সতীলোকে বসি আছে কত পতিব্রতা, পুরাণে উজ্জ্বল আছে যাঁহাদের কথা। আরো আছে শত লক্ষ অজ্ঞাতনামিনী খ্যাতিহীনা কীর্তিহীনা কত-না কামিনী-- কেহ ছিল রাজসৌধে কেহ পর্ণঘরে, কেহ ছিল সোহাগিনী কেহ অনাদরে; শুধু প্রীতি ঢালি দিয়া মুছি লয়ে নাম চলিয়া এসেছে তারা ছাড়ি মর্তধাম। তারি মাঝে বসি আছে পতিতা রমণী মর্তে কলঙ্কিনী, স্বর্গে সতীশিরোমণি। হেরি তারে সতীগর্বে গরবিনী যত সাধ্বীগণ লাজে শির করে অবনত। তুমি কী জানিবে বার্তা, অন্তর্যামী যিনি তিনিই জানেন তার সতীত্বকাহিনী।
প্রভুগৃহ হতে আসিলে যেদিন বীরের দল সেদিন কোথায় ছিল যে লুকানো বিপুল বল। কোথায় বর্ম, অস্ত্র কোথায়, ক্ষীণ দরিদ্র অতি অসহায়, চারি দিক হতে এসেছে আঘাত অনর্গল, প্রভুগৃহ হতে আসিলে যেদিন বীরের দল। প্রভুগৃহমাঝে ফিরিলে যেদিন বীরের দল সেদিন কোথায় লুকাল আবার বিপুল বল। ধনুশর অসি কোথা গেল খসি, শান্তির হাসি উঠিল বিকশি; চলে গেলে রাখি সারা জীবনের সকল ফল, প্রভুগৃহমাঝে ফিরিলে যেদিন বীরের দল।
যে চৈতন্যজ্যোতি প্রদীপ্ত রয়েছে মোর অন্তরগগনে নহে আকস্মিক বন্দী প্রাণের সংকীর্ণ সীমানায়, আদি যার শূন্যময়, অন্তে যার মৃত্যু নিরর্থক, মাঝখানে কিছুক্ষণ যাহা-কিছু আছে তার অর্থ যাহা করে উদ্ভাসিত। এ চৈতন্য বিরাজিত আকাশে আকাশে আনন্দ-অমৃতরূপে-- আজি প্রভাতের জাগরণে এ বাণী উঠিল বাজি মর্মে মর্মে মোর, এ বাণী গাঁথিয়া চলে সূর্য গ্রহ তারা অস্খলিত ছন্দসূত্রে অনিঃশেষ সৃষ্টির উৎসবে।