পথে যতদিন ছিনু ততদিন অনেকের সনে দেখা। সব শেষ হল যেখানে সেথায় তুমি আর আমি একা। নানা বসন্তে নানা বরষায় অনেক দিবসে অনেক নিশায় দেখেছি অনেক, সহেছি অনেক, লিখেছি অনেক লেখা-- পথে যতদিন ছিনু ততদিন অনেকের সনে দেখা। কখন যে পথ আপনি ফুরালো, সন্ধ্যা হল যে কবে! পিছনে চাহিয়া দেখিনু কখন চলিয়া গিয়াছে সবে। তোমার নীরব নিভৃত ভবনে জানি না কখন পশিনু কেমনে। অবাক রহিনু আপন প্রাণের নূতন গানের রবে। কখন যে পথ আপনি ফুরালো, সন্ধ্যা হল যে কবে! চিহ্ন কি আছে শ্রান্ত নয়নে অশ্রুজলের রেখা? বিপুল পথের বিবিধ কাহিনী আছে কি ললাটে লেখা? রুধিয়া দিয়েছ তব বাতায়ন, বিছানো রয়েছে শীতল শয়ন, তোমার সন্ধ্যাপ্রদীপ-আলোকে তুমি আর আমি একা। নয়নে আমার অশ্রুজলের চিহ্ন কি যায় দেখা!
তোমার এই মাধুরী ছাপিয়ে আকাশ ঝরবে, আমার প্রাণে নইলে সে কি কোথাও ধরবে? এই যে আলো সূর্যে গ্রহে তারায় ঝরে পড়ে শত লক্ষ ধারায় পূর্ণ হবে এ প্রাণ যখন ভরবে। তোমার ফুলে যে রঙ ঘুমের মতো লাগল আমার মনে লেগে তবে সে যে জাগল। যে প্রেম কাঁপায় বিশ্ববীণায় পুলকে সংগীতে সে উঠবে ভেসে পলকে যেদিন আমার সকল হৃদয় হরবে।