পয়লা নম্বর
Stories
আমি তামাকটা পর্যন্ত খাই নে। আমার এক অভ্রভেদী নেশা আছে, তারই আওতায় অন্য সকল নেশা একেবারে শিকড় পর্যন্ত শুকিয়ে মরে গেছে। সে আমার বই-পড়ার নেশা। আমার জীবনের মন্ত্রটা ছিল এই--
              যাবজ্জীবেৎ নাই-বা জীবেৎ
আরো দেখুন
অচেতন মাহাত্ম্য
Verses
হে জলদ, এত জল ধ'রে আছ বুকে
তবু লঘুবেগে ধাও বাতাসের মুখে।
পোষণ করিছ শত ভীষণ বিজুলি
তবু স্নিগ্ধ নীল রূপে নেত্র যায় ভুলি।
এ অসাধ্য সাধিতেছ অতি অনায়াসে
কী করিয়া, সে রহস্য কহি দাও দাসে।
গুরুগুরু গরজনে মেঘ কহে বাণী,
আশ্চর্য কী আছে ইথে আমি নাহি জানি।
আরো দেখুন
অধ্যাপক
Stories
কলেজে আমার সহপাঠীসম্প্রদায়ের মধ্যে আমার একটু বিশেষ প্রতিপত্তি ছিল। সকলেই আমাকে সকল বিষয়েই সমজদার বলিয়া মনে করিত।
ইহার প্রধান কারণ, ভুল হউক আর ঠিক হউক, সকল বিষয়েই আমার একটা মতামত ছিল। অধিকাংশ লোকেই হাঁ এবং না জোর করিয়া বলিতে পারে না, আমি সেটা খুব বলিতাম।
আরো দেখুন
এসো এসো, এসো প্রিয়ে
Songs
             এসো এসো এসো প্রিয়ে,
মরণলোক হতে নূতন প্রাণ নিয়ে।
আরো দেখুন
সমাপ্তি
Stories
অপূর্বকৃষ্ণ বি. এ. পাস করিয়া কলিকাতা হইতে দেশে ফিরিয়া আসিতেছেন।
নদীটি ক্ষুদ্র। বর্ষা অন্তে প্রায় শুকাইয়া যায়। এখন শ্রাবণের শেষে জলে ভরিয়া উঠিয়া একেবারে গ্রামের বেড়া ও বাঁশঝাড়ের তলদেশ চুম্বন করিয়া চলিয়াছে।
আরো দেখুন
পরী
Stories
কুসমি বললে, তুমি বড্ড বানিয়ে কথা বল। একটা সত্যিকার গল্প শোনাও-না।
আমি বললুম, জগতে দুরকম পদার্থ আছে। এক হচ্ছে সত্য, আর হচ্ছে--আরও-সত্য। আমার কারবার আরও-সত্যকে নিয়ে।
আরো দেখুন
21
Verses
সকালে জাগিয়া উঠি
ফুলদানে দেখিনু গোলাপ;
প্রশ্ন এল মনে--
যুগ-যুগান্তের আবর্তনে
সৌন্দর্যের পরিণামে যে শক্তি তোমারে আনিয়াছে
অপূর্ণের কুৎসিতের প্রতি পদে পীড়ন এড়ায়ে,
সে কি অন্ধ, সে কি অন্যমনা,
সেও কি বৈরাগ্যব্রতী সন্ন্যাসীর মতো
সুন্দরে ও অসুন্দরে ভেদ নাহি করে--
শুধু জ্ঞানক্রিয়া, শুধু বলক্রিয়া তার,
বোধের নাইকো কোনো কাজ?
