আমাদের এই নদীর কূলে নাইকো স্নানের ঘাট, ধূধূ করে মাঠ। ভাঙা পাড়ির গায়ে শুধু শালিখ লাখে লাখে খোপের মধ্যে থাকে। সকালবেলা অরুণ আলো পড়ে জলের 'পরে, নৌকা চলে দু-একখানি অলস বায়ু-ভরে। আঘাটাতে বসে রইলে, বেলা যাচ্ছে বয়ে-- দাও গো মোরে কয়ে ভাঙন-ধরা কূলে তোমার আর কিছু কি চাই? সে কহিল,ভাই, না ই, না ই, নাই গো আমার কিছুতে কাজ নাই। আমাদের এ নদীর কূলে ভাঙা পাড়ির তল, ধেনু খায় না জল। দূর গ্রামের দু-একটি ছাগ বেড়ায় চরি চরি সারা দিবস ধরি। জলের 'পরে বেঁকে-পড়া খেজুর-শাখা হতে ক্ষণে ক্ষণে মাছরাঙাটি ঝাঁপিয়ে পড়ে স্রোতে। ঘাসের 'পরে অশথতলে যাচ্ছে বেলা বয়ে-- দাও আমারে কয়ে আজকে এমন বিজন প্রাতে আর কারে কি চাই? সে কহিল, ভাই, না ই, না ই, নাই গো আমার কারেও কাজ নাই।
বহিয়া হালকা বোঝা চলে যায় দিন তার অবকাশ দেয় না সে কোনো দুশ্চিন্তার! সম্বল কম বটে, আছে বটে ঋণ দায়-- অনুরাগ নেই তবু ভাগ্যের নিন্দায়। পাড়া-প্রতিবেশীদের কটুতম ভাষ্যে নীরব জবাব তার স্মিত ঔদাস্যে জন্ম নেবার কালে পেয়েছিল যৌতুক ভাঙাচোরা জীবনের বিদ্রূপে-- কৌতুক।