স্ত্রীর পত্র
Stories
শ্রীচরণকমলেষু
আজ পনেরো বছর আমাদের বিবাহ হয়েছে,আজ পর্যন্ত তোমাকে চিঠি লিখি নি। চিরদিন কাছেই পড়ে আছি -- মুখের কথা অনেক শুনেছ, আমিও শুনেছি;চিঠি লেখবার মতো ফাঁকটুকু পাওয়া যায় নি।
আরো দেখুন
পুনরাবৃত্তি
Stories
সেদিন যুদ্ধের খবর ভালো ছিল না। রাজা বিমর্ষ হয়ে বাগানে বেড়াতে গেলেন।
দেখতে পেলেন, প্রাচীরের কাছে গাছতলায় বসে খেলা করছে একটি ছোটো ছেলে আর একটি ছোটো মেয়ে।
আরো দেখুন
পাঁচ
Verses
সন্ধ্যা এল চুল এলিয়ে
              অস্তসমুদ্রে সদ্য স্নান করে।
     মনে হল, স্বপ্নের ধূপ উঠছে
                      নক্ষত্রলোকের দিকে।
     মায়াবিষ্ট নিবিড় সেই স্তব্ধ ক্ষণে--
                  তার নাম করব না--
সবে সে চুল বেঁধেছে, পরেছে আসমানি রঙের শাড়ি,
                    খোলা ছাদে গান গাইছে একা।
               আমি দাঁড়িয়ে ছিলেম পিছনে
               ও হয়তো জানে না, কিম্বা হয়তো জানে।
ওর গানে বলছে সিন্ধু কাফির সুরে--
          চলে যাবি এই যদি তোর মনে থাকে
               ডাকব না ফিরে ডাকব না,
                        ডাকি নে তো সকালবেলার শুকতারাকে।
শুনতে শুনতে সরে গেল সংসারের ব্যবহারিক আচ্ছাদনটা,
       যেন কুঁড়ি থেকে পূর্ণ হয়ে ফুটে বেরোল
            অগোচরের অপরূপ প্রকাশ;
                 তার লঘু গন্ধ ছড়িয়ে পড়ল আকাশে;
                         অপ্রাপণীয়ের সে দীর্ঘনিশ্বাস,
                 দুরূহ দুরাশার সে অনুচ্চারিত ভাষা।
একদা মৃত্যুশোকের বেদমন্ত্র
     তুলে ধরেছে বিশ্বের আবরণ, বলছে--
             পৃথিবীর ধূলি মধুময়।
             সেই সুরে আমার মন বললে--
                   সংগীতময় ধরার ধূলি।
আমার মন বললে--
     মৃত্যু, ওগো মধুময় মৃত্যু,
     তুমি আমায় নিয়ে চলেছ লোকান্তরে
                   গানের পাখায়।
আমি ওকে দেখলেম,
   যেন নিকষবরন ঘাটে সন্ধ্যার কালো জলে
      অরণবরন পা-দুখানি ডুবিয়ে বসে আছে অপ্সরী,
      অকূল সরোবরে সুরের ঢেউ উঠেছে মৃদুমৃদু,
          আমার বুকের কাঁপনে কাঁপন-লাগা হাওয়া
            ওকে স্পর্শ করছে ঘিরে ঘিরে।
আমি ওকে দেখলেম,
   যেন আলো-নেবা বাসরঘরে নববধূ,
       আসন্ন প্রত্যাশার নিবিড়তায়
              দেহের সমস্ত শিরা স্পন্দিত।
     আকাশে ধ্রুবতারার অনিমেষ দৃষ্টি,
             বাতাসে সাহানা রাগিণীর করুণা।
আমি ওকে দেখলেম,
   ও যেন ফিরে গিয়েছে পূর্বজন্মে
        চেনা-অচেনার অস্পষ্টতায়।
          সে যুগের পালনো বাণী ধরবে বলে
