তোমার ঘরের সিঁড়ি বেয়ে যতই আমি নাবছি। আমায় মনে আছে কি না ভয়ে ভয়ে ভাবছি। কথা পাড়তে গিয়ে দেখি, হাই তুললে দুটো; বললে উসুখুসু করে, "কোথায় গেল নুটো।" ডেকে তারে বলে দিলে, "ড্রাইভারকে বলিস, আজকে সন্ধ্যা নটার সময় যাব মেট্রোপলিস।" কুকুরছানার ল্যাজটা ধরে করলে নাড়াচাড়া; বললে আমায়, "ক্ষমা করো, যাবার আছে তাড়া।" তখন পষ্ট বোঝা গেল, নেই মনে আর নেই। আরেকটা দিন এসেছিল একটা শুভক্ষণেই-- মুখের পানে চাইতে তখন, চোখে রইত মিষ্টি; কুকুরছানার ল্যাজের দিকে পড়ত নাকো দৃষ্টি। সেই সেদিনের সহজ রঙটা কোথায় গেল ভাসি; লাগল নতুন দিনের ঠোঁটে রুজ-মাখানো হাসি। বটসুদ্ধ পা-দুখানা তুলে দিলে সোফায়; ঘাড় বেঁকিয়ে ঠেসেঠুসে ঘা লাগালে খোঁপায়। আজকে তুমি শুকনো ডাঙায় হালফ্যাশানের কূলে, ঘাটে নেমে চমকে উঠি এই কথাটাই ভুলে। এবার বিদায় নেওয়াই ভালো, সময় হল যাবার-- ভুলেছ যে ভুলব যখন আসব ফিরে আবার।
আমার সকল কাঁটা ধন্য ক'রে ফুটবে গো ফুল ফুটবে। আমার সকল ব্যথা রঙিন হয়ে গোলাপ হয়ে উঠবে। আমার অনেকদিনের আকাশ-চাওয়া আসবে ছুটে দখিন-হাওয়া হৃদয় আমার আকুল ক'রে সুগন্ধ ধন লুটবে। আমার লজ্জা যাবে যখন পাব দেবার মতো ধন। যখন রূপ ধরিয়ে বিকশিবে প্রাণের আরাধন। আমার বন্ধু যখন রাত্রিশেষে পরশ তারে করবে এসে, ফুরিয়ে গিয়ে দলগুলি সব চরণে তার লুটবে।
এ কথা মানিব আমি, এক হতে দুই কেমনে যে হতে পারে জানি না কিছুই। কেমনে যে কিছু হয়, কেহ হয় কেহ, কিছু থাকে কোনোরূপে, কারে বলে দেহ, কারে বলে আত্মা মন, বুঝিতে না পেরে চিরকাল নিরখিব বিশ্বজগতেরে নিস্তব্ধ নির্বাক্ চিত্তে। বাহিরে যাহার কিছুতে নারিব যেতে আদি অন্ত তার, অর্থ তার, তত্ত্ব তার, বুঝিব কেমনে নিমেষের তরে? এই শুধু জানি মনে সুন্দর সে, মহান সে, মহাভয়ংকর, বিচিত্র সে, অজ্ঞেয় সে, মম মনোহর। ইহা জানি, কিছুই না জানিয়া অজ্ঞাতে নিখিলের চিত্তস্রোত ধাইছে তোমাতে।