আলোকে আসিয়া এরা লীলা করে যায়, আঁধারেতে চলে যায় বাহিরে। ভাবে মনে, বৃথা এই আসা আর যাওয়া, অর্থ কিছুই এর নাহি রে। কেন আসি, কেন হাসি, কেন আঁখিজলে ভাসি, কার কথা বলে যাই, কার গান গাহি রে-- অর্থ কিছুই তার নাহি রে। ওরে মন, আয় তুই সাজ ফেলে আয়, মিছে কী করিস নাট-বেদীতে। বুঝিতে চাহিস যদি বাহিরেতে আয়, খেলা ছেড়ে আয় খেলা দেখিতে। ওই দেখ্ নাটশালা পরিয়াছে দীপমালা, সকল রহস্য তুই চাস যদি ভেদিতে নিজে না ফিরিলে নাট-বেদীতে। নেমে এসে দূরে এসে দাঁড়াবি যখন-- দেখিবি কেবল, নাহি খুঁজিবি, এই হাসি-রোদনের মহানাটকের অর্থ তখন কিছু বুঝিবি। একের সহিত একে মিলাইয়া নিবি দেখে, বুঝে নিবি, বিধাতার সাথে নাহি যুঝিবি-- দেখিবি কেবল, নাহি খুঁজিবি।
হে ধরণী, জীবের জননী, শুনেছি যে মা তোমায় বলে, তবে কেন তোর কোলে সবে কেঁদে আসে, কেঁদে যায় চলে। তবে কেন তোর কোলে এসে সন্তানের মেটে না পিয়াসা। কেন চায়, কেন কাঁদে সবে, কেন কেঁদে পায় না ভালোবাসা। কেন হেথা পাষাণ-পরান, কেন সবে নীরস নিষ্ঠুর, কেঁদে কেঁদে দুয়ারে যে আসে কেন তারে করে দেয় দূর। কাঁদিয়া যে ফিরে চলে যায় তার তরে কাঁদিস নে কেহ, এই কি মা, জননীর প্রাণ, এই কি মা, জননীর স্নেহ!