অনেক দিনের কথা সে যে অনেক দিনের কথা; পুরানো এই ঘাটের ধারে ফিরে এল কোন্ জোয়ারে পুরানো সেই কিশোর প্রেমের করুণ ব্যাকুলতা? সে যে অনেক দিনের কথা। আজকে মনে পড়েছে সেই নির্জন অঙ্গন। সেই প্রদোষের অন্ধকারে এল আমার অধর-পারে ক্লান্ত ভীরু পাখির মতো কম্পিত চুম্বন। সেদিন নির্জন অঙ্গন। তখন জানা ছিল না তো ভালোবাসার ভাষা -- যেন প্রথম দখিন বায়ে শিহর লেগেছিল গায়ে, চাঁপাকুঁড়ির বুকের মাঝে অস্ফুট কোন্ আশা, সে যে অজানা কোন্ ভাষা। সেই সেদিনের আসাযাওয়া, আধেক জানাজানি, হঠাৎ হাতে হাতে ঠেকা, বোবা চোখের চেয়ে দেখা, মনে পড়ে ভীরু হিয়ার না-বলা সেই বাণী -- সেই আধেক জানাজানি। এই জীবনে সেই তো আমার প্রথম ফাগুন মাস। ফুটল না তার মুকুলগুলি, শুধু তারা হাওয়ায় দুলি অবেলাতে ফেলে গেছে চরম দীর্ঘশ্বাস -- আমার প্রথম ফাগুন মাস। ঝরে-পড়া সেই মুকুলের শেষ-না-করা কথা আজকে আমার সুরে গানে পায় খুঁজে তার গোপন মানে, আজ বেদনায় উঠল ফুটে তার সেদিনের ব্যথা -- সেই শেষ-না-করা কথা। পারে যাওয়ার উধাও পাখি সেই কিশোরের ভাষা, প্রাণের পারের কুলায় ছাড়ি শূন্য আকাশ দিল পাড়ি, আজ এসে মোর স্বপন-মাঝে পেয়েছে তার বাসা -- আমার সেই কিশোরের ভাষা।
আলেয়া সখী প্রতিদিন হায় এসে ফিরে যায় কে! তারে আমার মাথার একটি কুসুম দে। যদি শুধায় কে দিল, কোন্ ফুলকাননে, তোর শপথ, আমার নামটি বলিস নে। সখী প্রতিদিন হায় এসে ফিরে যায় কে! সখী, তরুর তলায় বসে সে ধুলায় যে! সেথা বকুলমালায় আসন বিছায়ে দে। সে যে করুণা জাগায় সকরুণ নয়নে-- কেন কী বলিতে চায়, না বলিয়া যায় সে। সখী প্রতিদিন হায় এসে ফিরে যায় কে!