় ভালোবাসে?
            কত মতো পরিয়া মুখোশ
            মাগিছ সবার পরিতোষ।
মিছে হাসি আনো দাঁতে,        মিছে জল আঁখিপাতে,
            তবু তারা ধরে কত দোষ।
            মন্দ কহিছে কেহ ব'সে,
            কেহ বা নিন্দা তব ঘোষে।
তাই নিয়ে অবিরত                তর্ক করিছ কত,
            জ্বলিয়া মরিছ মিছে রোষে।
            মূর্খ, দম্ভ-ভরা দেহ,
            তোমারে করিয়া যায় স্নেহ।
হাত বুলাইয়া পিঠে               কথা বলে মিঠে মিঠে,
            "শাবাশ' "শাবাশ' বলে কেহ।
            হায় কবি, এত দেশ ঘুরে
            আসিয়া পড়েছ কোন্‌ দূরে!
এ যে কোলাহলমরু--        নাই ছায়া, নাই তরু,
            যশের কিরণে মরো পুড়ে।
দেখো, হোথা নদী-পর্বত,
            অবারিত অসীমের পথ।
প্রকৃতি শান্ত মুখে                    ছুটায় গগনবুকে
            গ্রহতারাময় তার রথ।
            সবাই আপন কাজে ধায়,
            পাশে কেহ ফিরিয়া না চায়।
ফুটে চিররূপরাশি                  চিরমধুময় হাসি,
            আপনারে দেখিতে না পায়।
            হোথা দেখো একেলা আপনি
            আকাশের তারা গণি গণি
ঘোর নিশীথের মাঝে        কে জাগে আপন কাজে,
            সেথায় পশে না কলধ্বনি।
            দেখো হোথা নূতন জগৎ--
            ওই কারা আত্মহারাবৎ
যশ-অপযশ-বাণী              কোনো কিছু নাহি মানি
            রচিছে সুদূর ভবিষ্যৎ।
            ওই দেখো না পুরিতে আশ
            মরণ করিল কারে গ্রাস।
নিশি না হইতে সারা             খসিয়া পড়িল তারা,
            রাখিয়া গেল না ইতিহাস।
            ওই কারা গিরির মতন
            আপনাতে আপনি বিজন--
হৃদয়ের স্রোত উঠি            গোপন আলয় টুটি
            দূর দূর করিছে মগন।
ওই কারা বসে আছে দূরে
            কল্পনা-উদয়াচল-পুরে--
অরুণপ্রকাশ-প্রায়               আকাশ ভরিয়া যায়
            প্রতিদিন নব নব সুরে।
            হোথা উঠে নবীন তপন,
            হোথা হতে বহিছে পবন।
হোথা চির ভালোবাসা--      নব গান, নব আশা--
            অসীম বিরামনিকেতন।
হোথা মানবের জয়                উঠিছে জগৎময়,
            ওইখানে মিলিয়াছে নরনারায়ণ।
            হেথা, কবি, তোমারে কি সাজে
            ধূলি আর কলরোল -মাঝে?
