সৃষ্টির চলেছে খেলা চারি দিক হতে শত ধারে কালের অসীম শূন্য পূর্ণ করিবারে। সম্মুখে যা কিছু ঢালে পিছনে তলায় বারে বারে; নিরন্তর লাভ আর ক্ষতি, তাহাতেই দেয় তারে গতি। কবির ছন্দের খেলা সেও থাকি থাকি নিশ্চিহ্ন কালের গায়ে ছবি আঁকা-আঁকি। কাল যায়, শূন্য থাকে বাকি। এই আঁকা-মোছা নিয়ে কাব্যের সচল মরীচিকা ছেড়ে দেয় স্থান, পরিবর্তমান জীবনযাত্রার করে চলমান টীকা। মানুষ আপন-আঁকা কালের সীমায় সান্ত্বনা রচনা করে অসীমের মিথ্যা মহিমায়, ভুলে যায় কত-না যুগের বাণীরূপ ভূমিগর্ভে বহিতেছে নিঃশব্দের নিষ্ঠুর বিদ্রূপ।
মাঝে মাঝে আসি যে তোমারে গান শিখাবারে-- মনে তব কৌতুক লাগে, অধরের আগে দেখা দেয় একটুকু হাসির কাঁপন। যে-কথাটি আমার আপন এই ছলে হয় সে তোমারি। তারে তারে সুর বাঁধা হয়ে যায় তারি অন্তরে অন্তরে কখন তোমার অগোচরে। চাবি করা চুরি, প্রাণের গোপন দ্বারে প্রবেশের সহজ চাতুরী, সুর দিয়ে পথ বাঁধা যে-দুর্গমে কথা পেত পদে পদে পাষাণের বাধা-- গানের মন্ত্রেতে দীক্ষা যার এই তো তাহার অধিকার। সেই জানে দেবতার অলক্ষিত পথ শূন্যে শূন্যে যেথা চলে মহেন্দ্রের শব্দভেদী রথ। ঘনবর্ষণের পিছে যেমন সে বিদ্যুতের খেলা বিমুখ নিশীথবেলা, অমোঘ বিজয়মন্ত্র হানে দূর দিগন্তের পানে, আঁধারের সংকোচ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে মেঘমল্লারের ঝড়ে।