নিশীথে
Stories
'ডাক্তার! ডাক্তার!'
জ্বালাতন করিল! এই অর্ধেক রাত্রে--
আরো দেখুন
ভাইফোঁটা
Stories
শ্রাবণ মাসটা আজ যেন এক রাত্রে একেবারে দেউলে হইয়া গেছে। সমস্ত আকাশে কোথাও একটা ছেঁড়া মেঘের টুকরোও নাই।
আশ্চর্য এই যে, আমার সকালটা আজ এমন করিয়া কাটিতেছে। আমার বাগানের মেহেদি-বেড়ার প্রান্তে শিরীষগাছের পাতাগুলো ঝল্‌মল্‌ করিয়া উঠিতেছে, আমি তাহা তাকাইয়া দেখিতেছি। সর্বনাশের যে মাঝ-দরিয়ায় আসিয়া পৌঁছিয়াছি এটা যখন দূরে ছিল তখন ইহার কথা কল্পনা করিয়া কত শীতের রাত্রে সর্বাঙ্গে ঘাম দিয়াছে,কত গ্রীষ্মের দিনে হাত-পায়ের তেলো ঠাণ্ডা হিম হইয়া গেছে। কিন্তু আজ সমস্ত ভয়ভাবনা হইতে এমনি ছুটি পাইয়াছি যে, ঐ যে আতাগাছের ডালে একটা গিরগিটি স্থির হইয়া শিকার লক্ষ্য করিতেছে,সেটার দিকেও আমার চোখ রহিয়াছে।
আরো দেখুন
201
Verses
HE WASP thinks that the honey-hive of the neighbouring bees is too small.
His neighbours ask him to build one still smaller.
আরো দেখুন
মুক্তি
Stories
বিরহিণী তার ফুলবাগানের এক ধারে বেদী সাজিয়ে তার উপর মূর্তি গড়তে বসল। তার মনের মধ্যে যে মানুষটি ছিল বাইরে তারই প্রতিরূপ প্রতিদিন একটু একটু করে গড়ে, আর চেয়ে চেয়ে দেখে, আর ভাবে, আর চোখ দিয়ে জল পড়ে।
কিন্তু, যে রূপটি একদিন তার চিত্তপটে স্পষ্ট ছিল তার উপরে ক্রমে যেন ছায়া পড়ে আসছে। রাতের বেলাকার পদ্মের মতো স্মৃতির পাপড়িগুলি অল্প অল্প করে যেন মুদে এল।
আরো দেখুন
মালঞ্চ
Novels
পিঠের দিকে বালিশগুলো উঁচু-করা। নীরজা আধ-শোওয়া পড়ে আছে রোগ শয্যায়। পায়ের উপরে সাদা রেশমের চাদর টানা, যেন তৃতীয়ার ফিকে জ্যোৎস্না হালকা মেঘের তলায়। ফ্যাকাশে তার শাঁখের মতো রঙ, ঢিলে হয়ে পড়েছে চুড়ি, রোগা হাতে নীল শিরার রেখা, ঘনপক্ষ্ণ চোখের পল্লবে লেগেছে রোগের কালিমা।
মেঝে সাদা মারবেলে বাঁধানো, দেয়ালে রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের ছবি, ঘরে পালঙ্ক, একটি টিপাই, দুটি বেতের মোড়ার আর এক কোণে কাপড় ঝোলাবার আলনা ছাড়া অন্য কোনো আসবার নেই; এক কোণে পিতলের কলসীতে রজনীগন্ধার গুচ্ছ, তারই মৃদু গন্ধ বাঁধা পড়েছে ঘরের বন্ধ হাওয়ায়।
আরো দেখুন
নতুনকাল
Verses
কোন্‌-সে কালের কন্ঠ হতে এসেছে এই স্বর--
          "এপার গঙ্গা ওপার গঙ্গা', মধ্যিখানে চর।'
          অনেক বাণীর বদল হল, অনেক বাণী চুপ,
          নতুন কালের নটরাজা নিল নতুন রূপ।
          তখন যে-সব ছেলেমেয়ে শুনেছে এই ছড়া
                   তারা ছিল আর-এক ছাঁদে-গড়া।
          প্রদীপ তারা ভাসিয়ে দিত পূজা আনত তীরে,
কী জানি কোন্‌ চোখে দেখত মকরবাহিনীরে।
                   তখন ছিল নিত্য অনিশ্চয়,
          ইহকালের পরকালের হাজার-রকম ভয়।
          জাগত রাজার দারুণ খেয়াল, বর্গি নামত দেশে,
          ভাগ্যে লাগত ভূমিকম্প হঠাৎ এক নিমেষে।
          ঘরের থেকে খিড়কিঘাটে চলতে হত ডর,
                   লুকিয়ে কোথায় রাজদস্যুর চর।
                   আঙিনাতে শুনত পালাগান,
          বিনা দোষে দেবীর কোপে সাধুর অসম্মান।
                             সামান্য ছুতায়
