রাজার মতো বেশে তুমি সাজাও যে শিশুরে পরাও যারে মণিরতন-হার-- খেলাধুলা আনন্দ তার সকলি যায় ঘুরে, বসন-ভুষণ হয় যে বিষম ভার। ছেঁড়ে পাছে আঘাত লাগি, পাছে ধুলায় হয় সে দাগি, আপনাকে তাই সরিয়ে রাখে সবার হতে দূরে, চলতে গেলে ভাবনা ধরে তার-- রাজার মতো বেশে তুমি সাজাও যে শিশুরে, পরাও যারে মণিরতন-হার। কী হবে মা অমনতরো রাজার মতো সাজে, কী হবে ওই মণিরতন-হারে। দুয়ার খুলে দাও যদি তো ছুটি পথের মাঝে রৌদ্রবায়ু-ধুলাকাদার পাড়ে। যেথায় বিশ্বজনের মেলা সমস্ত দিন নানান খেলা, চারি দিকে বিরাট গাথা বাজে হাজার সুরে, সেথায় সে যে পায় না অধিকার, রাজার মতো বেশে তুমি সাজাও যে শিশুরে, পরাও যারে মণিরতন-হার।
আমার সকল অঙ্গে তোমার পরশ লগ্ন হয়ে রহিয়াছে রজনী-দিবস প্রাণেশ্বর, এই কথা নিত্য মনে আনি রাখিব পবিত্র করি মোর তনুখানি। মনে তুমি বিরাজিছ, হে পরম জ্ঞান, এই কথা সদা স্মরি মোর সর্বধ্যান সর্বচিন্তা হতে আমি সর্বচেষ্টা করি সর্বমিথ্যা রাখি দিব দূরে পরিহরি। হৃদয়ে রয়েছে তব অচল আসন এই কথা মনে রেখে করিব শাসন সকল কুটিল দ্বেষ, সর্ব অমঙ্গল-- প্রেমেরে রাখিব করি প্রস্ফুট নির্মল। সর্ব কর্মে তব শক্তি এই জেনে সার করিব সকল কর্মে তোমারে প্রচার।