হে সকল ঈশ্বরের পরম ঈশ্বর, তপোবনতরুচ্ছায়ে মেঘমন্দ্রস্বর ঘোষণা করিয়াছিল সবার উপরে অগ্নিতে, জলেতে, এই বিশ্বচরাচরে, বনস্পতি ওষধিতে এক দেবতার অখন্ড অক্ষয় ঐক্য। সে বাক্য উদার এই ভারতেরি। যাঁরা সবল স্বাধীন নির্ভয় সরলপ্রাণ, বন্ধনবিহীন সদর্পে ফিরিয়াছেন বীর্যজ্যোতিষ্মান লঙ্ঘিয়া অরণ্য নদী পর্বত পাষাণ তাঁরা এক মহান বিপুল সত্য-পথে তোমারে লভিয়াছেন নিখিল জগতে। কোনোখানে না মানিয়া আত্মার নিষেধ সবলে সমস্ত বিশ্ব করেছেন ভেদ।
আমাদের এই নদীর কূলে নাইকো স্নানের ঘাট, ধূধূ করে মাঠ। ভাঙা পাড়ির গায়ে শুধু শালিখ লাখে লাখে খোপের মধ্যে থাকে। সকালবেলা অরুণ আলো পড়ে জলের 'পরে, নৌকা চলে দু-একখানি অলস বায়ু-ভরে। আঘাটাতে বসে রইলে, বেলা যাচ্ছে বয়ে-- দাও গো মোরে কয়ে ভাঙন-ধরা কূলে তোমার আর কিছু কি চাই? সে কহিল,ভাই, না ই, না ই, নাই গো আমার কিছুতে কাজ নাই। আমাদের এ নদীর কূলে ভাঙা পাড়ির তল, ধেনু খায় না জল। দূর গ্রামের দু-একটি ছাগ বেড়ায় চরি চরি সারা দিবস ধরি। জলের 'পরে বেঁকে-পড়া খেজুর-শাখা হতে ক্ষণে ক্ষণে মাছরাঙাটি ঝাঁপিয়ে পড়ে স্রোতে। ঘাসের 'পরে অশথতলে যাচ্ছে বেলা বয়ে-- দাও আমারে কয়ে আজকে এমন বিজন প্রাতে আর কারে কি চাই? সে কহিল, ভাই, না ই, না ই, নাই গো আমার কারেও কাজ নাই।