আমার নয়ন তব নয়নের নিবিড় ছায়ায় মনের কথার কুসুমকোরক খোঁজে। সেথায় কখন্ অগম গোপন গহন মায়ায় পথ হারাইল ও-যে। আতুর দিঠিতে শুধায় সে নীরবেরে, নিভৃত বাণীর সন্ধান নাই যে রে; অজানার মাঝে অবুঝের মতো ফেরে অশ্রুধারায় ম'জে। আমার হৃদয়ে যে কথা লুকানো, তার আভাষণ ফেলে কভু ছায়া তোমার হৃদয়তলে? দুয়ারে এঁকেছি রক্ত রেখায় পদ্ম-আসন, সে তোমারে কিছু বলে? তব কুঞ্জের পথ দিয়ে যেতে যেতে বাতাসে বাতাসে ব্যথা দিই মোর পেতে, বাঁশি কী আশায় ভাষা দেয় আকাশেতে সে কি কেহ নাহি বোঝে।
আদি অন্ত হারিয়ে ফেলে সাদা কালো আসন মেলে পড়ে আছে আকাশটা খোশ-খেয়ালি, আমরা যে সব রাশি রাশি মেঘের পুঞ্জ ভেসে আসি, আমার তারি খেয়াল, তারি হেঁয়ালি। মোদের কিছু ঠিক-ঠিকানা নাই, আমরা আসি, আমরা চলে যাই। ওই-যে সকল জ্যোতির মালা গ্রহতারা রবির ডালা জুড়ে আছে নিত্যকালের পসরা, ওদের হিসেব পাকা খাতায় আলোর লেখা কালো পাতায়, মোদের তরে আছে মাত্র খসড়া-- রঙ-বেরঙের কলম দিয়ে এঁকে যেমন খুশি মোছে আবার লেখে। আমরা কভু বিনা কাজে ডাক দিয়ে যাই মাঝে মাঝে, অকারণে মুচকে হাসি হামেশা। তাই বলে সব মিথ্যে নাকি। বৃষ্টি সে তো নয়কো ফাঁকি, বজ্রটা তো নিতান্ত নয় তামাশা। শুধু আমরা থাকি নে কেউ ভাই, হাওয়ায় আসি হাওয়ায় ভেসে যাই।