আমার প্রাণের মানুষ আছে প্রাণে তাই হেরি তায় সকল খানে॥ আছে সে নয়নতারায় আলোকধারায়, তাই না হারায়-- ওগো তাই দেখি তায় যেথায় সেথায় তাকাই আমি যে দিক-পানে॥ আমি তার মুখের কথা শুনব ব'লে গেলাম কোথা, শোনা হল না, হল না-- আজ ফিরে এসে নিজের দেশে এই-যে শুনি শুনি তাহার বাণী আপন গানে॥ কে তোরা খুঁজিস তারে কাঙাল-বেশে দ্বারে দ্বারে, দেখা মেলে না মেলে না,-- ও তোরা আয় রে ধেয়ে দেখ্ রে চেয়ে আমার বুকে -- ওরে দেখ্ রে আমার দুই নয়ানে॥
আমার কণ্ঠ হতে গান কে নিল ভুলায়ে, সে যে বাসা বাঁধে নীরব মনের কুলায়ে॥ মেঘের দিনে শ্রাবণ মাসে যূথীবনের দীর্ঘশ্বাসে আমার-প্রাণে সে দেয় পাখার ছায়া বুলায়ে॥ যখন শরৎ কাঁপে শিউলিফুলের হরষে নয়ন ভরে যে সেই গোপন গানের পরশে। গভীর রাতে কী সুর লাগায় আধো-ঘুমে আধো-জাগায়, আমার স্বপন-মাঝে দেয় যে কী দোল দুলায়ে॥