স্বরূপ তাঁর কে জানে, তিনি অনন্ত মঙ্গল– অযুত জগত মগন সেই মহাসমুদ্রে।। তিনি নিজ অনুপম মহিমামাঝে নিলীন– সন্ধান তাঁর কে করে, নিষ্ফল বেদ বেদান্ত। পরব্রহ্ম, পরিপূর্ণ, অতি মহান– তিনি আদিকারণ, তিনি বর্ণন-অতীত।।
পথের শেষ কোথায়, শেষ কোথায়, কী আছে শেষে! এত কামনা, এত সাধনা কোথায় মেশে। ঢেউ ওঠে পড়ে কাঁদার, সম্মুখে ঘন আঁধার, পার আছে গো পার আছে-- পার আছে কোন্ দেশে। আজ ভাবি মনে মনে মরীচিকা-অন্বেষণে হায় বুঝি তৃষ্ণার শেষ নেই। মনে ভয় লাগে সেই-- হাল-ভাঙা পাল-ছেঁড়া ব্যথা চলেছে নিরুদ্দেশে ॥
আমার নাইবা হল পারে যাওয়া। যে হাওয়াতে চলত তরী অঙ্গেতে সেই লাগাই হাওয়া ॥ নেই যদি বা জমল পাড়ি ঘাট আছে তো বসতে পারি। আমার আশার তরী ডুবল যদি দেখব তোদের তরী-বাওয়া ॥ হাতের কাছে কোলের কাছে যা আছে সেই অনেক আছে। আমার সারা দিনের এই কি রে কাজ-- ওপার-পানে কেঁদে চাওয়া। কম কিছু মোর থাকে হেথা পুরিয়ে নেব প্রাণ দিয়ে তা। আমার সেইখানেতেই কল্পলতা যেখানে মোর দাবি-দাওয়া ॥