গায়ে আমার পুলক লাগে
Verses
       গায়ে আমার পুলক লাগে,
              চোখে ঘনায় ঘোর,
       হৃদয়ে মোর কে বেঁধেছে
              রাঙা রাখীর ডোর।
                           আজিকে এই আকাশতলে
                           জলে স্থলে ফুলে ফলে
                           কেমন করে মনোহরণ
                                  ছড়ালে মন মোর।
       কেমন খেলা হল আমার
              আজি তোমার সনে।
       পেয়েছি কি খুঁজে বেড়াই
              ভেবে না পাই মনে।
                           আনন্দ আজ কিসের ছলে
                           কাঁদিতে চায় নয়নজলে,
                           বিরহ আজ মধুর হয়ে
                                  করেছে প্রাণ ভোর।
আরো দেখুন
কাণ্ডারী গো,যদি এবার
Verses
কাণ্ডারী গো,যদি এবার
              পৌঁছে থাক কূলে
হাল ছেড়ে দাও, এখন আমার    
              হাত ধরে লও তুলে।
      ক্ষণেক তোমার বনের ঘাসে
      বসাও আমায় তোমার পাশে,
      রাত্রি আমার কেটে গেছে
              ঢেউয়ের দোলায় দুলে।
কাণ্ডারী গো, ঘর যদি মোর
               না থাকে আর দূরে,
ওই যদি মোর ঘরের বাঁশি
               বাজে ভোরের সুরে,
      শেষ বাজিয়ে দাও গো চিতে
      অশ্রুজলের রাগিণীতে
      পথের বাঁশিখানি তোমার
               পথতরুর মূলে।
আরো দেখুন
ভালোমানুষ
Stories
ছিঃ, আমি নেহাত ভালোমানুষ।
কুসমি বললে, কী যে তুমি বল তার ঠিক নেই। তুমি যে ভালোমানুষ সেও কি বলতে হবে। কে না জানে, তুমি ও পাড়ার লোটনগুণ্ডার দলের সর্দার নও। ভালোমানুষ তুমি বল কাকে।
আরো দেখুন
চতুরঙ্গ
Novels
আমি পাড়াগাঁ হইতে কলিকাতায় আসিয়া কালেজে প্রবেশ করিলাম। শচীশ তখন বি. এ. ক্লাসে পড়িতেছে। আমাদের বয়স প্রায় সমান হইবে।
শচীশকে দেখিলে মনে হয় যেন একটা জ্যোতিষ্ক-- তার চোখ জ্বলিতেছে; তার লম্বা সরু আঙুলগুলি যেন আগুনের শিখা; তার গায়ের রঙ যেন রঙ নহে, তাহা আভা। শচীশকে যখন দেখিলাম অমনি যেন তার অন্তরাত্মাকে দেখিতে পাইলাম; তাই একমুহূর্তে তাহাকে ভালোবাসিলাম।
আরো দেখুন
বাচস্পতি
Stories
দাদামশায়, তুমি তোমার চার দিকে যেসব পাগলের দল জমিয়েছিলে, গুণ হিসেব ক'রে তাদের বুঝি সব নম্বর দিয়ে রেখেছিলে?
হ্যাঁ, তা করতে হয়েছে বই-কি। কম তো জমে নি।
আরো দেখুন
রক্ষা করো হে
Songs
                                রক্ষা করো হে।
             আমার কর্ম হইতে আমায় রক্ষা করো হে। 
             আপন ছায়া আতঙ্কে মোরে করিছে কম্পিত হে,
             আপন চিন্তা গ্রাসিছে আমায়– রক্ষা করো হে।
             প্রতিদিন আমি আপনি রচিয়া জড়াই মিথ্যাজালে–
             ছলনাডোর হইতে মোরে রক্ষা করো হে। 
             অহঙ্কার হৃদয়দ্বার রয়েছে রোধিয়া হে–
             আপনা হতে আপনার, মোরে রক্ষা করো হে।।
আরো দেখুন
92
Verses
জীবনযাত্রার পথে
      ক্লান্তি ভুলি, তরুণ পথিক,
        চলো নির্ভীক।
আপন অন্তরে তব
      আপন যাত্রার দীপালোক
        অনির্বাণ হোক।
আরো দেখুন
119
Verses
দুখের দশা শ্রাবণরাতি--
    বাদল না পায় মানা,
      চলেছে একটানা।
সুখের দশা যেন সে বিদ্যুৎ
      ক্ষণহাসির দূত।
আরো দেখুন
ঘাটের কথা
Stories
