অনিঃশেষ প্রাণ অনিঃশেষ মরণের স্রোতে ভাসমান, পদে পদে সংকটে সংকটে নামহীন সমুদ্রের উদ্দেশবিহীন কোন্ তটে পৌঁছিবারে অবিশ্রাম বাহিতেছে খেয়া, কোন্ সে অলক্ষ্য পাড়ি-দেয়া মর্মে বসি দিতেছে আদেশ, নাহি তার শেষ। চলিতেছে লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি প্রাণী, এই শুধু জানি। চলিতে চলিতে থামে, পণ্য তার দিয়ে যায় কাকে, পশ্চাতে যে রহে নিতে ক্ষণপরে সেও নাহি থাকে। মৃত্যুর কবলে লুপ্ত নিরন্তর ফাঁকি-- তবু সে ফাঁকির নয়, ফুরাতে ফুরাতে রহে বাকি; পদে পদে আপনারে শেষ করি দিয়া পদে পদে তবু রহে জিয়া। অস্তিত্বের মহৈর্শ্বয শতছিদ্র ঘটতলে ভরা-- অফুরান লাভ তার অফুরান ক্ষতিপথে ঝরা; অবিশ্রাম অপচয়ে সঞ্চয়ের আলস্য ঘুচায়, শক্তি তাহে পায়। চলমান রূপহীন যে বিরাট, সেই মহাক্ষণে আছে তবু ক্ষণে ক্ষণে নেই। স্বরূপ যাহার থাকা আর নাই থাকা, খোলা আর ঢাকা, কী নামে ডাকিব তারে অস্তিত্বপ্রবাহে-- মোর নাম দেখা দিয়ে মিলে যাবে যাহে।
এই তীর্থ-দেবতার ধরণীর মন্দির-প্রাঙ্গণে যে পূজার পুষ্পাঞ্জলি সাজাইনু সযত্ন চয়নে সায়াহ্নের শেষ আয়োজন; যে পূর্ণ প্রণামখানি মোর সারা জীবনের অন্তরের অনির্বাণ বাণী জ্বালায়ে রাখিয়া গেনু আরতির সন্ধ্যাদীপ-মুখে সে আমার নিবেদন তোমাদের সবার সম্মুখে হে মোর অতিথি যত। তোমরা এসেছ এ জীবনে কেহ প্রাতে, কেহ রাতে, বসন্তে, শ্রাবণ-বরিষনে; কারো হাতে বীণা ছিল, কেহ বা কম্পিত দীপশিখা এনেছিলে মোর ঘরে; দ্বার খুলে দুরন্ত ঝটিকা বার বার এনেছ প্রাঙ্গণে। যখন গিয়েছ চলে দেবতার পদচিহ্ন রেখে গেছ মোর গৃহতলে। আমার দেবতা নিল তোমাদের সকলের নাম; রহিল পূজায় মোর তোমাদের সবারে প্রণাম।