শত শত লোক চলে শত শত পথে। তারি মাঝে কোথা কোন্ রথে সে আসিছে যার আজি নব অভ্যুদয়। দিক্লক্ষ্মী গাহিল না জয়; আজও রাজটিকা ললাটে হল না তার লিখা। নাই অস্ত্র, নাই সৈন্যদল, অস্ফুট তাহার বাণী, কণ্ঠে নাহি বল। সে কি নিজে জানে আসিছে সে কী লাগিয়া, আসে কোন্খানে! যুগের প্রচ্ছন্ন আশা করিছে রচনা তার অভ্যর্থনা কোন্ ভবিষ্যতে-- কোন্ অলক্ষিত পথে আসিতেছে অর্ঘ্যভার! আকাশে ধ্বনিছে বারম্বার-- "মুখ তোলো, আবরণ খোলো হে বিজয়ী, হে নির্ভীক, হে মহাপথিক-- তোমার চরণক্ষেপ পথে পথে দিকে দিকে মুক্তির সংকেতচিহ্ন যাক লিখে লিখে।'
সোনায় রাঙায় মাখামাখি, রঙের বাঁধন কে দেয় রাখি পথিক রবির স্বপন ঘিরে। পেরোয় যখন তিমিরনদী তখন সে রঙ মিলায় যদি প্রভাতে পায় আবার ফিরে। অস্ত-উদয়-রথে-রথে যাওয়া-আসার পথে পথে দেয় সে আপন আলো ঢালি। পায় সে ফিরে মেঘের কোণে, পায় ফাগুনের পারুলবনে প্রতিদানের রঙের ডালি।