পাষাণে ঘটনা যদি অঙ্কিত হইত তবে কতদিনকার কত কথা আমার সোপানে সোপানে পাঠ করিতে পারিতে। পুরাতন কথা যদি শুনিতে চাও, তবে আমার এই ধাপে বইস; মনোযোগ দিয়া জলকল্লোলে কান পাতিয়া থাকো, বহুদিনকার কত বিস্মৃত কথা শুনিতে পাইবে।
আমার আর-একদিনের কথা মনে পড়িতেছে। সেও ঠিক এইরূপ দিন। আশ্বিন মাস পড়িতে আর দুই-চারি দিন বাকি আছে। ভোরের বেলায় অতি ঈষৎ মধুর নবীন শীতের বাতাস নিদ্রোত্থিতের দেহে নূতন প্রাণ আনিয়া দিতেছে। তরু-পল্লব অমনি একটু একটু শিহরিয়া উঠিতেছে।
আরো দেখুন
এ তো খেলা
Songs
এ তো খেলা নয়, খেলা নয়--  এ যে হৃদয়দহনজ্বালা সখী॥
এ যে প্রাণভরা ব্যাকুলতা,  গোপন মর্মের ব্যথা,
    এ যে, কাহার চরণোদ্দেশে জীবন মরণ ঢালা॥
কে যেন সতত মোরে    ডাকিয়ে আকুল করে,
যাই-যাই করে প্রাণ, যেতে পারি নে।
    যে-কথা বলিতে চাহি,    তা বুঝি বলিতে নাহি--
    কোথায় নামায়ে রাখি, সখী, এ প্রেমের ডালা।
    যতনে গাঁথিয়ে শেষে, পরাতে পারি নে মালা।
আরো দেখুন
27
Verses
মোহন কন্ঠ সুরের ধারায় যখন বাজে
বাহির ভুবন তখন হারায় গহন মাঝে।
         বিশ্ব তখন নিজেরে ভুলায়
         আকাশের বাণী ধরার ধুলায়
         ধরে অপরূপ নব নব কায়
                   নবীন সাজে।
আরো দেখুন
রথযাত্রা
Stories
রথযাত্রার দিন কাছে।
তাই রানী রাজাকে বললে, 'চলো, রথ দেখতে যাই।'
আরো দেখুন
বিশ্বশোক
Verses
দুঃখের দিনে লেখনীকে বলি--
           লজ্জা দিয়ো না।
    সকলের নয় যে আঘাত
           ধোরো না সবার চোখে।
    ঢেকো না মুখ অন্ধকারে,
        রেখো না দ্বারে আগল দিয়ে।
    জ্বালো সকল রঙের উজ্জ্বল বাতি,
               কৃপণ হোয়ো না।
অতি বৃহৎ বিশ্ব,
    অম্লান তার মহিমা,
        অক্ষুব্ধ তার প্রকৃতি।
    মাথা তুলেছে দুর্দর্শ সূর্যলোকে,
        অবিচলিত অকরুণ দৃষ্টি তার অনিমেষ,
           অকম্পিত বক্ষ প্রসারিত
               গিরি নদী প্রান্তরে।
        আমার সে নয়,
               সে অসংখ্যের।
    বাজে তার ভেরী সকল দিকে,
           জ্বলে অনিভৃত আলো,
        দোলে পতাকা মহাকাশে।
তার সমুখে লজ্জা দিয়ো না--
    আমার ক্ষতি আমার ব্যথা
        তার সমুখে কণার কণা।
এই ব্যথাকে আমার বলে ভুলব যখনি
    তখনি সে প্রকাশ পাবে বিশ্বরূপে।
দেখতে পাব বেদনার বন্যা নামে কালের বুকে
               শাখাপ্রশাখায়;
           ধায় হৃদয়ের মহানদী
সব মানুষের জীবনস্রোতে ঘরে ঘরে।
        অশ্রুধারার ব্রহ্মপুত্র
           উঠছে ফুলে ফুলে
               তরঙ্গে তরঙ্গে;
সংসারের কূলে কূলে
        চলে তার বিপুল ভাঙাগড়া
           দেশে দেশান্তরে।
        চিরকালের সেই বিরহতাপ,
    চিরকালের সেই মানুষের শোক,
নামল হঠাৎ আমার বুকে;
    এক প্লাবনে থর্‌থরিয়ে কাঁপিয়ে দিল
               পাঁজরগুলো--
    সব ধরণীর কান্নার গর্জনে
        মিলে গিয়ে চলে গেল অনন্তে,
           কী উদ্দেশে কে তা জানে।
আজকে আমি ডেকে বলি লেখনীকে,
           লজ্জা দিয়ো না।
কূল ছাপিয়ে উঠুক তোমার দান।
           দাক্ষিণ্যে তোমার
        ঢাকা পড়ুক অন্তরালে
           আমার আপন ব্যথা।
    ক্রন্দন তার হাজার তানে মিলিয়ে দিয়ো
               বিশাল বিশ্বসুরে।
আরো দেখুন