বাগানে ওই দুটো গাছে ফুল ফুটেছে কত যে, ফুলের গন্ধে মনে পড়ে ছিল ফুলের মতো যে। ফুল যে দিত ফুলের সঙ্গে আপন সুধা মাখায়ে, সকাল হত সকাল বেলায় যাহার পানে তাকায়ে, সেই আমাদের ঘরের মেয়ে সে গেছে আজ প্রবাসে, নিয়ে গেছে এখান থেকে সকাল বেলার শোভা সে। একটুখানি মেয়ে আমার কত যুগের পুণ্য যে, একটুখানি সরে গেছে কতখানিই শূন্য যে। বিষ্টি পড়ে টুপুর টুপুর, মেঘ করেছে আকাশে, উষার রাঙা মুখখানি আজ কেমন যেন ফ্যাকাশে। বাড়িতে যে কেউ কোথা নেই, দুয়োরগুলো ভেজানো, ঘরে ঘরে খুঁজে বেড়াই ঘরে আছে কে যেন। ময়নাটি ওই চুপটি করে ঝিমোচ্ছে সেই খাঁচাতে, ভুলে গেছে নেচে নেচে পুচ্ছটি তার নাচাতে। ঘরের-কোণে আপন-মনে শূন্য প'ড়ে বিছানা, কার তরে সে কেঁদে মরে -- সে কল্পনা মিছা না। বইগুলো সব ছড়িয়ে আছে, নাম লেখা তায় কার গো। এম্নি তারা রবে কি হায়, খুলবে না কেউ আর গো। এটা আছে সেটা আছে অভাব কিছু নেই তো -- স্মরণ করে দেয় রে যারে থাকে নাকো সেই তো।
অনিঃশেষ প্রাণ অনিঃশেষ মরণের স্রোতে ভাসমান, পদে পদে সংকটে সংকটে নামহীন সমুদ্রের উদ্দেশবিহীন কোন্ তটে পৌঁছিবারে অবিশ্রাম বাহিতেছে খেয়া, কোন্ সে অলক্ষ্য পাড়ি-দেয়া মর্মে বসি দিতেছে আদেশ, নাহি তার শেষ। চলিতেছে লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি প্রাণী, এই শুধু জানি। চলিতে চলিতে থামে, পণ্য তার দিয়ে যায় কাকে, পশ্চাতে যে রহে নিতে ক্ষণপরে সেও নাহি থাকে। মৃত্যুর কবলে লুপ্ত নিরন্তর ফাঁকি-- তবু সে ফাঁকির নয়, ফুরাতে ফুরাতে রহে বাকি; পদে পদে আপনারে শেষ করি দিয়া পদে পদে তবু রহে জিয়া। অস্তিত্বের মহৈর্শ্বয শতছিদ্র ঘটতলে ভরা-- অফুরান লাভ তার অফুরান ক্ষতিপথে ঝরা; অবিশ্রাম অপচয়ে সঞ্চয়ের আলস্য ঘুচায়, শক্তি তাহে পায়। চলমান রূপহীন যে বিরাট, সেই মহাক্ষণে আছে তবু ক্ষণে ক্ষণে নেই। স্বরূপ যাহার থাকা আর নাই থাকা, খোলা আর ঢাকা, কী নামে ডাকিব তারে অস্তিত্বপ্রবাহে-- মোর নাম দেখা দিয়ে মিলে যাবে যাহে।