বল তো এই বারের মতো, প্রভু, তোমার আঙিনাতে তুলি আমার ফসল যত। কিছু বা ফল গেছে ঝরে, কিছু বা ফল আছে ধরে, বছর হয়ে এল গত। রোদের দিনে ছায়ায় বসে বাজায় বাঁশি রাখাল যত। হুকুম তুমি কর যদি চৈত্র-হাওয়ায় পাল তুলে দিই, ওই যে মেতে ওঠে নদী। পার করে নিই ভরা তরী, মাঠের যা কাজ সারা করি ঘরের কাজে হই গো রত। এবার আমার মাথার বোঝা পায়ে তোমার করি নত।
বয়স বিংশতি হবে, শীর্ণ তনু তার বহু বরষের রোগে অস্থিচর্মসার। হেরি তার উদাসীন হাসিহীন মুখ মনে হয় সংসারে লেশমাত্র সুখ পারে না সে কোনোমতে করিতে শোষণ দিয়ে তার সর্বদেহ সর্বপ্রাণমন। স্বল্পপ্রাণ শীর্ণ দীর্ঘ জীর্ণ দেহভার শিশুসম কক্ষে বহি জননী তাহার আশাহীন দৃঢ়ধৈর্য মৌনম্লানমুখে প্রতিদিন লয়ে আসে পথের সম্মুখে। আসে যায় রেলগাড়ি, ধায় লোকজন-- সে চাঞ্চল্যে মুমূর্ষুর অনাসক্ত মন যদি কিছু ফিরে চায় জগতের পানে, এইটুকু আশা ধরি মা তাহারে আনে।