                 ঘুরিয়ে ফেলছে গানের জাল,
       সুরের ছোঁওয়া দিয়ে খুঁজে খুঁজে ফিরছে
                     হারানো পরিচয়কে।
সমুখে ছাদ ছাড়িয়ে উঠেছে বাদামগাছের মাথা,
         উপরে উঠল কৃষ্ণচতুর্থীর চাঁদ।
                 ডাকলেম নাম ধরে।
         তীক্ষ্ণবেগে উঠে দাঁড়ালো সে,
ভ্রূকুটি করে বললে, আমার দিকে ফিরে--
            "এ কী অন্যায়, কেন এলে লুকিয়ে।"
            কোনো উত্তর করলেম না।
বললেম না, প্রয়োজন ছিল না এই তুচ্ছ ছলনার।
   বললেম না, আজ সহজে বলতে পারতে "এসো',
        বলতে পারতে "খুশি হয়েছি'।
     মধুময়ের উপর পড়ল ধুলার আবরণ।
পরদিন ছিল হাটবার
  জানলায় বসে দেখছি চেয়ে।
       রৌদ্র ধূ ধূ করছে পাশের সেই খোলা ছাদে।
তার স্পষ্ট আলোয় বিগত বসন্তরাত্রের বিহ্বলতা
                          সে দিয়েছে ঘুচিয়ে।
         নির্বিশেষে ছড়িয়ে পড়ল আলো মাঠে বাটে,
                    মহাজনের টিনের ছাদে,
              শাক-সবজির ঝুড়ি-চুপড়িতে,
                             আঁটিবাঁধা খড়ে,
                 হাঁড়ি-মালসার স্তূপে,
                      নতুন গুড়ের কলসীর গায়ে।
                 সোনার কাঠি ছুঁইয়ে দিল
                     মহানিম গাছের ফুলের মঞ্জরিতে।
  পথের ধারে তালের গুঁড়ি আঁকড়ে উঠেছে অশথ,
        অন্ধ বৈরাগী তারই ছায়ায় গান গাইছে হাঁড়ি বাজিয়ে--
                 কাল আসব বলে চলে গেল,
        আমি যে সেই কালের দিকে তাকিয়ে আছি।
কেনাবেচার বিচিত্র গোলমালের জমিনে
       ওই সুরের শিল্পে বুনে উঠছে
যেন সমস্ত বিশ্বের একটা উৎকন্ঠার মন্ত্র-- "তাকিয়ে আছি।'
একজোড়া মোষ উদাস চোখ মেলে
         বয়ে চলেছে বোঝাই গাড়ি,
             গলায় বাজছে ঘণ্টা,
  চাকার পাকে পাকে টেনে তুলছে কাতর ধ্বনি।
আকাশের আলোয় আজ যেন মেঠো বাঁশির সুর মেলে দেওয়া।
                সব জড়িয়ে মন ভুলেছে।
বেদমন্ত্রের ছন্দে আবার মন বললে--
            মধুময় এই পার্থিব ধূলি।
কেরোসিনের দোকানের সামনে
       চোখে পড়ল একজন একেলে বাউল।
    তালিদেওয়া আলখাল্লার উপরে
               কোমরে-বাঁধা একটা বাঁয়া।
               লোক জমেছে চারি দিকে।
হাসলেম, দেখলেম অদ্ভুতেরও সংগতি আছে এইখানে,
                   এও এসেছে হাটের ছবি ভর্তি করতে।
         ওকে ডেকে নিলেম জানলার কাছে,
                    ও গাইতে লাগল--
         হাট করতে এলেম আমি অধরার সন্ধানে,
                সবাই ধরে টানে আমায়, এই যে গো এইখানে।
আরো দেখুন
ঠাকুরদা
Stories
