বেঁচেছিল, হেসে হেসে খেলা করে বেড়াত সে-- হে প্রকৃতি, তারে নিয়ে কী হল তোমার! শত রঙ-করা পাখি, তোর কাছে ছিল না কি-- কত তারা, বন, সিন্ধু, আকাশ অপার! জননীর কোল হতে কেন তবে কেড়ে নিলি! লুকায়ে ধরার কোলে ফুল দিয়ে ঢেকে দিলি! শত-তারা-পুষ্প-ময়ী মহতী প্রকৃতি অয়ি, নাহয় একটি শিশু নিলি চুরি ক'রে-- অসীম ঐশ্বর্য তব তাহে কি বাড়িল নব? নূতন আনন্দকণা মিলিল কি ওরে? অথচ তোমারি মতো বিশাল মায়ের হিয়া সব শূন্য হয়ে গেল একটি সে শিশু গিয়া।
ঝড়ে যায় উড়ে যায় গো আমার মুখের আঁচলখানি। ঢাকা থাকে না হায় গো, তারে রাখতে নারি টানি। আমার রইল না লাজলজ্জা, আমার ঘুচল গো সাজসজ্জা তুমি দেখলে আমারে এমন প্রলয়মাঝে আনি, আমায় এমন মরণ হানি। হঠাৎ আকাশ উজলি' কারে খুঁজে কে ওই চলে। চমক লাগায় বিজলি আমার আঁধার ঘরের তলে। তবে নিশীথ-গগন জুড়ে আমার যাক সকলি উড়ে, এই দারুণ কল্লোলে বাজুক আমার প্রাণের বাণী কোনো বাঁধন নাহি মানি।