দেখিলাম খানকয়েক পুরাতন চিঠি-- স্নেহমুগ্ধ জীবনের চিহ্ন দু-চারিটি স্মৃতির খেলনা-ক'টি বহু যত্নভরে গোপনে সঞ্চয় করি রেখেছিলে ঘরে। যে প্রবল কালস্রোতে প্রলয়ের ধারা ভাসাইয়া যায় কত রবিচন্দ্রতারা, তারি কাছ হতে তুমি বহু ভয়ে ভয়ে এই ক'টি তুচ্ছ বস্তু চুরি করে লয়ে লুকায়ে রাখিয়াছিলে, বলেছিলে মনে, "অধিকার নাই কারো আমার এ ধনে'। আশ্রয় আজিকে তারা পাবে কার কাছে? জগতের কারো নয়, তবু তারা আছে। তাদের যেমন তব রেখেছিল স্নেহ, তোমারে তেমনি আজ রাখে নি কি কেহ?
আলেয়া সখী প্রতিদিন হায় এসে ফিরে যায় কে! তারে আমার মাথার একটি কুসুম দে। যদি শুধায় কে দিল, কোন্ ফুলকাননে, তোর শপথ, আমার নামটি বলিস নে। সখী প্রতিদিন হায় এসে ফিরে যায় কে! সখী, তরুর তলায় বসে সে ধুলায় যে! সেথা বকুলমালায় আসন বিছায়ে দে। সে যে করুণা জাগায় সকরুণ নয়নে-- কেন কী বলিতে চায়, না বলিয়া যায় সে। সখী প্রতিদিন হায় এসে ফিরে যায় কে!
দেহে আর মনে প্রাণে হয়ে একাকার একি অপরূপ লীলা এ অঙ্গে আমার! একি জ্যোতি, একি ব্যোম দীপ্ত দীপ-জ্বালা দিন আর রজনীর চিরনাট্যশালা! একি শ্যাম বসুন্ধরা, সমুদ্রে চঞ্চল, পর্বতে কঠিন, তরুপল্লবে কোমল, অরণ্যে আঁধার! একি বিচিত্র বিশাল অবিশ্রাম রচিতেছে সৃজনের জাল আমার ইন্দ্রিয়যন্ত্রে ইন্দ্রজালবৎ! প্রত্যেক প্রাণীর মাঝে প্রকাণ্ড জগৎ। তোমারি মিলনশয্যা, হে মোর রাজন্, ক্ষুদ্র এ আমার মাঝে অনন্ত আসন অসীম বিচিত্রকান্ত। ওগো বিশ্বভূপ, দেহে মনে প্রাণে আমি একি অপরূপ!