আলোকে আসিয়া এরা লীলা করে যায়, আঁধারেতে চলে যায় বাহিরে। ভাবে মনে, বৃথা এই আসা আর যাওয়া, অর্থ কিছুই এর নাহি রে। কেন আসি, কেন হাসি, কেন আঁখিজলে ভাসি, কার কথা বলে যাই, কার গান গাহি রে-- অর্থ কিছুই তার নাহি রে। ওরে মন, আয় তুই সাজ ফেলে আয়, মিছে কী করিস নাট-বেদীতে। বুঝিতে চাহিস যদি বাহিরেতে আয়, খেলা ছেড়ে আয় খেলা দেখিতে। ওই দেখ্ নাটশালা পরিয়াছে দীপমালা, সকল রহস্য তুই চাস যদি ভেদিতে নিজে না ফিরিলে নাট-বেদীতে। নেমে এসে দূরে এসে দাঁড়াবি যখন-- দেখিবি কেবল, নাহি খুঁজিবি, এই হাসি-রোদনের মহানাটকের অর্থ তখন কিছু বুঝিবি। একের সহিত একে মিলাইয়া নিবি দেখে, বুঝে নিবি, বিধাতার সাথে নাহি যুঝিবি-- দেখিবি কেবল, নাহি খুঁজিবি।
মোদের হারের দলে বসিয়ে দিলে, জানি আমরা পারব না। হারাও যদি হারব খেলায়, তোমার খেলা ছাড়ব না। কেউ-বা ওঠে, কেউ-বা পড়ে, কেউ-বা বাঁচে, কেউ-বা মরে, আমরা নাহয় মরার পথে করব প্রয়াণ রসাতলে-- হারের খেলাই খেলব মোরা বসাও যদি হারের দলে। আমরা বিনা পণে খেলব না গো, খেলব রাজার ছেলের মতো। ফেলব খেলায় ধনরতন যেথায় মোদের আছে যত। সর্বনাশা তোমার যে ডাক-- যায় যদি যাক সকলি যাক, শেষ কড়িটি চুকিয়ে দিয়ে খেলা মোদের করব সারা। তার পরে কোন্ বনের কোণে হারের দলটি হব হারা। তবু এই হারা তো শেষ হারা নয়, আবার খেলা আছে পরে। জিতল যে সে জিতল কি না কে বলবে তা সত্য করে। হেরে তোমার করব সাধন, ক্ষতির ক্ষুরে কাটব বাঁধন, শেষ দানেতে তোমার কাছে বিকিয়ে দেব আপনারে। তার পরে কী করবে তুমি সে কথা কেউ ভাবতে পারে।