হে রাজেন্দ্র,তব হাতে কাল অন্তহীন। গণনা কেহ না করে, রাত্রি আর দিন আসে যায়, ফুটে ঝরে যুগযুগন্তরা। বিলম্ব নাহিক তব, নাহি তব ত্বরা-- প্রতীক্ষা করিতে জান। শতবর্ষ ধ'রে একটি পুষ্পের কলি ফুটাবার তরে চলে তব ধীর আয়োজন। কাল নাই আমাদের হাতে; কাড়াকাড়ি করে তাই সবে মিলে; দেরি কারো নাহি সহে কভু। আগে তাই সকলের সব সেবা, প্রভু, শেষ করে দিতে দিতে কেটে যায় কাল-- শূন্য পড়ে থাকে হায় তব পূজা-থাল। অসময়ে ছুটে আসি, মনে বাসি ভয়-- এসে দেখি, যায় নাই তোমার সময়।
পথ চেয়ে তো কাটল নিশি, লাগছে মনে ভয়-- সকালবেলা ঘুমিয়ে পড়ি যদি এমন হয়। যদি তখন হঠাৎ এসে দাঁড়ায় আমার দুয়ার-দেশে। বনচ্ছায়ায় ঘেরা এ ঘর আছে তো তার জানা-- ওগো, তোরা পথ ছেড়ে দিস, করিস নে কেউ মানা। যদি-বা তার পায়ের শব্দে ঘুম না ভাঙে মোর, শপথ আমার, তোরা কেহ ভাঙাস নে সে ঘোর। চাই নে জাগতে পাখির রবে নতুন আলোর মহোৎসবে, চাই নে জাগতে হাওয়ায় আকুল বকুল ফুলের বাসে-- তোরা আমায় ঘুমোতে দিস যদিই-বা সে আসে। ওগো, আমার ঘুম যে ভালো গভীর অচেতনে-- যদি আমায় জাগায় তারি আপন পরশনে। ঘুমের আবেশ যেমনি টুটি দেখব তারি নয়নদুটি মুখে আমার তারি হাসি পড়বে সকৌতুকে-- সে যেন মোর সুখের স্বপন দাঁড়াবে সম্মুখে। সে আসবে মোর চোখের 'পরে সকল আলোর আগে, তাহারি রূপ মোর প্রভাতের প্রথম হয়ে জাগে। প্রথম চমক লাগবে সুখে চেয়ে তারি করুণ মুখে, চিত্ত আমার উঠবে কেঁপে তার চেতনায় ভ'রে-- তোরা আমায় জাগাস নে কেউ, জাগাবে সেই মোরে।
ক্ষান্তবুড়ির দিদিশাশুড়ির পাঁচ বোন থাকে কাল্নায়, শাড়িগুলো তারা উনুনে বিছায়, হাঁড়িগুলো রাখে আল্নায়। কোনো দোষ পাছে ধরে নিন্দুকে নিজে থাকে তারা লোহাসিন্দুকে, টাকাকড়িগুলো হাওয়া খাবে ব'লে রেখে দেয় খোলা জাল্নায়-- নুন দিয়ে তারা ছাঁচিপান সাজে, চুন দেয় তারা ডাল্নায়।