এই শ্রাবণের বুকের ভিতর আগুন আছে। সেই আগুনের কালোরূপ যে আমার চোখের 'পরে নাচে॥ ও তার শিখার জটা ছড়িয়ে পড়ে দিক হতে ওই দিগন্তরে, তার কালো আভার কাঁপন দেখো তালবনের ওই গাছে গাছে॥ বাদল-হাওয়া পাগল হল সেই আগুনের হুহুঙ্কারে। দুন্দুভি তার বাজিয়ে বেড়ায় মাঠ হতে কোন্ মাঠের পারে। ওরে, সেই আগুনের পুলক ফুটে কদম্ববন রঙিয়ে উঠে, সেই আগুনের বেগ লাগে আজ আমার গানের পাখার পাছে॥
হে অন্তরের ধন, তুমি যে বিরহী, তোমার শূন্য এ ভবন ॥ আমার ঘরে তোমায় আমি একা রেখে দিলাম স্বামী-- কোথায় যে বাহিরে আমি ঘুরি সকল ক্ষণ ॥ হে অন্তরের ধন, এই বিরহে কাঁদে আমার নিখিল ভুবন। তোমার বাঁশি নানা সুরে আমায় খুঁজে বেড়ায় দূরে, পাগল হল বসন্তের এই দখিন-সমীরণ ॥