বৈকালবেলা ফসল-ফুরানো শূন্য খেতে বৈশাখে যবে কৃপণ ধরণী রয়েছে তেতে, ছেড়ে তার বন জানি নে কখন কী ভুল ভুলি শুষ্ক ধূলির ধূসর দৈন্যে এসেছিল বুল্বুলি। সকালবেলার স্মৃতিখানি মনে বহিয়া বুঝি তরুণ দিনের ভরা আতিথ্য বেড়ালো খুঁজি। অরুণে শ্যামলে উজ্জ্বল সেই পূর্ণতারে মিথ্যা ভাবিয়া ফিরে যাবে সে কি রাতের অন্ধকারে। তবুও তো গান করে গেল দান কিছু না পেয়ে। সংশয়-মাঝে কী শুনায়ে গেল কাহারে চেয়ে। যাহা গেছে সরে কোনো রূপ ধ'রে রয়েছে বাকি, এই সংবাদ বুঝি মনে মনে জানিতে পেরেছে পাখি। প্রভাতবেলার যে ঐশ্বর্য রাখে নি কণা, এসেছিল সে যে, হারায় না কভু সে সান্ত্বনা। সত্য যা পাই ক্ষণেকের তরে ক্ষণিক নহে। সকালের পাখি বিকালের গানে এ আনন্দই বহে।
বাবা নাকি বই লেখে সব নিজে। কিছুই বোঝা যায় না লেখেন কী যে। সেদিন পড়ে শোনাচ্ছিলেন তোরে, বুঝেছিলি? -- বল্ মা সত্যি ক'রে। এমন লেখায় তবে বল্ দেখি কী হবে। তোর মুখে মা, যেমন কথা শুনি, তেমন কেন লেখেন নাকো উনি। ঠাকুরমা কি বাবাকে কক্খনো রাজার কথা শোনায় নিকো কোনো। সে-সব কথাগুলি গেছেন বুঝি ভুলি? স্নান করতে বেলা হল দেখে তুমি কেবল যাও মা, ডেকে ডেকে -- খাবার নিয়ে তুমি বসেই থাকো, সে কথা তাঁর মনেই থাকে নাকো। করেন সারা বেলা লেখা-লেখা খেলা। বাবার ঘরে আমি খেলতে গেলে তুমি আমায় বল, "দুষ্টু ছেলে!' বক আমায় গোল করলে পরে-- "দেখছিস নে লিখছে বাবা ঘরে!' বল্ তো, সত্যি বল্, লিখে কী হয় ফল। আমি যখন বাবার খাতা টেনে লিখি বসে দোয়াত কলম এনে-- ক খ গ ঘ ঙ হ য ব র, আমার বেলা কেন মা, রাগ কর। বাবা যখন লেখে কথা কও না দেখে। বড়ো বড়ো রুল-কাটা কাগজ নষ্ট বাবা করেন না কি রোজ। আমি যদি নৌকো করতে চাই অম্নি বল, নষ্ট করতে নাই। সাদা কাগজ কালো করলে বুঝি ভালো?