তোমার বীণায় কত তার আছে কত-না সুরে, আমি তার সাথে আমার তারটি দিব গো জুড়ে। তার পর হতে প্রভাতে সাঁঝে তব বিচিত্র রাগিণীমাঝে আমারো হৃদয় রণিয়া রণিয়া বাজিবে তবে। তোমার সুরেতে আমার পরান জড়ায়ে রবে। তোমার তারায় মোর আশাদীপ রাখিব জ্বালি। তোমার কুসুমে আমার বাসনা দিব গো ঢালি। তার পর হতে নিশীথে প্রাতে তব বিচিত্র শোভার সাথে আমারো হৃদয় জ্বলিবে ফুটিবে, দুলিবে সুখে-- মোর পরানের ছায়াটি পড়িবে তোমার মুখে।
তোরা কেউ পারবি নে গো, পারবি নে ফুল ফোটাতে। যতই বলিস, যতই করিস, যতই তারে তুলে ধরিস, ব্যগ্র হয়ে রজনীদিন আঘাত করিস বোঁটাতে-- তোরা কেউ পারবি নে গো, পারবি নে ফুল ফোটাতে। দৃষ্টি দিয়ে বারে বারে ম্লান করতে পারিস তারে, ছিঁড়তে পারিস দলগুলি তার, ধুলায় পারিস লোটাতে-- তোদের বিষম গণ্ডগোলে যদিই-বা সে মুখটি খোলে, ধরবে না রঙ, পারবে না তার গন্ধটুকু ছোটাতে। তোরা কেউ পারবি নে গো, পারবি নে ফুল ফোটাতে। যে পারে সে আপনি পারে, পারে সে ফুল ফোটাতে। সে শুধু চায় নয়ন মেলে দুটি চোখের কিরণ ফেলে, অমনি যেন পূর্ণপ্রাণের মন্ত্র লাগে বোঁটাতে। যে পারে সে আপনি পারে, পারে সে ফুল ফোটাতে। নিশ্বাসে তার নিমেষেতে ফুল যেন চায় উড়ে যেতে, পাতার পাখা মেলে দিয়ে হাওয়ায় থাকে লোটাতে। রঙ যে ফুটে ওঠে কত প্রাণের ব্যাকুলতার মতো, যেন কারে আনতে ডেকে গন্ধ থাকে ছোটাতে। যে পারে সে আপনি পারে, পারে সে ফুল ফোটাতে।