THE SUN breaks out from the clouds on the day when I must go. And the sky gazes upon the earth like God's wonder. My heart is sad, for it knows not from where comes its call. Does the breeze bring the whisper of the world which I leave behind with its music of tears melting in the sunny silence? or the breath of the island in the faraway sea basking in the Summer of the unknown flowers?
শ্রীমতী ইন্দিরা প্রাণাধিকাসু স্টীমার "রাজহংস' । গঙ্গা চিঠি লিখব কথা ছিল, দেখছি সেটা ভারি শক্ত। তেমন যদি খবর থাকে লিখতে পারি তক্ত তক্ত। খবর বয়ে বেড়ায় ঘুরে খবরওয়ালা ঝাঁকা-মুটে। আমি বাপু ভাবের ভক্ত বেড়াই নাকো খবর খুঁটে। এত ধুলো, এত খবর কলকাতাটার গলিতে! নাকে চোকে খবর ঢোকে দু-চার কদম চলিতে। এত খবর সয় না আমার মরি আমি হাঁপোষে। ঘরে এসেই খবরগুলো মুছে ফেলি পাপোষে। আমাকে তো জানই বাছা! আমি একজন খেয়ালি। কথাগুলো যা বলি, তার অধিকাংশই হেঁয়ালি। আমার যত খবর আসে ভোরের বেলা পুব দিয়ে। পেটের কথা তুলি আমি পেটের মধ্যে ডুব দিয়ে। আকাশ ঘিরে জাল ফেলে তারা ধরাই ব্যাবসা। থাক্ গে তোমার পাটের হাটে মথুর কুণ্ডু শিবু সা। কল্পতরুর তলায় থাকি নই গো আমি খবুরে। হাঁ করিয়ে চেয়ে আছি মেওয়া ফলে সবুরে। তবে যদি নেহাত কর খবর নিয়ে টানাটানি। আমি বাপু একটি কেবল দুষ্টু মেয়ের খবর জানি! দুষ্টুমি তার শোনো যদি অবাক হবে সত্যি! এত বড়ো বড়ো কথা তার মুখখানি একরত্তি। মনে মনে জানেন তিনি ভারি মস্ত লোকটা। লোকের সঙ্গে না-হক কেবল ঝগড়া করবার ঝোঁকটা। আমার সঙ্গেই যত বিবাদ কথায় কথায় আড়ি। এর নাম কি ভদ্র ব্যাভার! বড্ড বাড়াবাড়ি। মনে করেছি তার সঙ্গে কথাবার্তা বন্দ করি। প্রতিজ্ঞা থাকে না পাছে সেইটে ভারি সন্দ করি। সে না হলে সকাল বেলায় চামেলি কি ফুটবে! সে নইলে কি সন্ধে বেলায় সন্ধেতারা উঠবে। সে না হলে দিনটা ফাঁকি আগাগোড়াই মস্কারা। পোড়ারমুখী জানে সেটা তাই এত তার আস্কারা। চুড়ি-পরা হাত দুখানি কতই জানে ফন্দি। কোনোমতে তার সাথে তাই করে আছি সন্ধি। নাম যদি তার জিগেস কর নামটি বলা হবে না। কী জানি সে শোনে যদি প্রাণটি আমার রবে না। নামের খবর কে রাখে তার ডাকি তারে যা খুশি। দুষ্টু বলো, দস্যি বলো, পোড়ারমুখী, রাক্ষুসী! বাপ মায়ে যে নাম দিয়েছে বাপ মায়েরি থাক্ সে। ছিষ্টি খুঁজে মিষ্টি নামটি তুলে রাখুন বাক্সে! এক জনেতে নাম রাখবে অন্নপ্রাশনে। বিশ্বসুদ্ধ সে নাম নেবে বিষম শাসন এ! নিজের মনের মত সবাই করুক নামকরণ। বাবা ডাকুন "চন্দ্রকুমার' খুড়ো "রামচরণ'! ধার-করা নাম নেব আমি হবে না তো সিটি। জানই আমার সকল কাজে Originality। ঘরের মেয়ে তার কি সাজে সঙস্কৃত নাম। এতে কেবল বেড়ে ওঠে অভিধানের দাম। আমি বাপু ডেকে বসি যেটা মুখে আসে, যারে ডাকি সেই তা বোঝে আর সকলে হাসে! দুষ্টু মেয়ের দুষ্টুমি-- তায় কোথায় দেব দাঁড়ি! অকূল পাথার দেখে শেষে কলমের হাল ছাড়ি! শোনো বাছা, সত্যি কথা বলি তোমার কাছে-- ত্রিজগতে তেমন মেয়ে একটি কেবল আছে! বর্ণিমেটা কারো সঙ্গে মিলে পাছে যায়-- তুমুল ব্যাপার উঠবে বেধে হবে বিষম দায়! হপ্তাখানেক বকাবকি ঝগড়াঝাঁটির পালা, একটু চিঠি লিখে, শেষে প্রাণটা ঝালাফালা। আমি বাপু ভালোমানুষ মুখে নেইকো রা। ঘরের কোণে বসে বসে গোঁফে দিচ্ছি তা। আমি যত গোলে পড়ি শুনি নানান বাক্যি। খোঁড়ার পা যে খানায় পড়ে আমিই তাহার সাক্ষী। আমি কারো নাম করি নি তবু ভয়ে মরি। তুই পাছে নিস গায়ে পেতে সেইটো বড়ো ডরি! কথা একটা উঠলে মনে ভারি তোরা জ্বালাস। আমি বাপু আগে থাকতে বলে হলুম খালাস!
