বহিয়া হালকা বোঝা চলে যায় দিন তার অবকাশ দেয় না সে কোনো দুশ্চিন্তার! সম্বল কম বটে, আছে বটে ঋণ দায়-- অনুরাগ নেই তবু ভাগ্যের নিন্দায়। পাড়া-প্রতিবেশীদের কটুতম ভাষ্যে নীরব জবাব তার স্মিত ঔদাস্যে জন্ম নেবার কালে পেয়েছিল যৌতুক ভাঙাচোরা জীবনের বিদ্রূপে-- কৌতুক।
বৈকালবেলা ফসল-ফুরানো শূন্য খেতে বৈশাখে যবে কৃপণ ধরণী রয়েছে তেতে, ছেড়ে তার বন জানি নে কখন কী ভুল ভুলি শুষ্ক ধূলির ধূসর দৈন্যে এসেছিল বুল্বুলি। সকালবেলার স্মৃতিখানি মনে বহিয়া বুঝি তরুণ দিনের ভরা আতিথ্য বেড়ালো খুঁজি। অরুণে শ্যামলে উজ্জ্বল সেই পূর্ণতারে মিথ্যা ভাবিয়া ফিরে যাবে সে কি রাতের অন্ধকারে। তবুও তো গান করে গেল দান কিছু না পেয়ে। সংশয়-মাঝে কী শুনায়ে গেল কাহারে চেয়ে। যাহা গেছে সরে কোনো রূপ ধ'রে রয়েছে বাকি, এই সংবাদ বুঝি মনে মনে জানিতে পেরেছে পাখি। প্রভাতবেলার যে ঐশ্বর্য রাখে নি কণা, এসেছিল সে যে, হারায় না কভু সে সান্ত্বনা। সত্য যা পাই ক্ষণেকের তরে ক্ষণিক নহে। সকালের পাখি বিকালের গানে এ আনন্দই বহে।