মেঘদূত
Stories
মিলনের প্রথম দিনে বাঁশি কী বলেছিল।
সে বলেছিল, 'সেই মানুষ আমার কাছে এল যে মানুষ আমার দূরের।'
আরো দেখুন
ব্যবধান
Stories
সম্পর্ক মিলাইয়া দেখিতে গেলে বনমালী এবং হিমাংশুমালী উভয়ে মামাতো পিসতুতো ভাই; সেও অনেক হিসাব করিয়া দেখিলে তবে মেলে। কিন্তু ইহাদের দুই পরিবার বহুকাল হইতে প্রতিবেশী, মাঝে কেবল একটা বাগানের ব্যবধান, এইজন্য ইহাদের সম্পর্ক নিতান্ত নিকট না হইলেও ঘনিষ্ঠতার অভাব নাই।
বনমালী হিমাংশুর চেয়ে অনেক বড়ো। হিমাংশুর যখন দন্ত এবং বাক্যস্ফূর্তি হয় নাই, তখন বনমালী তাহাকে কোলে করিয়া এই বাগানে সকালে সন্ধ্যায় হাওয়া খাওয়াইয়াছে, খেলা করিয়াছে, কান্না থামাইয়াছে, ঘুম পাড়াইয়াছে এবং শিশুর মনোরঞ্জন করিবার জন্য পরিণতবুদ্ধি বয়স্ক লোকদিগকে সবেগে শিরশ্চালন, তারস্বরে প্রলাপভাষণ প্রভৃতি যে-সকল বয়সানুচিত চাপল্য এবং উৎকট উদ্যম প্রকাশ করিতে হয়, বনমালী তাহাও করিতে ত্রুটি করে নাই।
আরো দেখুন
জয়পরাজয়
Stories
রাজকন্যার নাম অপরাজিতা। উদয়নারায়ণের সভাকবি শেখর তাঁহাকে কখনো চক্ষেও দেখেন নাই। কিন্তু যেদিন কোনো নূতন কাব্য রচনা করিয়া সভাতলে বসিয়া রাজাকে শুনাইতেন, সেদিন কণ্ঠস্বর ঠিক এতটা উচ্চ করিয়া পড়িতেন যাহাতে তাহা সেই সমুচ্চ গৃহের উপরিতলের বাতায়নবর্তিনী অদৃশ্য শ্রোত্রীগণের কর্ণপথে প্রবেশ করিতে পারে। যেন তিনি কোনো-এক অগম্য নক্ষত্রলোকের উদ্দেশে আপনার সংগীতোচ্ছ্বাস প্রেরণ করিতেন যেখানে জ্যোতিষ্ক-মণ্ডলীর মধ্যে তাঁহার জীবনের একটি অপরিচিত শুভগ্রহ অদৃশ্য মহিমায় বিরাজ করিতেছেন।
কখনো ছায়ার মতন দেখিতে পাইতেন, কখনো নূপুরশিঞ্জনের মতন শুনা যাইত; বসিয়া বসিয়া মনে মনে ভাবিতেন, সে কেমন দুইখানি চরণ যাহাতে সেই সোনার নূপুর বাঁধা থাকিয়া তালে তালে গান গাহিতেছে। সেই দুইখানি রক্তিম শুভ্র কোমল চরণতল প্রতি পদক্ষেপে কী সৌভাগ্য কী অনুগ্রহ কী করুণার মতো করিয়া পৃথিবীকে স্পর্শ করে। মনের মধ্যে সেই চরণদুটি প্রতিষ্ঠা করিয়া কবি অবসরকালে সেইখানে আসিয়া লুটাইয়া পড়িত এবং সেই নূপুরশিঞ্জনের সুরে আপনার গান বাঁধিত।
আরো দেখুন
মীনু
Stories
মীনু পশ্চিমে মানুষ হয়েছে। ছেলেবেলায় ইঁদারার ধারে তুঁতের গাছে লুকিয়ে ফল পাড়তে যেত; আর অড়রখেতে যে বুড়ো মালী ঘাস নিড়োত তার সঙ্গে ওর ছিল ভাব।
বড়ো হয়ে জৌনপুরে হল ওর বিয়ে। একটি ছেলে হয়ে মারা গেল, তার পরে ডাক্তার বললে, 'এও বাঁচে কি না-বাঁচে।'
আরো দেখুন
20
Verses
          আনন্দ-গান উঠুক তবে বাজি
              এবার আমার ব্যথার বাঁশিতে।
          অশ্রুজলের ঢেউয়ের 'পরে আজি
              পারের তরী থাকুক ভাসিতে।
          যাবার হাওয়া ওই যে উঠেছে--ওগো
              ওই যে উঠেছে,
          সারারাত্রি চক্ষে আমার
              ঘুম যে ছুটেছে।
          হৃদয় আমার উঠছে দুলে দুলে
              অকূল জলের অট্টহাসিতে,
