বালিশ নেই, সে ঘুমোতে যায় মাথার নিচে ইঁট দিয়ে। কাঁথা নেই; সে প'ড়ে থাকে রোদের দিকে পিঠ দিয়ে। শ্বশুর বাড়ি নেমন্তন্ন, তাড়াতাড়ি তারই জন্য ছেঁড়া গামছা পরেছে সে তিনটে-চারটে গিঁঠ দিয়ে। ভাঙা ছাতার বাঁটখানাতে ছড়ি ক'রে চায় বানাতে, রোদে মাথা সুস্থ করে ঠাণ্ডা জলের ছিট দিয়ে। হাসির কথা নয় এ মোটে, খেঁকশেয়ালিই হেসে ওঠে যখন রাতে পথ করে সে হতভাগার ভিট দিয়ে।
মনে করো, তুমি থাকবে ঘরে, আমি যেন যাব দেশান্তরে। ঘাটে আমার বাঁধা আছে তরী, জিনিসপত্র নিয়েছি সব ভরি -- ভালো করে দেখ্ তো মনে করি কী এনে মা, দেব তোমার তরে। চাস কি মা, তুই এত এত সোনা -- সোনার দেশে করব আনাগোনা। সোনামতী নদীতীরের কাছে সোনার ফসল মাঠে ফ'লে আছে, সোনার চাঁপা ফোটে সেথায় গাছে -- না কুড়িয়ে আমি তো ফিরব না।
পরতে কি চাস মুক্তো গেঁথে হারে -- জাহাজ বেয়ে যাব সাগর-পারে। সেখানে মা, সকালবেলা হলে ফুলের 'পরে মুক্তোগুলি দোলে, টুপটুপিয়ে পড়ে ঘাসের কোলে -- যত পারি আনব ভারে ভারে। দাদার জন্যে আনব মেঘে-ওড়া পক্ষিরাজের বাচ্ছা দুটি ঘোড়া। বাবার জন্যে আনব আমি তুলি কনক-লতার চারা অনেকগুলি -- তোর তরে মা, দেব কৌটা খুলি সাত-রাজার-ধন মানিক একটি জোড়া।