শুধু তোমার বাণী নয় গো হে বন্ধু, হে প্রিয়, মাঝে মাঝে প্রাণে তোমার পরশখানি দিয়ো। সারা পথের ক্লান্তি আমার সারা দিনের তৃষা কেমন করে মেটাব যে খুঁজে না পাই দিশা। এ আঁধার যে পূর্ণ তোমায় সেই কথা বলিয়ো। মাঝে মাঝে প্রাণে তোমার পরশখানি দিয়ো। হৃদয় আমার চায় যে দিতে, কেবল নিতে নয়, ব'য়ে ব'য়ে বেড়ায় সে তার যা-কিছু সঞ্চয়। হাতখানি ওই বাড়িয়ে আনো, দাও গো আমার হাতে, ধরব তারে, ভরব তারে, রাখব তারে সাথে-- একলা পথের চলা আমার করব রমণীয়। মাঝে মাঝে প্রাণে তোমার পরশখানি দিয়ো।
দেয়ালের ঘেরে যারা গৃহকে করেছে কারা, ঘর হতে আঙিনা বিদেশ, গুরুভজা বাঁধা বুলি যাদের পরায় ঠুলি, মেনে চলে ব্যর্থ নিদেশ, যাহা কিছু আজগুবি বিশ্বাস করে খুবই, সত্য যাদের কাছে হেঁয়ালি, সামান্য ছুতোনাতা সকলই পাথরে গাঁথা, তাহাদেরই বলা চলে দেয়ালি। আলো যার মিট্মিটে, স্বভাবটা খিট্খিটে, বড়োকে করিতে চায় ছোটো, সব ছবি ভুষো মেজে কালো ক'রে নিজেকে যে মনে করে ওস্তাদ পোটো, বিধাতার অভিশাপে ঘুরে মরে ঝোপে-ঝাপে স্বভাবটা যার বদখেয়ালি, খ্যাঁক্ খ্যাঁক্ করে মিছে, সব-তাতে দাঁত খিঁচে, তারে নাম দিব খ্যাঁক্শেয়ালি। দিনখাটুনির শেষে বৈকালে ঘরে এসে আরাম-কেদারা যদি মেলে-- গল্পটি মনগড়া, কিছু বা কবিতা পড়া, সময়টা যায় হেসে খেলে-- দিয়ে জুঁই বেল জবা সাজানো সুহৃদসভা, আলাপ-প্রলাপ চলে দেদারই-- ঠিক সুরে তার বাঁধা, মূলতানে তান সাধা, নাম দিতে পারি তবে কেদারি।
ক্ষান্তবুড়ির দিদিশাশুড়ির পাঁচ বোন থাকে কাল্নায়, শাড়িগুলো তারা উনুনে বিছায়, হাঁড়িগুলো রাখে আল্নায়। কোনো দোষ পাছে ধরে নিন্দুকে নিজে থাকে তারা লোহাসিন্দুকে, টাকাকড়িগুলো হাওয়া খাবে ব'লে রেখে দেয় খোলা জাল্নায়-- নুন দিয়ে তারা ছাঁচিপান সাজে, চুন দেয় তারা ডাল্নায়।