ও জোনাকী, কী সুখে ওই ডানা দুটি মেলেছ। আঁধার সাঁঝে বনের মাঝে উল্লাসে প্রাণ ঢেলেছ॥ তুমি নও তো সূর্য, নও তো চন্দ্র, তোমার তাই ব'লে কি কম আনন্দ। তুমি আপন জীবন পূর্ণ ক'রে আপন আলো জ্বেলেছ॥ তোমার যা আছে তা তোমার আছে, তুমি নও গো ঋণী কারো কাছে, তোমার অন্তরে যে শক্তি আছে তারি আদেশ পেলেছ। তুমি আঁধার-বাঁধন ছাড়িয়ে ওঠ, তুমি ছোটো হয়ে নও গো ছোটো, জগতে যেথায় যত আলো সবায় আপন ক'রে ফেলেছ॥
যেয়ো না, যেয়ো না, যেয়ো না ফিরে, দাঁড়াও, চরণদুটি বাড়াও হৃদয়-আসনে। চঞ্চল সমীর সম ফিরিছ কেন, তুমি রঙিন মেঘমালা যেন ফাগুনসমীরে। কে ডাকে! আমি কভু ফিরে নাহি চাই– আমি কভু ফিরে নাহি চাই। তোমায় ধরিতে চাহি, ধরিতে পারি নে- তুমি গঠিত যেন স্বপনে। মোরে রেখো না, রেখো না তব চঞ্চল লীলা হতে রেখো না বাহিরে। কে ডাকে। আমি কভু ফিরে নাহি চাই। কত ফুল ফুটে উঠে, কত ফুল যায় টুটে, আমি শুধু বহে চলে যাই। পরশ পুলকরস-ভরা রেখে যাই, নাহি দিই ধরা। উড়ে আসে ফুলবাস, লতাপাতা ফেলে শ্বাস, বনে বনে উঠে হাহুতাশ- চকিতে শুনিতে শুধু পাই- চলে যাই। আমি কভু ফিরে নাহি চাই।
আমা-তরে অকারণে, ওগো পিতা, ভেবো না। অদূরে সরযূ বহে, দূরে যাব না। পথ যে সরল অতি, চপলা দিতেছে জ্যোতি, তবে কেন, পিতা, মিছে ভাবনা। অদূরে সরযূ বহে, দূরে যাব না।