যারে সে বেসেছে ভালো তারে সে কাঁদায়। নূতন ধাঁধায় ক্ষণে ক্ষণে চমকিয়া দেয় তারে, কেবলই আলো-আঁধারে সংশয় বাধায়; ছল-করা অভিমানে বৃথা সে সাধায়। সে কি শরতের মায়া উড়ো মেঘে নিয়ে আসে বৃষ্টিভরা ছায়া। অনুকূল চাহনির তলে কী বিদ্যুৎ ঝলে। কেন দয়িতের মিনতিকে অভাবিত উচ্চ হাস্যে উড়াইয়া দেয় দিকে দিকে। তার পরে আপনার নির্দয় লীলায় আপনি সে ব্যথা পায়, ফিরে যে গিয়েছে তারে ফিরায়ে ডাকিতে কাঁদে প্রাণ; আপনার অভিমানে করে খানখান। কেন তার চিত্তাকাশে সারা বেলা পাগল হাওয়ার এই এলোমেলো খেলা। আপনি সে পারে না বুঝিতে যেদিকে চলিতে চায় কেন তার চলে বিপরীতে। গভীর অন্তরে যেন আপনার অগোচরে আপনার সাথে তার কী আছে বিরোধ, অন্যেরে আঘাত করে আত্মঘাতী ক্রোধ; মুহূর্তেই বিগলিত করুণায় অপমানিতের পায় প্রাণমন দেয় ঢালি-- নাম কি হেঁয়ালী।
বাণীর মুরতি গড়ি একমনে নির্জন প্রাঙ্গণে পিণ্ড পিণ্ড মাটি তার যায় ছড়াছড়ি, অসমাপ্ত মূক শূন্যে চেয়ে থাকে নিরুৎসুক। গর্বিত মূর্তির পদানত মাথা ক'রে থাকে নিচু, কেন আছে উত্তর না দিতে পারে কিছু। বহুগুণে শোচনীয় হায় তার চেয়ে এক কালে যাহা রূপ পেয়ে কালে কালে অর্থহীনতায় ক্রমশ মিলায়। নিমন্ত্রণ ছিল কোথা, শুধাইলে তারে উত্তর কিছু না দিতে পারে-- কোন্ স্বপ্ন বাঁধিবারে বহিয়া ধূলির ঋণ দেখা দিল মানবের দ্বারে। বিস্মৃত স্বর্গের কোন্ উর্বশীর ছবি ধরণীর চিত্তপটে বাঁধিতে চাহিয়াছিল কবি, তোমারে বাহনরূপে ডেকেছিল, চিত্রশালে যত্নে রেখেছিল, কখন সে অন্যমনে গেছে ভুলি-- আদিম আত্মীয় তব ধূলি, অসীম বৈরাগ্যে তার দিক্বিহীন পথে তুলি নিল বাণীহীন রথে। এই ভালো, বিশ্বব্যাপী ধূসর সম্মানে আজ পঙ্গু আবর্জনা নিয়ত গঞ্জনা কালের চরণক্ষেপে পদে পদে বাধা দিতে জানে, পদাঘাতে পদাঘাতে জীর্ণ অপমানে শান্তি পায় শেষে আবার ধূলিতে যবে মেশে।