তোরা শুনিস নি কি শুনিস নি তার পায়ের ধ্বনি, ওই যে আসে, আসে, আসে। যুগে যুগে পলে পলে দিনরজনী সে যে আসে, আসে, আসে। গেয়েছি গান যখন যত আপন-মনে খ্যাপার মতো সকল সুরে বেজেছে তার আগমনী-- সে যে আসে, আসে, আসে॥ কত কালের ফাগুন-দিনে বনের পথে সে যে আসে, আসে, আসে। কত শ্রাবণ অন্ধকারে মেঘের রথে সে যে আসে, আসে, আসে। দুখের পরে পরম দুখে, তারি চরণ বাজে বুকে, সুখে কখন বুলিয়ে সে দেয় পরশমণি। সে যে আসে, আসে, আসে॥
কী বলিনু আমি! এ কী সুললিত বাণী রে! কিছু না জানি কেমনে যে আমি প্রকাশিনু দেবভাষা, এমন কথা কেমনে শিখিনু রে! পুলকে পুরিল মনপ্রাণ,মধু বরষিল শ্রবণে, এ কী! হৃদয়ে এ কী এ দেখি!-- ঘোর অন্ধকার মাঝে,এ কী জ্যোতি ভায়, অবাক্!-- করুণা এ কার!
তুমি আমায় ডেকেছিলে ছুটির নিমন্ত্রণে, তখন ছিলেম বহু দূরে কিসের অন্বেষণে॥ কূলে যখন এলেম ফিরে তখন অস্তশিখরশিরে চাইল রবি শেষ চাওয়া তার কনকচাঁপার বনে। আমার ছুটি ফুরিয়ে গেছে কখন অন্যমনে॥ লিখন তোমার বিনিসুতোর শিউলিফুলের মালা, বাণী সে তার সোনায়-ছোঁওয়া অরুণ-আলোয়-ঢালা-- এল আমার ক্লান্ত হাতে ফুল-ঝরানো শীতের রাতে কুহেলিকায় মন্থর কোন্ মৌন সমীরণে। তখন ছুটি ফুরিয়ে গেছে কখন অন্যমনে॥