                   ঘরের বিবাদ গ্রামের শত্রুতায়
          গুপ্ত চালের লড়াই যেত লেগে,
          শক্তিমানের উঠত গুমর জেগে।
          হারত যে তার ঘুচত পাড়ায় বাস,
                   ভিটেয় চলত চাষ।
ধর্ম ছাড়া কারো নামে পাড়বে যে দোহাই
                   ছিল না সেই ঠাঁই।
ফিস্‌ফিসিয়ে কথা কওয়া, সংকোচে মন ঘেরা,
গৃহস্থবউ, জিব কেটে তার হঠাৎ পিছন-ফেরা--
আলতা পায়ে, কাজল চোখে, কপালে তার টিপ,
          ঘরের কোণে জ্বালে মাটির দীপ।
মিনতি তার জলে স্থলে, দোহাই-পাড়া মন,
          অকল্যাণের শঙ্কা সারাক্ষণ।
                   আয়ুলাভের তরে
বলির পশুর রক্ত লাগায় শিশুর ললাট-'পরে।
                   রাত্রিদিবস সাবধানে তার চলা,
অশুচিতার ছোঁয়াচ কোথায় যায় না কিছুই বলা।
          ও দিকেতে মাঠে বাটে দস্যুরা দেয় হানা,
          এ দিকে সংসারের পথে অপদেব্‌তা নানা।
জানা কিম্বা না-জানা সব অপরাধের বোঝা,
                   ভয়ে তারই হয় না মাথা সোজা।
এরই মধ্যে গুন্‌গুনিয়ে উঠল কাহার স্বর--
          "এপার গঙ্গা ওপার গঙ্গা, মধ্যিখানে চর।'
সেদিনও সেই বইতেছিল উদার নদীর ধারা,
ছায়া-ভাসান দিতেছিল সাঁজ-সকালের তারা।
হাটের ঘাটে জমেছিল নৌকো মহাজনি,
রাত না যেতে উঠেছিল দাঁড়-চালানো ধ্বনি।
          শান্ত প্রভাতকালে
সোনার রৌদ্র পড়েছিল জেলেডিঙির পালে।
          সন্ধেবেলায় বন্ধ আসা-যাওয়া,
হাঁস-বলাকার পাখার ঘায়ে চমকেছিল হাওয়া।
          ডাঙায় উনুন পেতে
রান্না চড়েছিল মাঝির বনের কিনারেতে।
          শেয়াল ক্ষণে ক্ষণে
উঠতেছিল ডেকে ডেকে ঝাউয়ের বনে বনে।
কোথায় গেল সেই নবাবের কাল,
          কাজির বিচার, শহর-কোতোয়াল।
          পুরাকালের শিক্ষা এখন চলে উজান-পথে,
          ভয়ে-কাঁপা যাত্রা সে নেই বলদ-টানা রথে।
ইতিহাসের গ্রন্থে আরো খুলবে নতুন পাতা,
নতুন রীতির সূত্রে হবে নতুন জীবন গাঁথা।
যে হোক রাজা যে হোক মন্ত্রী কেউ রবে না তারা,
          বইবে নদীর ধারা--
জেলেডিঙি চিরকালের নৌকো মহাজনি,
          উঠবে দাঁড়ের ধ্বনি।
প্রাচীন অশথ আধা ডাঙায় জলের 'পরে আধা,
সারারাত্রি গুঁড়িতে তার পান্‌সি রইবে বাঁধা।
তখনো সেই বাজবে কানে যখন যুগান্তর--
"এপার গঙ্গা ওপার গঙ্গা ', মধ্যিখানে চর।'
আরো দেখুন
2
Verses
বহু জন্মদিনে গাঁথা আমার জীবনে
দেখিলাম আপনারে বিচিত্র রূপের সমাবেশে।
একদা নূতন বর্ষ অতলান্ত সমুদ্রের বুকে
মোরে এনেছিল বহি
তরঙ্গের বিপুল প্রলাপে
দিক হতে যেথা দিগন্তরে
শূন্য নীলিমার 'পরে শূন্য নীলিমায়
তটকে করিছে অস্বীকার।
সেদিন দেখিনু ছবি অবিচিত্র ধরণীর--
সৃষ্টির প্রথম রেখাপাতে
জলমগ্ন ভবিষ্যৎ যবে
প্রতিদিন সূর্যোদয়-পানে
আপনার খুঁজিছে সন্ধান।
প্রাণের রহস্য-ঢাকা
তরঙ্গের যবনিকা-'পরে
চেয়ে চেয়ে ভাবিলাম,
এখনো হয় নি খোলা আমার জীবন-আবরণ--
সম্পূর্ণ যে আমি
রয়েছে গোপনে অগোচর।
নব নব জন্মদিনে
যে রেখা পড়িছে আঁকা শিল্পীর তুলির টানে টানে
ফোটে নি তাহার মাঝে ছবির চরম পরিচয়।
শুধু করি অনুভব,
চারি দিকে অব্যক্তের বিরাট প্লাবন
বেষ্টন করিয়া আছে দিবসরাত্রিরে।
আরো দেখুন