আমার ভাঙা পথের রাঙা ধুলায় পড়েছে কার পায়ের চিহ্ন। তারি গলার মালা হতে পাপড়ি হেথায় লুটায় ছিন্ন। এল যখন সাড়াটি নাই, গেল চলে জানাল তাই, এমন করে আমারে হায় কে বা কাঁদায় সে জন ভিন্ন। তখন তরুণ ছিল অরুণ-আলো, পথটি ছিল কুসুমকীর্ণ। বসন্ত যে রঙীন বেশে ধরায় সেদিন অবতীর্ণ। সেদিন খবর মিলল না যে, রইনু বসে ঘরের মাঝে, আজকে পথে বাহির হব বহি আমার জীবন জীর্ণ।
পান্থ তুমি, পান্থজনের সখা হে, পথে চলাই সেই তো তোমায় পাওয়া। যাত্রাপথের আনন্দগান যে গাহে তারি কণ্ঠে তোমারি গান গাওয়া। চায় না সে জন পিছন-পানে ফিরে, বায় না তরী কেবল তীরে তীরে, তুফান তারে ডাকে অকূল নীরে যার পরানে লাগল তোমার হাওয়া। পথে চলাই সেই তো তোমায় পাওয়া। পান্থ তুমি, পান্থজনের সখা হে, পথিক-চিত্তে তোমার তরী বাওয়া। দুয়ার খুলে সমুখ-পানে যে চাহে তার চাওয়া যে তোমার পানে চাওয়া। বিপদ বাধা কিছুই ডরে না সে, রয় না পড়ে কোনো লাভের আশে, যাবার লাগি মন তারি উদাসে-- যাওয়া সে যে তোমার পানে যাওয়া। পথে চলাই সেই তো তোমায় পাওয়া।