আরো দেখুন
অনধিকার প্রবেশ
Stories
একদা প্রাতঃকালে পথের ধারে দাঁড়াইয়া এক বালক আর-এক বালকের সহিত একটি অসমসাহসিক অনুষ্ঠান সম্বন্ধে বাজি রাখিয়াছিল। ঠাকুরবাড়ির মাধবীবিতান হইতে ফুল তুলিয়া আনিতে পারিবে কি না, ইহাই লইয়া তর্ক। একটি বালক বলিল 'পারিব', আর-একটি বালক বলিল 'কখনোই পারিবে না'।
কাজটি শুনিতে সহজ অথচ করিতে কেন সহজ নহে তাহার বৃত্তান্ত আর-একটু বিস্তারিত করিয়া বলা আবশ্যক।
আরো দেখুন
চোখের বালি
Novels
বিনোদিনীর মাতা হরিমতি মহেন্দ্রের মাতা রাজলক্ষ্মীর কাছে আসিয়া ধন্না দিয়া পড়িল। দুইজনেই এক গ্রামের মেয়ে, বাল্যকালে একত্রে খেলা করিয়াছেন।
রাজলক্ষ্মী মহেন্দ্রকে ধরিয়া পড়িলেন, "বাবা মহিন, গরিবের মেয়েটিকে উদ্ধার করিতে হইবে। শুনিয়াছি মেয়েটি বড়ো সুন্দরী, আবার মেমের কাছে পড়াশুনাও করিয়াছে-- তোদের আজকালকার পছন্দর সঙ্গে মিলিবে।"
"চরণতরণী দে মা, তারিণী তারা।'
আরো দেখুন
মানভঞ্জন
Stories
রমানাথ শীলের ত্রিতল অট্টালিকায় সর্ব্বোচ্চ তলের ঘরে গোপীনাথ শীলের স্ত্রী গিরিবালা বাস করে। শয়নকক্ষের দক্ষিণ দ্বারের সম্মুখে ফুলের টবে গুটিকতক বেলফুল এবং গোলাপফুলের গাছ; ছাতটি উচ্চ প্রাচীর দিয়া ঘেরা-- বহিরদৃশ্য দেখিবার জন্য প্রাচীরের মাঝে মাঝে একটি করিয়া ইট ফাঁক দেওয়া আছে। শোবার ঘরে নানা বেশ এবং বিবেশ-বিশিষ্ট বিলাতি নারীমূর্তির বাঁধানো এন্‌গ্রেভিং টাঙানো রহিয়াছে; কিন্তু প্রবেশদ্বারের সম্মুখবর্তী বৃহৎ আয়নার উপরে ষোড়শী গৃহস্বামিনীর যে প্রতিবিম্বটি পড়ে তাহা দেয়ালের কোনো ছবি অপেক্ষা সৌন্দর্যে ন্যূন নহে।
গিরিবালার সৌন্দর্য অকস্মাৎ আলোকরশ্মির ন্যায়, বিস্ময়ের ন্যায়, নিদ্রাভঙ্গে চেতনার ন্যায়, একেবারে চকিতে আসিয়া আঘাত করে এবং এক আঘাতে অভিভূত করিয়া দিতে পারে। তাহাকে দেখিলে মনে হয়, ইহাকে দেখিবার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না; চারি দিকে এবং চিরকাল যেরূপ দেখিয়া আসিতেছি এ একেবারে হঠাৎ তাহা হইতে অনেক স্বতন্ত্র।
আরো দেখুন
রবিবার
Stories
আমার গল্পের প্রধান মানুষটি প্রাচীন ব্রাহ্মণপণ্ডিত-বংশের ছেলে। বিষয়ব্যাপারে বাপ ওকালতি ব্যবসায়ে আঁটি পর্যন্ত পাকা, ধর্মকর্মে শাক্ত আচারের তীব্র জারক রসে জারিত। এখন আদালতে আর প্র্যাকটিস করতে হয় না। এক দিকে পূজা-অর্চনা আর-এক দিকে ঘরে বসে আইনের পরামর্শ দেওয়া, এই দুটোকে পাশাপাশি রেখে তিনি ইহকাল পরকালের জোড় মিলিয়ে অতি সাবধানে চলেছেন। কোনো দিকেই একটু পা ফসকায় না।
এইরকম নিরেট আচারবাঁধা সনাতনী ঘরের ফাটল ফুঁড়ে যদি দৈবাৎ কাঁটাওয়ালা নাস্তিক ওঠে গজিয়ে, তা হলে তার ভিত-দেয়াল-ভাঙা মন সাংঘাতিক ঠেলা মারতে থাকে ইঁটকাঠের প্রাচীন গাঁথুনির উপরে। এই আচারনিষ্ঠ বৈদিক ব্রাহ্মণের বংশে দুর্দান্ত কালাপাহাড়ের অভ্যুদয় হল আমাদের নায়কটিকে নিয়ে।
আরো দেখুন
রাজপুত্তুর
Stories
রাজপুত্তুর চলেছে নিজের রাজ্য ছেড়ে, সাত রাজার রাজ্য পেরিয়ে, যে দেশে কোনো রাজার রাজ্য নেই সেই দেশে।
সে হল যে কালের কথা সে কালের আরম্ভও নেই, শেষও নেই।
আরো দেখুন