তুমি কি কেবল ছবি শুধু পটে লিখা। ওই যে সুদূর নীহারিকা যারা করে আছে ভিড় আকাশের নীড়; ওই যে যারা দিনরাত্রি অলো-হাতে চলিয়াছে আঁধারের যাত্রী গ্রহ তারা রবি তুমি কি তাদেরি মতো সত্য নও। হায় ছবি, তুমি শুধু ছবি। চিরচঞ্চলের মাঝে তুমি কেন শান্ত হয়ে রও। পথিকের সঙ্গ লও ওগো পথহীন। কেন রাত্রিদিন সকলের মাঝে থেকে সবা হতে আছ এত দূরে স্থিরতার চির অন্তঃপুরে। এই ধূলি ধূসর অঞ্চল তুলি বায়ুভরে ধায় দিকে দিকে; বৈশাখে সে বিধবার আভরণ খুলি তপস্বিনী ধরণীরে সাজায় গৈরিকে; অঙ্গে তার পত্রলিখা দেয় লিখে বসন্তের মিলন-উষায়, এই ধূলি এও সত্য হায়; এই তৃণ বিশ্বের চরণতলে লীন এরা যে অস্থির, তাই এরা সত্য সবি-- তুমি স্থির, তুমি ছবি, তুমি শুধু ছবি। একদিন এই পথে চলেছিলে আমাদের পাশে। বক্ষ তব দুলিত নিশ্বাসে; অঙ্গে অঙ্গে প্রাণ তব কত গানে কত নাচে রচিয়াছে আপনার ছন্দ নব নব বিশ্বতালে রেখে তাল; সে যে আজ হল কত কাল। এ জীবনে আমার ভুবনে কত সত্য ছিলে। মোর চক্ষে এ নিখিলে দিকে দিকে তুমিই লিখিলে রূপের তুলিকা ধরি রসের মুরতি। সে-প্রভাতে তুমিই তো ছিলে এ-বিশ্বের বাণী মূর্তিমতী। একসাথে পথে যেতে যেতে রজনীর আড়ালেতে তুমি গেলে থামি। তার পরে আমি কত দুঃখে সুখে রাত্রিদিন চলেছি সম্মুখে। চলেছে জোয়ার-ভাঁটা আলোকে আঁধারে আকাশ-পাথারে; পথের দুধারে চলেছে ফুলের দল নীরব চরণে বরনে বরনে; সহস্রধারায় ছোটে দুরন্ত জীবন-নির্ঝরিণী মরণের বাজায়ে কিঙ্কিণী। অজানার সুরে চলিয়াছি দূর হতে দূরে-- মেতেছি পথের প্রেমে। তুমি পথ হতে নেমে যেখানে দাঁড়ালে সেখানেই আছ থেমে। এই তৃণ, এই ধূলি-- ওই তারা, ওই শশী-রবি সবার আড়ালে তুমি ছবি, তুমি শুধু ছবি। কী প্রলাপ কহে কবি। তুমি ছবি? নহে নহে, নও শুধু ছবি। কে বলে রয়েছ স্থির রেখার বন্ধনে নিস্তব্ধ ক্রন্দনে। মরি মরি, সে আনন্দ থেমে যেত যদি এই নদী হারাত তরঙ্গবেগ, এই মেঘ মুছিয়া ফেলিত তার সোনার লিখন। তোমার চিকন চিকুরের ছায়াখানি বিশ্ব হতে যদি মিলাইত তবে একদিন কবে চঞ্চল পবনে লীলায়িত মর্মর-মুখর ছায়া মাধবী-বনের হত স্বপনের। তোমায় কি গিয়েছিনু ভুলে। তুমি যে নিয়েছ বাসা জীবনের মূলে তাই ভুল। অন্যমনে চলি পথে, ভুলি নে কি ফুল। ভুলি নে কি তারা। তবুও তাহারা প্রাণের নিশ্বাসবায়ু করে সুমধুর, ভুলের শূন্যতা-মাঝে ভরি দেয় সুর। ভুলে থাকা নয় সে তো ভোলা; বিস্মৃতির মর্মে বসি রক্তে মোর দিয়েছ যে দোলা। নয়নসম্মুখে তুমি নাই, নয়নের মাঝখানে নিয়েছ যে ঠাঁই; আজি তাই শ্যামলে শ্যামল তুমি, নীলিমায় নীল। আমার নিখিল তোমাতে পেয়েছে তার অন্তরের মিল। নাহি জানি, কেহ নাহি জানে তব সুর বাজে মোর গানে; কবির অন্তরে তুমি কবি, নও ছবি, নও ছবি, নও শুধু ছবি। তোমারে পেয়েছি কোন্ প্রাতে, তার পরে হারায়েছি রাতে। তার পরে অন্ধকারে অগোচরে তোমারেই লভি। নও ছবি, নও তুমি ছবি।