দুঃসহ দুঃখের বেড়াজালে মানবেরে দেখি যবে নিরুপায়, ভাবিয়া না পাই মনে, সান্ত্বনা কোথায় আছে তার। আপনারি মূঢ়তায়, আপনারি রিপুর প্রশ্রয়ে এ দুঃখের মূল জানি; সে জানায় আশ্বাস না পাই। এ কথা যখন জানি, মানবচিত্তের সাধনায় গূঢ় আছে যে সত্যের রূপ সেই সত্য সুখ দুঃখ সবের অতীত তখন বুঝিতে পারি, আপন আত্মায় যারা ফলবান করে তারে তারাই চরম লক্ষ্য মানবসৃষ্টির; একমাত্র তারা আছে, আর কেহ নাই; আর যারা সবে মায়ার প্রবাহে তারা ছায়ার মতন-- দুঃখ তাহাদের সত্য নহে, সুখ তাহাদের বিড়ম্বনা, তাহাদের ক্ষতব্যথা দারুণ আকৃতি ধ'রে প্রতি ক্ষণে লুপ্ত হয়ে যায়, ইতিহাসে চিহ্ন নাহি রাখে।
আমার ভাঙা পথের রাঙা ধুলায় পড়েছে কার পায়ের চিহ্ন। তারি গলার মালা হতে পাপড়ি হেথায় লুটায় ছিন্ন। এল যখন সাড়াটি নাই, গেল চলে জানাল তাই, এমন করে আমারে হায় কে বা কাঁদায় সে জন ভিন্ন। তখন তরুণ ছিল অরুণ-আলো, পথটি ছিল কুসুমকীর্ণ। বসন্ত যে রঙীন বেশে ধরায় সেদিন অবতীর্ণ। সেদিন খবর মিলল না যে, রইনু বসে ঘরের মাঝে, আজকে পথে বাহির হব বহি আমার জীবন জীর্ণ।