নয়নজোড়ের জমিদারেরা এককালে বাবু বলিয়া বিশেষ বিখ্যাত ছিলেন। তখনকার কালের বাবুয়ানার আদর্শ বড়ো সহজ ছিল না। এখন যেমন রাজা-রায়বাহাদুর খেতাব অর্জন করিতে অনেক খানা নাচ ঘোড়দৌড় এবং সেলাম-সুপারিশের শ্রাদ্ধ করিতে হয়, তখনো সাধারণের নিকট হইতে বাবু উপাধি লাভ করিতে বিস্তর দুঃসাধ্য তপশ্চরণ করিতে হইত।
আমাদের নয়নজোড়ের বাবুরা পাড় ছিঁড়িয়া ফেলিয়া ঢাকাই কাপড় পরিতেন, কারণ পাড়ের কর্কশতায় তাঁহাদের সুকোমল বাবুয়ানা ব্যথিত হইত। তাঁহারা লক্ষ টাকা দিয়া বিড়ালশাবকের বিবাহ দিতেন এবং কথিত আছে, একবার কোনো উৎসব উপলক্ষে রাত্রিকে দিন করিবার প্রতিজ্ঞা করিয়া অসংখ্য দীপ জ্বলাইয়া সূর্যকিরণের অনুকরণে তাঁহারা সাচ্চা রুপার জরি উপর হইতে বর্ষণ করিয়াছিলেন।
আরো দেখুন
স্বর্গ-মর্ত
Stories
গান
মাটির প্রদীপখানি আছে
আরো দেখুন
অপরিচিতা
Stories
আজ আমার বয়স সাতাশ মাত্র। এ জীবনটা না দৈর্ঘ্যের হিসাবে বড়ো, না গুণের হিসাবে। তবু ইহার একটু বিশেষ মূল্য আছে। ইহা সেই ফুলের মতো যাহার বুকের উপরে ভ্রমর আসিয়া বসিয়াছিল, এবং সেই পদক্ষেপের ইতিহাস তাহার জীবনের মাঝখানে ফলের মতো গুটি ধরিয়া উঠিয়াছে।
সেই ইতিহাসটুকু আকারে ছোটো, তাহাকে ছোটো করিয়াই লিখিব। ছোটোকে যাঁহারা সামান্য বলিয়া ভুল করেন না তাঁহারা ইহার রস বুঝিবেন।
আরো দেখুন
224
Verses
শরতে শিশিরবাতাস লেগে
      জল ভ'রে আসে উদাসী মেঘে।
বরষন তবু হয় না কেন,
      ব্যথা নিয়ে চেয়ে রয়েছে যেন।
আরো দেখুন
ইঁদুরের ভোজ
Stories
ছেলেরা বললে, ভারি অন্যায়, আমরা নতুন পণ্ডিতের কাছে কিছুতেই পড়ব না।
নতুন পণ্ডিতমশায় যিনি আসছেন তাঁর নাম কালীকুমার তর্কালঙ্কার।
আরো দেখুন
অলি বার বার ফিরে যায়
Songs
অলি বার বার ফিরে যায়,
অলি বার বার ফিরে আসে।
তবে তো ফুল বিকাশে।
কলি ফুটিতে চাহে ফোটে না, মরে লাজে মরে ত্রাসে।
ভুলি মান অপমান, দাও মন প্রাণ, নিশি দিন রহ পাশে।
ওগো আশা ছেড়ে তবু আশা রেখে দাও,
হৃদয়-রতন আশে।
ফিরে এস ফিরে এস, বন মোদিত ফুলবাসে।
আজি বিরহ-রজনী ফুল্ল কুসুম শিশির-সলিলে ভাসে।
আরো দেখুন
স্মৃতি
Verses
ওই দেহ-পানে চেয়ে পড়ে মোর মনে
যেন কত শত পূর্বজনমের স্মৃতি।
সহস্র হারানো সুখ আছে ও নয়নে,
জন্ম-জন্মান্তের যেন বসন্তের গীতি।
যেন গো আমারি তুমি আত্মবিস্মরণ,
অনন্ত কালের মোর সুখ দুঃখ শোক,
কত নব জগতের কুসুমকানন,
কত নব আকাশের চাঁদের আলোক।
কত দিবসের তুমি বিরহের ব্যথা,
কত রজনীর তুমি প্রণয়ের লাজ,
সেই হাসি সেই অশ্রু সেই সব কথা
মধুর মুরতি ধরি দেখা দিল আজ।
তোমার মুখেতে চেয়ে তাই নিশিদিন
জীবন সুদূরে যেন হতেছে বিলীন।
আরো দেখুন