Stray Birds
(THE SERVICE of the fruit is precious)
217
THE SERVICE of the fruit is precious, the service of the flower is sweet, but let my service be the service of the leaves in its shade of humble devotion.
তোমার কাছে আমিই দুষ্টু ভালো যে আর সবাই। মিত্তিরদের কালু নিলু ভারি ঠাণ্ডা ক-ভাই! যতীশ ভালো, সতীশ ভালো, ন্যাড়া নবীন ভালো, তুমি বল ওরাই কেমন ঘর করে রয় আলো। মাখন বাবুর দুটি ছেলে দুষ্টু তো নয় কেউ-- গেটে তাদের কুকুর বাঁধা কর্তেছে ঘেউ ঘেউ। পাঁচকড়ি ঘোষ লক্ষ্মী ছেলে, দত্তপাড়ার গবাই, তোমার কাছে আমিই দুষ্টু ভালো যে আর সবাই। তোমার কথা আমি যেন শুনি নে কক্খনোই, জামাকাপড় যেন আমার সাফ থাকে না কোনোই! খেলা করতে বেলা করি, বৃষ্টিতে যাই ভিজে, দুষ্টুপনা আরো আছে অমনি কত কী যে! বাবা আমার চেয়ে ভালো? সত্যি বলো তুমি, তোমার কাছে করেন নি কি একটুও দুষ্টুমি? যা বল সব শোনেন তিনি, কিচ্ছু ভোলেন নাকো? খেলা ছেড়ে আসেন চলে যেমনি তুমি ডাক?
তীর্থের যাত্রিণী ও যে, জীবনের পথে শেষ আধক্রোশটুকু টেনে টেনে চলে কোনোমতে। হাতে নামজপ-ঝুলি পাশে তার রয়েছে পুটুলি। ভোর হতে ধৈর্য ধরি বসি ইস্টেশনে অস্পষ্ট ভাবনা আসে মনে-- আর কোনো ইস্টেশনে আছে যেন আর কোনো ঠাঁই, যেথা সব ব্যর্থতাই আপনায় হারানো অর্থেরে ফিরে পায়, যেথা গিয়ে ছায়া কোনো-এক রূপ ধরি পায় যেন কোনো-এক কায়া। বুকের ভিতরে ওর পিছু হতে দেয় দোল আশৈশব-পরিচিত দূর সংসারের কলরোল প্রত্যাখ্যাত জীবনের প্রতিহত আশা অজানার নিরুদ্দেশে প্রদোষ খুঁজিতে চলে বাসা। যে পথে সে করেছিল যাত্রা একদিন সেখানে নবীন আলোকে আকাশ ওর মুখ চেয়ে উঠেছিল হেসে। সে পথে পড়েছে আজ এসে অজানা লোকের দল, তাদের কন্ঠের ধ্বনি ওর কাছে ব্যর্থ কোলাহল। যে যৌবনখানি একদিন পথে যেতে বল্লভেরে দিয়েছিল আনি মধুমদিরার রসে বেদনার নেশা দুঃখে-সুখে-মেশা সে রসের রিক্ত পাত্রে আজ শুষ্ক অবহেলা, মধুপগুঞ্জনহীন যেন ক্লান্ত হেমন্তের বেলা। আজিকে চলেছে যারা খেলার সঙ্গীর আশে ওরে ঠেলে যায় পথপাশে; যে খুঁজিছে দুর্গমের সাথি ও পারে না তার পথে জ্বালাইতে বাতি জীর্ণ কম্পমান হাতে দুর্যোগের রাতে। একদিন যারা সবে এ পথনির্মাণে লেগেছিল আপনার জীবনের দানে ও ছিল তাদেরি মাঝে নানা কাজে-- সে পথ উহার আজ নহে। সেথা আজি কোন্ দূত কী বারতা বহে কোন্ লক্ষ্য-পানে নাহি জানে। পরিত্যক্ত একা বসি ভাবিতেছে, পাবে বুঝি দূরে সংসারের গ্লানি ফেলে স্বর্গ-ঘেঁষা দুমূর্ল্য কিছুরে। হায়, সেই কিছু যাবে ওর আগে আগে প্রেতসম, ও চলিবে পিছু ক্ষীণালোকে, প্রতিদিন ধরি-ধরি করি তারে অবশেষে মিলাবে আঁধারে।
কৃষ্ণকলি আমি তারেই বলি, কালো তারে বলে গাঁয়ের লোক। মেঘলা দিনে দেখেছিলেম মাঠে কালো মেয়ের কালো হরিণ-চোখ। ঘোমটা মাথায় ছিল না তার মোটে, মুক্তবেণী পিঠের 'পরে লোটে। কালো? তা সে যতই কালো হোক দেখেছি তার কালো হরিণ-চোখ। ঘন মেঘে আঁধার হল দেখে ডাকতেছিল শ্যামল দুটি গাই, শ্যামা মেয়ে ব্যস্ত ব্যাকুল পদে কুটির হতে ত্রস্ত এল তাই। আকাশ-পানে হানি যুগল ভুরু শুনলে বারেক মেঘের গুরুগুরু। কালো? তা সে যতই কালো হোক দেখেছি তার কালো হরিণ-চোখ। পুবে বাতাস এল হঠাৎ ধেয়ে, ধানের খেতে খেলিয়ে গেল ঢেউ। আলের ধারে দাঁড়িয়েছিলেম একা, মাঠের মাঝে আর ছিল না কেউ। আমার পানে দেখলে কিনা চেয়ে আমিই জানি আর জানে সে মেয়ে। কালো? তা সে যতই কালো হোক দেখেছি তার কালো হরিণ-চোখ। এমনি করে কালো কাজল মেঘ জ্যৈষ্ঠ মাসে আসে ঈশান কোণে। এমনি করে কালো কোমল ছায়া আষাঢ় মাসে নামে তমাল-বনে। এমনি করে শ্রাবণ-রজনীতে হঠাৎ খুশি ঘনিয়ে আসে চিতে। কালো? তা সে যতই কালো হোক দেখেছি তার কালো হরিণ-চোখ। কৃষ্ণকলি আমি তারেই বলি, আর যা বলে বলুক অন্য লোক। দেখেছিলেম ময়নাপাড়ার মাঠে কালো মেয়ের কালো হরিণ-চোখ। মাথার 'পরে দেয় নি তুলে বাস, লজ্জা পাবার পায় নি অবকাশ। কালো? তা সে যতই কালো হোক দেখেছি তার কালো হরিণ-চোখ।