একটি চুম্বন দাও প্রমদা আমার জনমের মতো দেখা হবে না কো আর। মর্মভেদী অশ্রু দিয়ে, পূজিব তোমারে প্রিয়ে দুখের নিশ্বাস আমি দিব উপহার। সে তো তবু আছে ভালো, একটু আশার আলো জ্বলিতেছে অদৃষ্টের আকাশে যাহার। কিন্তু মোর আশা নাই, যে দিকে ফিরিয়া চাই সেই দিকে নিরাশার দারুণ আঁধার! ভালো যে বেসেছি তারে দোষ কী আমার? উপায় কী আছে বলো উপায় কী তার? দেখামাত্র সেই জনে, ভালোবাসা আসে মনে ভালো বাসিলেই ভুলা নাহি যায় আর! নাহি বাসিতাম যদি এত ভালো তারে অন্ধ হয়ে প্রেমে তার মজিতাম না রে যদি নাহি দেখিতাম, বিচ্ছেদ না জানিতাম তা হলে হৃদয় ভেঙে যেত না আমার! আমারে বিদায় দাও যাই গো সুন্দরী, যাই তবে হৃদয়ের প্রিয় অধীশ্বরী, থাকো তুমি থাকো সুখে, বিমল শান্তির বুকে সুখ, প্রেম, যশ, আশা থাকুক তোমার একটি চুম্বন দাও প্রমদা আমার।
ওই তোমার ওই বাঁশিখানি শুধু ক্ষণেক-তরে দাও গো আমার করে। শরৎ-প্রভাত গেল ব'য়ে, দিন যে এল ক্লান্ত হয়ে, বাঁশি-বাজা সাঙ্গ যদি কর আলস-ভরে তবে তোমার বাঁশিখানি শুধু ক্ষণেক-তরে দাও গো আমার করে। আর কিছু নয়, আমি কেবল করব নিয়ে খেলা শুধু একটি বেলা। তুলে নেব কোলের 'পরে, অধরেতে রাখব ধরে, তারে নিয়ে যেমন খুশি যেথা-সেথায় ফেলা-- এমনি করে আপন মনে করব আমি খেলা শুধু একটি বেলা। তার পরে যেই সন্ধে হবে এনে ফুলের ডালা গেঁথে তুলব মালা। সাজাব তায় যূথীর হারে, গন্ধে ভরে দেব তারে, করব আমি আরতি তার নিয়ে দীপের থালা। সন্ধে হলে সাজাব তায় ভরে ফুলের ডালা গেঁথে যূথীর মালা। রাতে উঠবে আধেক শশী তারার মধ্যখানে, চাবে তোমার পানে। তখন আমি কাছে আসি ফিরিয়ে দেব তোমার বাঁশি, তুমি তখন বাজাবে সুর গভীর রাতের তানে-- রাতে যখন আধেক শশী তারার মধ্যখানে চাবে তোমার পানে।