আমি বিকাব না কিছুতে আর আপনারে। আমি দাঁড়াতে চাই সভার তলে সবার সাথে এক সারে। সকালবেলার আলোর মাঝে মলিন যেন না হই লাজে, আলো যেন পশিতে পায় মনের মধ্যে একবারে। বিকাব না, বিকাব না আপনারে। আমি বিশ্ব-সাথে রব সহজ বিশ্বাসে। আমি আকাশ হতে বাতাস নেব প্রাণের মধ্যে নিশ্বাসে। পেয়ে ধরার মাটির স্নেহ পুণ্য হবে সর্ব দেহ, গাছের শাখা উঠবে দুলে আমার মনের উল্লাসে। বিশ্বে রব সহজ সুখে বিশ্বাসে। আমি সবায় দেখে খুশি হব অন্তরে। কিছু বেসুর যেন বাজে না আর আমার বীণা-যন্তরে। যাহাই আছে নয়ন ভরি সবই যেন গ্রহণ করি, চিত্তে নামে আকাশ-গলা আনন্দিত মন্ত্র রে। সবায় দেখে তৃপ্ত রব অন্তরে।
এমন দিনে তারে বলা যায়, এমন ঘনঘোর বরিষায়! এমন মেঘস্বরে বাদল-ঝরঝরে তপনহীন ঘন তমসায়। সে কথা শুনিবে না কেহ আর, নিভৃত নির্জন চারি ধার। দুজনে মুখোমুখি গভীর দুখে দুখী, আকাশে জল ঝরে অনিবার। জগতে কেহ যেন নাহি আর। সমাজ সংসার মিছে সব, মিছে এ জীবনের কলরব। কেবল আঁখি দিয়ে আঁখির সুধা পিয়ে হৃদয় দিয়ে হৃদি অনুভব। আঁধারে মিশে গেছে আর সব। বলিতে বাজিবে না নিজ কানে, চমক লাগিবে না নিজ প্রাণে। সে কথা আঁখিনীরে মিশিয়া যাবে ধীরে এ ভরা বাদলের মাঝখানে। সে কথা মিশে যাবে দুটি প্রাণে। তাহাতে এ জগতে ক্ষতি কার নামাতে পারি যদি মনোভার? শ্রাবণবরিষনে একদা গৃহকোণে দু কথা বলি যদি কাছে তার তাহাতে আসে যাবে কিবা কার? আছে তো তার পরে বারো মাস, উঠিবে কত কথা কত হাস। আসিবে কত লোক কত-না দুখশোক, সে কথা কোন্খানে পাবে নাশ। জগৎ চলে যাবে বারো মাস। ব্যাকুল বেগে আজি বহে বায়, বিজুলি থেকে থেকে চমকায়। যে কথা এ জীবনে রহিয়া গেল মনে সে কথা আজি যেন বলা যায় এমন ঘনঘোর বরিষায়।