জানি নাই গো সাধন তোমার বলে কারে। আমি ধুলায় বসে খেলেছি এই তোমার দ্বারে। অবোধ আমি ছিলেম বলে যেমন খুশি এলেম চলে ভয় করি নি তোমায় আমি অন্ধকারে। তোমার জ্ঞানী আমায় বলে কঠিন তিরস্কারে "পথ দিয়ে তুই আসিস নি যে ফিরে যা রে।" ফেরার পন্থা বন্ধ ক'রে আপনি বাঁধো বাহুর ডোরে, ওরা আমায় মিথ্যা ডাকে বারে বারে।
নন্দগোপাল বুক ফুলিয়ে এসে বললে আমায় হেসে, "আমার সঙ্গে লড়াই ক'রে কখ্খনো কি পার, বারে বারেই হার।' আমি বললেম, "তাই বৈকি! মিথ্যে তোমার বড়াই, হোক দেখি তো লড়াই।' "আচ্ছা তবে দেখাই তোমায়' এই ব'লে সে যেমনি টানলে হাত দাদামশাই তখ্খনি চিৎপাত। সবাইকে সে আনলে ডেকে, চেঁচিয়ে নন্দ করলে বাড়ি মাত। বারে বারে শুধায় আমায়, "বলো তোমার হার হয়েছে না কি।' আমি কইলেম, "বলতে হবে তা কি।' ধুলোর যখন নিলেম শরণ প্রমাণ তখন রইল কি আর বাকি। এই কথা কি জান -- আমার কাছে নন্দগোপাল যখন হার মান আমারি সেই হার, লজ্জা সে আমার। ধুলোয় যেদিন পড়ব যেন এই জানি নিশ্চিত, তোমারি শেষ জিত।'
যে মিলনে সংসারের সুখদুঃখ সহস্র ধারায় আনন্দসমুদ্র মাঝে দ্বন্দ্ব ভুলে আপনা হারায়, সে মিলন পূর্ণ হোক তোমাদের যুগল জীবনে লহো এই আশীর্বাদ তব শুভদৃষ্টির লগনে।