          কে গো তুমি দাও দেখি তান তুলে
              এবার আমার ব্যথার বাঁশিতে।
          হে অজানা, অজানা সুর নব
              বাজাও আমার ব্যথার বাঁশিতে,
          হঠাৎ এবার উজান হাওয়ায় তব
              পারের তরী থাক্‌ না ভাসিতে।
          কোনো কালে হয় নি যারে দেখা--ওগো
              তারি বিরহে
          এমন করে ডাক দিয়েছে,
              ঘরে কে রহে।
          বাসার আশা গিয়েছে মোর ঘুরে,
              ঝাঁপ দিয়েছি আকাশরাশিতে;
          পাগল, তোমার সৃষ্টিছাড়া সুরে
              তান দিয়ো মোর ব্যথার বাঁশিতে।
আরো দেখুন
ছুটি
Stories
বালকদিগের সর্দার ফটিক চক্রবর্তীর মাথায় চট করিয়া একটা নূতন ভাবোদয় হইল, নদীর ধারে একটা প্রকাণ্ড শালকাষ্ঠ মাস্তুলে রূপান্তরিত হইবার প্রতীক্ষায় পড়িয়া ছিল; স্থির হইল, সেটা সকলে মিলিয়া গড়াইয়া লইয়া যাইবে।
যে-ব্যক্তির কাঠ, আবশ্যককালে তাহার যে কতখানি বিস্ময় বিরক্তি এবং অসুবিধা বোধ হইবে, তাহাই উপলব্ধি করিয়া বালকেরা এ প্রস্তাবে সম্পূর্ণ অনুমোদন করিল।
আরো দেখুন
শেষ বেলাকার শেষের
Songs
     শেষ বেলাকার শেষের গানে
          ভোরের বেলার বেদন আনে॥
তরুণ মুখের করুণ হাসি    গোধূলি-আলোয় উঠেছে ভাসি,
          প্রথম ব্যথার প্রথম বাঁশি
     বাজে দিগন্তে কী সন্ধানে  শেষের গানে॥
     আজি দিনান্তে মেঘের মায়া
          সে আঁখিপাতার ফেলেছে ছায়া।
     খেলায় খেলায় যে কথাখানি
          চোখে চোখে যেত বিজলি হানি
              সেই প্রভাতের নবীন বাণী
     চলেছে রাতের স্বপন-পানে     শেষের গানে॥
আরো দেখুন
আকুল আহ্বান
Verses
অভিমান ক'রে কোথায় গেলি,
       আয় মা ফিরে, আয় মা ফিরে আয়।
দিন রাত কেঁদে কেঁদে ডাকি
       আয় মা ফিরে, আয় মা ফিরে আয়।
সন্ধে হল, গৃহ অন্ধকার,
       মা গো, হেথায় প্রদীপ জ্বলে না।
একে একে সবাই ঘরে এল,
       আমায় যে মা, "মা' কেউ বলে না।
সময় হল বেঁধে দেব চুল,
       পরিয়ে দেব রাঙা কাপড়খানি।
সাঁজের তারা সাঁজের গগনে --
       কোথায় গেল, রানী আমার রানী!
ও মা, রাত হল, আঁধার করে আসে,
       ঘরে ঘরে প্রদীপ নিবে যায়।
আমার ঘরে ঘুম নেইকো শুধু --
       শূন্য শেজ শূন্যপানে চায়।
কোথায় দুটি নয়ন ঘুমে ভরা,
সেই নেতিয়ে-পড়া ঘুমিয়ে-পড়া মেয়ে।
       শ্রান্ত দেহ ঢুলে ঢুলে পড়ে,
তবু মায়ের তরে আছে বুঝি চেয়ে।
আঁধার রাতে চলে গেলি তুই,
আঁধার রাতে চুপি চুপি আয়।
কেউ তো তোরে দেখতে পাবে না,
       তারা শুধু তারার পানে চায়।
পথে কোথাও জনপ্রাণী নেই,
       ঘরে ঘরে সবাই ঘুমিয়ে আছে।
মা তোর শুধু একলা দ্বারে বসে,
       চুপি চুপি আয় মা, মায়ের কাছে।
আমি তোরে নুকিয়ে রেখে দেব,
       রেখে দেব বুকের মধ্যে করে --
থাক্‌, মা, সে তার পাষাণ হৃদি নিয়ে
       অনাদর যে করেছে তোরে।
মলিন মুখে গেলি তাদের কাছে --
তবু তারা নিলে না মা কোলে?
