হাস্যদমনকারী গুরু-- নাম যে বশীশ্বর, কোথা থেকে জুটল তাহার ছাত্র হসীশ্বর। হাসিটা তার অপর্যাপ্ত, তরঙ্গে তার বাতাস ব্যাপ্ত, পরীক্ষাতে মার্কা যে তাই কাটেন মসীশ্বর। ডাকি সরস্বতী মাকে,-- 'ত্রাণ করো এই ছেলেটাকে, মাস্টারিতে ভর্তি করো হাস্যরসীশ্বর।'
যারে সে বেসেছে ভালো তারে সে কাঁদায়। নূতন ধাঁধায় ক্ষণে ক্ষণে চমকিয়া দেয় তারে, কেবলই আলো-আঁধারে সংশয় বাধায়; ছল-করা অভিমানে বৃথা সে সাধায়। সে কি শরতের মায়া উড়ো মেঘে নিয়ে আসে বৃষ্টিভরা ছায়া। অনুকূল চাহনির তলে কী বিদ্যুৎ ঝলে। কেন দয়িতের মিনতিকে অভাবিত উচ্চ হাস্যে উড়াইয়া দেয় দিকে দিকে। তার পরে আপনার নির্দয় লীলায় আপনি সে ব্যথা পায়, ফিরে যে গিয়েছে তারে ফিরায়ে ডাকিতে কাঁদে প্রাণ; আপনার অভিমানে করে খানখান। কেন তার চিত্তাকাশে সারা বেলা পাগল হাওয়ার এই এলোমেলো খেলা। আপনি সে পারে না বুঝিতে যেদিকে চলিতে চায় কেন তার চলে বিপরীতে। গভীর অন্তরে যেন আপনার অগোচরে আপনার সাথে তার কী আছে বিরোধ, অন্যেরে আঘাত করে আত্মঘাতী ক্রোধ; মুহূর্তেই বিগলিত করুণায় অপমানিতের পায় প্রাণমন দেয় ঢালি-- নাম কি হেঁয়ালী।
তুমি যত ভার দিয়েছ সে ভার করিয়া দিয়েছ সোজা, আমি যত ভার জমিয়ে তুলেছি সকলি হয়েছে বোঝা। এ বোঝা আমার নামাও বন্ধু, নামাও-- ভারের বেগেতে চলেছি, আমার এ যাত্রা তুমি থামাও। যে তোমার ভার বহে কভু তার সে ভারে ঢাকে না আঁখি, পথে বাহিরিলে জগৎ তারে তো দেয় না কিছুই ফাঁকি। অবারিত আলো ধরে আসি তার হাতে-- বনে পাখি গায়, নদীধারা ধায়, চলে সে সবার সাথে। তুমি কাজ দিলে কাজেরই সঙ্গে দাও যে অসীম ছুটি, তোমার আদেশ আবরণ হয়ে আকাশ লয় না লুটি। বাসনায় মোরা বিশ্বজগৎ ঢাকি-- তোমা-পানে চেয়ে যত করি ভোগ তত আরো থাকে বাকি। আপনি যে দুখ ডেকে আনি সে যে জ্বালায় বজ্রানলে-- অঙ্গার করে রেখে যায়, সেথা কোনো ফল নাহি ফলে। তুমি যাহা দাও সে যে দুঃখের দান, শ্রাবণধারায় বেদনার রসে সার্থক করে প্রাণ। যেখানে যা-কিছু পেয়েছি কেবলি সকলি করেছি জমা-- যে দেখে সে আজ মাগে যে হিসাব, কেহ নাহি করে ক্ষমা। এ বোঝা আমার নামাও বন্ধু, নামাও। ভারের বেগেতে ঠেলিয়া চলেছে, এ যাত্রা মোর থামাও।