সন্ধ্যাবেলা লাঠি কাঁখে বোঝা বহি শিরে নদীতীরে পল্লীবাসী ঘরে যায় ফিরে। শত শতাব্দীর পরে যদি কোনোমতে মন্ত্রবলে অতীতের মৃত্যুরাজ্য হতে এই চাষী দেখা দেয় হয়ে মূর্তিমান, এই লাঠি কাঁখে লয়ে, বিস্মিত নয়ান, চারি দিকে ঘিরি তারে অসীম জনতা কাড়াকাড়ি করি লবে তার প্রতি কথা। তার সুখদুঃখ যত, তার প্রেম স্নেহ, তার পাড়াপ্রতিবেশী, তার নিজ গেহ, তার খেত, তার গোরু, তার চাষ-বাস, শুনে শুনে কিছুতেই মিটিবে না আশ। আজি যার জীবনের কথা তুচ্ছতম সেদিন শুনাবে তাহা কবিত্বের সম।
খেয়া নৌকা পারাপার করে নদীস্রোতে, কেহ যায় ঘরে, কেহ আসে ঘর হতে। দুই তীরে দুই গ্রাম আছে জানাশোনা, সকাল হইতে সন্ধ্যা করে আনাগোনা। পৃথিবীতে কত দ্বন্দ্ব কত সর্বনাশ, নূতন নূতন কত গড়ে ইতিহাস, রক্তপ্রবাহের মাঝে ফেনাইয়া উঠে সোনার মুকুট কত ফুটে আর টুটে, সভ্যতার নব নব কত তৃষ্ণা ক্ষুধা, উঠে কত হলাহল, উঠে কত সুধা-- শুধু হেথা দুই তীরে, কেবা জানে নাম, দোঁহাপানে চেয়ে আছে দুইখানি গ্রাম। এই খেয়া চিরদিন চলে নদীস্রোতে, কেহ যায় ঘরে, কেহ আসে ঘর হতে।