প্রভাত-আলোরে মোর কাঁদায়ে গেলে মিলনমালার ডোর ছিঁড়িয়া ফেলে॥ পড়ে যা রহিল পিছে সব হয়ে গেল মিছে, বসে আছি দূর-পানে নয়ন মেলে॥ একে একে ধূলি হতে কুড়ায়ে মরি যে ফুল বিদায়পথে পড়িছে ঝরি। ভাবি নি রবে না লেশ সে দিনের অবশেষ-- কাটিল ফাগুনবেলা কী খেলা খেলে॥
কী পাই নি তারি হিসাব মিলাতে মন মোর নহে রাজি। আজ হৃদয়ের ছায়াতে আলোতে বাঁশরি উঠেছে বাজি॥ ভালোবেসেছিনু এই ধরণীরে সেই স্মৃতি মনে আসে ফিরে ফিরে, কত বসন্তে দখিনসমীরে ভরেছে আমারি সাজি॥ নয়নের জল গভীর গহনে আছে হৃদয়ের স্তরে, বেদনার রসে গোপনে গোপনে সাধনা সফল করে। মাঝে মাঝে বটে ছিঁড়েছিল তার, তাই নিয়ে কেবা করে হাহাকার-- সুর তবু লেগেছিল বারে-বার মনে পড়ে তাই আজি॥