স্মৃতিরে আকার দিয়ে আঁকা, বোধে যার চিহ্ন পড়ে ভাষায় কুড়ায়ে তারে রাখা, কী অর্থ ইহার মনে ভাবি। এই দাবি জীবনের এ ছেলেমানুষি, মরণেরে বঞ্চিবার ভান ক'রে খুশি, বাঁচা-মরা খেলাটাতে জিতিবার শখ, তাই মন্ত্র প'ড়ে আনে কল্পনার বিচিত্র কুহক। কালস্রোতে বস্তুমূর্তি ভেঙে ভেঙে পড়ে, আপন দ্বিতীয় রূপ প্রাণ তাই ছায়া দিয়ে গড়ে। "রহিল" বলিয়া যায় অদৃশ্যের পানে; মৃত্যু যদি করে তার প্রতিবাদ, নাহি আসে কানে। আমি বদ্ধ ক্ষণস্থায়ী অস্তিত্বের জালে, আমার আপন-রচা কল্পরূপ ব্যাপ্ত দেশে কালে, এ কথা বিলয়দিনে নিজে নাই জানি আর কেহ যদি জানে তাহারেই বাঁচা ব'লে মানি।
প্রেম এসেছিল, চলে গেল সে যে খুলি দ্বার-- আর কভু আসিবে না। বাকি আছে শুধু আরেক অতিথি আসিবার, তারি সাথে শেষ চেনা। সে আসি প্রদীপ নিবাইয়া দিবে এক দিন, তুলি লবে মোরে রথে-- নিয়ে যাবে মোরে গৃহ হতে কোন্ গৃহহীন গ্রহতারকার পথে। ততকাল আমি একা বসি রব খুলি দ্বার, কাজ করি লব শেষ। দিন হবে যবে আরেক অতিথি আসিবার পাবে না সে বাধালেশ। পূজা-আয়োজন সব সারা হবে একদিন, প্রস্তুত হয়ে রব-- নীরবে বাড়ায়ে বাহু-দুটি সেই গৃহহীন অতিথিরে বরি লব। যে জন আজিকে ছেড়ে চলে গেল খুলি দ্বার সেই বলে গেল ডাকি, "মোছো আঁখিজল, আরেক অতিথি আসিবার এখনো রয়েছে বাকি।' সেই বলে গেল, "গাঁথা সেরে নিয়ো একদিন জীবনের কাঁটা বাছি, নবগৃহ-মাঝে বহি এনো, তুমি গৃহহীন, পূর্ণ মালিকাগাছি।'