ভিড় করেছে রঙমশালীর দলে। কেউ-বা জলে কেউ-বা তারা স্থলে। অজানা দেশ, রাত্রিদিনে পায়ের কাছের পথটি চিনে দুঃসাহসে এগিয়ে তারা চলে। কোন্ মহারাজ রথের 'পরে একা, ভালো করে যায় না তাঁরে দেখা। সূর্যতারা অন্ধকারে ডাইনে বাঁয়ে উঁকি মারে, আপন আলোয় দৃষ্টি তাদের ঠেকা। আমার মশাল সামনে ধরি না যে, তাই তো আলো চক্ষে নাহি বাজে। অন্তরে মোর রঙের শিখা চিত্তকে দেয় আপন টিকা, রঙিনকে তাই দেখি মনের মাঝে। পাখিরা রঙ ওড়ায় আকাশতলে, মাছেরা রঙ খেলায় গভীর জলে। রঙ জেগেছে বনসভায় গোলাপ চাঁপা রঙন জবায়, মেঘেরা রঙ ফোটায় পলে পলে।
নীরব ডাকে রঙমহালের রাজা হুকুম করেন, "রঙের আসর সাজা।'-- অমনি ফাগুন কোথা হতে ভেসে আসে হাওয়ার স্রোতে, পুরানোকে রাঙিয়ে করে তাজা। তাদের আসর বাহির-ভুবনেতে, ফেরে সেথায় রঙের নেশায় মেতে। আমার এ রঙ গোপন প্রাণে, আমার এ রঙ গভীর গানে, রঙের আসন ধেয়ানে দিই পেতে।
মর্তবাসীদের তুমি যা দিয়েছ প্রভু, মর্তের সকল আশা মিটাইয়া তবু রিক্ত তাহা নাহি হয়। তার সর্বশেষ আপনি খুঁজিয়া ফিরে তোমারি উদ্দেশ। নদী ধায় নিত্যকাজে, সর্ব কর্ম সারি অন্তহীন ধারা তার চরণে তোমারি নিত্য জলাঞ্জলিরূপে ঝরে অনিবার। কুসুম আপন গন্ধে সমস্ত সংসার সম্পূর্ণ করিয়া তবু সম্পূর্ণ না হয়-- তোমারি পূজায় তার শেষ পরিচয়। সংসারে বঞ্চিত করি তব পূজা নহে। কবি আপনার গানে যত কথা কহে নানা জনে লহে তার নানা অর্থ টানি, তোমা-পানে ধায় তার শেষ অর্থখানি।