আমার দিনের শেষ ছায়াটুকু মিশাইলে মূলতানে-- গুঞ্জন তার রবে চিরদিন, ভুলে যাবে তার মানে। কর্মক্লান্ত পথিক যখন বসিবে পথের ধারে এই রাগিণীর করুণ আভাস পরশ করিবে তারে, নীরবে শুনিবে মাথাটি করিয়া নিচু; শুধু এইটুকু আভাসে বুঝিবে, বুঝিবে না আর কিছু-- "বিস্মৃত যুগে দুর্লভ ক্ষণে বেঁচেছিল কেউ বুঝি, আমরা যাহার খোঁজ পাই নাই তাই সে পেয়েছে খুঁজি।'
না বাঁচাবে আমায় যদি মারবে কেন তবে? কিসের তরে এই আয়োজন এমন কলরবে? অগ্নিবাণে তূণ যে ভরা, চরণভরে কাঁপে ধরা, জীবনদাতা মেতেছ যে মরণ-মহোৎসবে। বক্ষ আমার এমন ক'রে বিদীর্ণ যে কর উৎস যদি না বাহিরায় হবে কেমনতরো? এই যে আমার ব্যথার খনি জোগাবে ওই মুকুটমণি-- মরণ-দুখে জাগাব মোর জীবন-বল্লভে।
মাঝে মাঝে আসি যে তোমারে গান শিখাবারে-- মনে তব কৌতুক লাগে, অধরের আগে দেখা দেয় একটুকু হাসির কাঁপন। যে-কথাটি আমার আপন এই ছলে হয় সে তোমারি। তারে তারে সুর বাঁধা হয়ে যায় তারি অন্তরে অন্তরে কখন তোমার অগোচরে। চাবি করা চুরি, প্রাণের গোপন দ্বারে প্রবেশের সহজ চাতুরী, সুর দিয়ে পথ বাঁধা যে-দুর্গমে কথা পেত পদে পদে পাষাণের বাধা-- গানের মন্ত্রেতে দীক্ষা যার এই তো তাহার অধিকার। সেই জানে দেবতার অলক্ষিত পথ শূন্যে শূন্যে যেথা চলে মহেন্দ্রের শব্দভেদী রথ। ঘনবর্ষণের পিছে যেমন সে বিদ্যুতের খেলা বিমুখ নিশীথবেলা, অমোঘ বিজয়মন্ত্র হানে দূর দিগন্তের পানে, আঁধারের সংকোচ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে মেঘমল্লারের ঝড়ে।