কারা তর্ক করে বলে, সৃষ্টির সভায়
সুশ্রী কুশ্রী বসে আছে সমান আসনে--
প্রহরীর কোনো বাধা নাই।
আমি কবি তর্ক নাহি জানি,
এ বিশ্বেরে দেখি তার সমগ্র স্বরূপে--
লক্ষকোটি গ্রহতারা আকাশে আকাশে
বহন করিয়া চলে প্রকাণ্ড সুষমা,
ছন্দ নাহি ভাঙে তার সুর নাহি বাধে,
বিকৃতি না ঘটায় স্খলন;
ঐ তো আকাশে দেখি স্তরে স্তরে পাপড়ি মেলিয়া
জ্যোতির্ময় বিরাট গোলাপ।
আরো দেখুন
নষ্টনীড়
Stories
ভূপতির কাজ করিবার কোনো দরকার ছিল না। তাঁহার টাকা যথেষ্ট ছিল, এবং দেশটাও গরম। কিন্তু গ্রহবশত তিনি কাজের লোক হইয়া জন্মগ্রহণ করিয়াছিলেন। এইজন্য তাঁহাকে একটা ইংরেজি খবরের কাগজ বাহির করিতে হইল। ইহার পরে সময়ের দীর্ঘতার জন্য তাঁহাকে আর বিলাপ করিতে হয় নাই।
ছেলেবেলা হইতে তাঁর ইংরেজি লিখিবার এবং বক্তৃতা দিবার শখ ছিল। কোনোপ্রকার প্রয়োজন না থাকিলেও ইংরেজি খবরের কাগজে তিনি চিঠি লিখিতেন, এবং বক্তব্য না থাকিলেও সভাস্থলে দু-কথা না বলিয়া ছাড়িতেন না।
আরো দেখুন
গল্প
Stories
ছেলেটির যেমনি কথা ফুটল অমনি সে বললে, 'গল্প বলো।'
দিদিমা বলতে শুরু করলেন, 'এক রাজপুত্তুর, কোটালের পুত্তুর, সদাগরের পুত্তুর--'
আরো দেখুন
১৪০
Verses
১৪০
দিবসে যাহারে করিয়াছিলাম হেলা
সেই তো আমার প্রদীপ রাতের বেলা ॥
আরো দেখুন
নতুন পুতুল
Stories
এই গুণী কেবল পুতুল তৈরি করত; সে পুতুল রাজবাড়ির মেয়েদের খেলার জন্যে।
বছরে বছরে রাজবাড়ির আঙিনায় পুতুলের মেলা বসে। সেই মেলায় সকল কারিগরই এই গুণীকে প্রধান মান দিয়ে এসেছে।
আরো দেখুন
মেঘদূত
Stories
মিলনের প্রথম দিনে বাঁশি কী বলেছিল।
সে বলেছিল, 'সেই মানুষ আমার কাছে এল যে মানুষ আমার দূরের।'
আরো দেখুন
আবার
Verses
তুমি কেন আসিলে হেথায়
এ আমার সাধের আবাসে?
এ আলয়ে যে নিবাসী থাকে,
এ আলয়ে যে অতিথি আসে,
সবাই আমার সখা,    সবাই আমার বঁধু,
          সবারেই আমি ভালোবাসি,
          তারাও আমারে ভালোবাসে--
          তুমি তবে কেন এলে হেথা
          এ আমার সাধের আবাসে?