বড়ো বড়ো আঁখি দুখানি
       রইলি তাদের মুখের পানে তুলে?
এ জগৎ কঠিন -- কঠিন --
       কঠিন, শুধু মায়ের প্রাণ ছাড়া।
সেইখানে তুই আয় মা ফিরে আয় --
       এত ডাকি দিবি নে কি সাড়া?
হে ধরণী, জীবের জননী,
       শুনেছি যে মা তোমায় বলে।
তবে কেন তোর কোলে সবে
       কেঁদে আসে কেঁদে যায় চলে।
তবে কেন তোর কোলে এসে
       সন্তানের মেটে না পিপাসা।
কেন চায় -- কেন কাঁদে সবে,
       কেন কেঁদে পায় না ভালোবাসা।
কেন হেথা পাষাণ পরান
       কেন সবে নীরস নিষ্ঠুর!
কেঁদে কেঁদে দুয়ারে যে আসে
       কেন তারে করে দেয় দূর!
কেঁদে যে-জন ফিরে চলে যায়,
       তার তরে কাঁদিস নে কেহ --
এই কি মা জননীর প্রাণ!
       এই কি মা জননীর স্নেহ!
ফুলের দিনে সে যে চলে গেল,
       ফুল ফোটা সে দেখে গেল না।
ফুলে ফুলে ভরে গেল বন,
       একটি সে তো পরতে পেল না।
ফুল ফোটে, ফুল ঝরে যায় --
       ফুল নিয়ে আর সবাই পরে।
ফিরে এসে সে যদি দাঁড়ায়,
       একটিও রবে না তার তরে!
তার তরে মা কেবল আছে,
       আছে শুধু জননীর স্নেহ,
আছে শুধু মা'র অশ্রুজল --
       কিছু নাই, নাই আর কেহ।
খেলত যারা তারা খেলতে গেছে,
       হাসত যারা তারা আজও হাসে,
তার তরে কেহ ব'সে নেই,
       মা শুধু রয়েছে তারি আশে!
হায় বিধি, এ কি ব্যর্থ হবে!
       ব্যর্থ হবে মা'র ভালোবাসা!
কত জনের কত আশা পুরে,
       ব্যর্থ হবে মার প্রাণের আশা!
আরো দেখুন
এক ফাগুনের গান
Songs
এক ফাগুনের গান সে আমার   আর ফাগুনের কূলে কূলে
কার খোঁজে আজ পথ হারালো   নতুন কালের ফুলে ফুলে॥
শুধায় তারে বকুল-হেনা,   'কেউ আছে কি তোমার চেনা।'
          সে বলে, 'হায় আছে কি নাই
                   না বুঝে তাই বেড়াই ভুলে
                   নতুন কালের ফুলে ফুলে।'
এক ফাগুনের মনের কথা   আর ফাগুনের কানে কানে
গুঞ্জরিয়া কেঁদে শুধায়,   'মোর ভাষা আর কেই বা জানে।'
আকাশ বলে, 'কে জানে সে   কোন্‌ ভাষা যে বেড়ায় ভেসে।'
          'হয়তো জানি' 'হয়তো জানি'
                   বাতাস বলে দুলে দুলে
                   নতুন কালের ফুলে ফুলে॥
আরো দেখুন
প্রাণমন
Stories
আমার জানলার সামনে রাঙা মাটির রাস্তা।
ওখান দিয়ে বোঝাই নিয়ে গোরুর গাড়ি চলে; সাঁওতাল মেয়ে খড়ের আঁটি মাথায় করে হাটে যায়, সন্ধ্যাবেলায় কলহাস্যে ঘরে ফেরে।
আরো দেখুন
মেঘলা দিনে
Stories
রোজই থাকে সমস্তদিন কাজ, আর চার দিকে লোকজন। রোজই মনে হয়, সেদিনকার কাজে, সেদিনকার আলাপে সেদিনকার সব কথা দিনের শেষে বুঝি একেবারে শেষ করে দেওয়া হয়। ভিতরে কোন্‌ কথাটি যে বাকি রয়ে গেল তা বুঝে নেবার সময় পাওয়া যায় না।
আজ সকালবেলা মেঘের স্তবকে স্তবকে আকাশের বুক ভরে উঠেছে। আজও সমস্ত দিনের কাজ আছে সামনে, আর লোক আছে চার দিকে। কিন্তু, আজ মনে হচ্ছে, ভিতরে যা-কিছু আছে বাইরে তা সমস্ত শেষ করে দেওয়া যায় না।
আরো দেখুন