          এ আমার প্রেমের আলয়,
          এ মোর স্নেহের নিকেতন;
          বেছে বেছে কুসুম তুলিয়া
          রচিয়াছি কোমল আসন।
          কেহ হেথা নাইকো নিষ্ঠুর,
          কিছু হেথা নাইকো কঠিন,
          কবিতা আমার প্রণয়িনী
          এইখানে আসে প্রতিদিন।
সমীর কোমল-মন      আসে হেথা অনুক্ষণ,
          যখনি সে পায় অবকাশ
যখনি প্রভাত ফুটে,   যখনি সে জেগে উঠে,
          ছুটিয়া সে আসে মোর পাশে;
দুই বাহু প্রসারিয়া          আমারে বুকেতে নিয়া
          কত শত বারতা শুধায়,
          সখা মোর প্রভাতের বায়।
আকাশেতে তুলে আঁখি               বাতায়নে বসে থাকি
          নিশি যবে পোহায়-পোহায়;
উষার আলোকে হারা    সখী মোর শুকতারা
          আমার এ মুখপানে চায়।
নীরবে চাহিয়া রহে,   নীরব নয়নে কহে,
          "সখা, আজ বিদায়, বিদায়।"
          ধীরে ধীরে সন্ধ্যার বাতাস
          প্রতিদিন আসে মোর পাশ।
দেখে, আমি বাতায়নে,          অশ্রু ঝরে দু নয়নে,
          ফেলিতেছি দুখের নিশ্বাস।
          অতি ধীরে আলিঙ্গন করে,
          কথা কহে সকরুণ স্বরে,
          কানে কানে বলে, "হায় হায়।"
কোমল কপোল দিয়া     কপোল চুম্বন করি
          অশ্রু বিন্দু সুধীরে শুকায়।
          সবাই আমার মন বুঝে,
          সবাই আমার দুঃখ জানে,
          সবাই করুণ আঁখি মেলি
          চেয়ে থাকে এই মুখপানে।
          যে কেহ আমার ঘরে আসে
          সবাই আমারে ভালোবাসে--
          তবে কেন তুমি এলে হেথা
          এ আমার সাধের আবাসে?
ফেরো ফেরো, ও নয়নরসহীন ও বয়ন
          আনিয়ো না এ মোর আলয়ে,
আমরা সখারা মিলি    আছি হেথা নিরিবিলি
          আপনার মনোদুঃখ লয়ে।
          এমনি হয়েছে শান্ত মন,
          ঘুচেছে দুঃখের কঠোরতা;
          ভালো লাগে বিহঙ্গের গান,
          ভালো লাগে তটিনীর কথা।
          ভালো লাগে কাননে দেখিতে
          বসন্তের কুসুমের মেলা,
          ভালো লাগে সারাদিন বসে
          দেখিতে মেঘের ছেলেখেলা।
          এইরূপে সায়াহ্নের কোলে
          রচেছি গোধূলি-নিকেতন,
          দিবসের অবসান-কালে
          পশে হেথা রবির কিরণ।
          আসে হেথা অতি দূর হতে
          পাখিদের বিরামের তান,
          ম্রিয়মাণ সন্ধ্যা-বাতাসের
          থেকে থেকে মরণের গান।
          পরিশ্রান্ত অবশ পরানে
          বসিয়া রয়েছি এইখানে।
যাও মোরে যাও ছেড়ে   নিয়ো না নিয়ো না কেড়ে,
          নিয়ো না নিয়ো না মন মোর;
সখাদের কাছ হতে    ছিনিয়া নিয়ো না মোরে,
          ছিঁড়ো না এ প্রণয়ের ডোর।
আবার হারাই যদি     এই গিরি, এই নদী,
          মেঘ বায়ু কানন নির্ঝর,
আবার স্বপন ছুটে          একেবারে যায় টুটে
          এ আমার গোধূলির ঘর।
আবার আশ্রয়হারা,          ঘুরে ঘুরে হই সারা
          ঝটিকার মেঘখণ্ড-সম,
দুঃখের বিদ্যুৎ-ফণা     ভীষণ ভুজঙ্গ এক
          পোষণ করিয়া বক্ষে মম--
তাহা হলে এ জনমে,          নিরাশ্রয়ে এ জীবনে
          ভাঙা ঘর আর গড়িবে না,
          ভাঙা হৃদয় আর জুড়িবে না!
          কাল সবে গড়েছি আলয়,
          কাল সবে জুড়েছি হৃদয়;
          আজি তা দিয়ো না যেন ভেঙে,
          রাখো তুমি রাখো এ বিনয়ে।
আরো দেখুন